অনলাইন ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ
দিল্লিতে বসে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাংবাদিকদের সামনে বক্তব্য দেওয়ার ঘটনায় সরকারের ভূমিকার কঠোর সমালোচনা করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম।
তিনি বলেছেন, শেখ হাসিনার দিল্লির ব্রিফিং নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শুধু একটি প্রেস রিলিজ দিয়ে নিজেদের কৃতিত্ব দেখানোর চেষ্টা করছে। তার ভাষায়, এটি ‘বাগাড়ম্বর’ বা চলতি কথায় ‘গলাবাজি’; কিন্তু কার্যকর কোনো কূটনৈতিক পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) রাজধানীর ২৯ মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের সরকারি বাসভবনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত ‘জুলাই এখনো শেষ হয় নাই’ শীর্ষক স্থিরচিত্র প্রদর্শনী পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন নাহিদ ইসলাম।
নাহিদ ইসলাম বলেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বড় বড় কথা বলা হলেও বাস্তবে কোনো কূটনৈতিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। শেখ হাসিনা দিল্লিতে প্রকাশ্যে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন এবং ভারত সরকারও তাকে সেই সুযোগ দিয়েছে—এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ সরকারের উচিত ছিল ভারতীয় হাইকমিশনারকে তলব করে বিষয়টির কঠোর প্রতিবাদ জানানো।
একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা ঠেকাতে সরকার কী ধরনের কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেবে, সেটিও জনগণের সামনে স্পষ্ট করা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তার অভিযোগ, বর্তমান সরকার যথাযথ ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হওয়ায় শেখ হাসিনা দিল্লিতে বসে প্রেস কনফারেন্স করার সুযোগ পাচ্ছেন। অথচ কার্যকর কূটনৈতিক পদক্ষেপের পরিবর্তে সরকার শুধু বিবৃতি দিয়ে বাহবা নেওয়ার চেষ্টা করছে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ তুলে নাহিদ ইসলাম বলেন, আন্দোলনের মূল লক্ষ্য এখনো পূরণ হয়নি। তার মতে, স্বৈরাচার, ফ্যাসিবাদ ও আধিপত্যবাদী শক্তি জুলাইয়ের অভ্যুত্থানকে ঘিরে নানা ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, রাষ্ট্র সংস্কার এবং গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে পাওয়া গণরায়ের বাস্তবায়ন এখনো হয়নি। বরং জনগণের প্রত্যাশার জায়গাগুলো থেকে সরে গিয়ে বর্তমান সরকার সেই রায়ের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে বলে তিনি দাবি করেন।
নাহিদ ইসলামের অভিযোগ, রাষ্ট্রের বিভিন্ন পর্যায়ে দলীয়করণ চলছে। স্থানীয় সরকারেও দলীয়করণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে জুলাই আন্দোলনের সমন্বয়কদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হচ্ছে না এবং বিভিন্ন কর্মসূচি পালনে তাদের বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে।
বর্তমান সরকারের কাঠামো ও কার্যক্রম নিয়েও সতর্ক করেন এনসিপি আহ্বায়ক। তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় কাঠামোগত সংস্কার না হলে যে কোনো সরকারই একসময় স্বৈরাচারী হয়ে উঠতে পারে এবং বর্তমান সরকারের মধ্যেও সে ধরনের প্রবণতা রয়েছে।
তার দাবি, ইতিহাসে আওয়ামী লীগও বিভিন্ন সময়ে এমন প্রবণতার মাধ্যমে জনগণের প্রতিরোধের মুখে পড়েছিল। বর্তমান সরকারও একই পথে হাঁটলে জনগণ আবারও প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।
নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় থাকার নৈতিক ভিত্তি হারিয়েছে এবং জনগণের আস্থাও হারিয়েছে। বিভিন্ন ক্যাম্পাসে নির্বাচিত ছাত্রসংসদের নেতাদের ওপর হামলা এবং প্রশাসনের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের নিরপেক্ষ ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, স্বৈরাচার ও আধিপত্যবাদী শক্তির বিরুদ্ধে ১১ দলীয় ঐক্যবদ্ধ শক্তি একসঙ্গে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। রাষ্ট্রের কাঠামোগত পরিবর্তন এবং জুলাইয়ের প্রত্যাশা বাস্তবায়নে তাদের লড়াই অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেন।
তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার যে ধারাবাহিক সংগ্রাম শুরু হয়েছে, কোনো চক্রান্…

