আন্তর্জাতিক ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ
মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক সংকটের মধ্যে আল-আকসা মসজিদকে ঘিরে নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করেছে মুসলিম বিশ্বের কয়েকটি দেশ। জর্ডানের রাজধানী আম্মানে অনুষ্ঠিত এক বিশেষ বৈঠকে প্রায় ২০টি মুসলিম দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। বৈঠকে পূর্ব জেরুজালেমের পরিস্থিতি, আল-আকসা মসজিদের বর্তমান অবস্থা এবং ইসরায়েলের বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করা হয়।
বৈঠক শেষে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান জানান, অংশগ্রহণকারী দেশগুলো শুধু উদ্বেগ প্রকাশ করেই থেমে থাকেনি; বরং আল-আকসা ইস্যুতে ভবিষ্যৎ করণীয় নির্ধারণে সমন্বিত কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়েও আলোচনা করেছে।
তিনি বলেন, গাজা যুদ্ধসহ মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য সংকটের কারণে আন্তর্জাতিক মনোযোগ যখন বিভক্ত হয়ে পড়ছে, তখন আল-আকসা ও ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা জরুরি। এ বিষয়ে মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে অভিন্ন অবস্থান তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বৈঠকে পূর্ব জেরুজালেম এবং আল-আকসাসহ ধর্মীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে সংঘটিত ঘটনাগুলো নিয়মিতভাবে পর্যবেক্ষণ ও সংরক্ষণের জন্য একটি স্থায়ী ডকুমেন্টেশন ব্যবস্থা তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ উদ্যোগের মাধ্যমে ছবি, ভিডিও ও অন্যান্য তথ্য সংগ্রহ করে আন্তর্জাতিক মহলের সামনে উপস্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।
অংশগ্রহণকারী দেশগুলো যৌথ ঘোষণায় জানিয়েছে, পূর্ব জেরুজালেমের ঐতিহাসিক, আরব, ইসলামিক ও খ্রিষ্টান পরিচয় পরিবর্তনের যেকোনো প্রচেষ্টা তারা সমর্থন করে না। একই সঙ্গে তারা ১৯৬৭ সালের সীমান্তের ভিত্তিতে দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের প্রতি নিজেদের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে।
আল-আকসা মসজিদ প্রসঙ্গে বৈঠকে অংশ নেওয়া দেশগুলো জানিয়েছে, মসজিদটির বর্তমান ধর্মীয় মর্যাদা ও স্থিতাবস্থা বজায় রাখা প্রয়োজন। সেখানে মুসল্লিদের ওপর বিধিনিষেধ, খনন কার্যক্রম কিংবা পরিস্থিতি পরিবর্তনের যেকোনো উদ্যোগের বিরোধিতা করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, আল-আকসা ইস্যুতে মুসলিম দেশগুলোর এই বৈঠক আগের তুলনায় ভিন্ন বার্তা দিচ্ছে। কারণ এবার শুধু প্রতিবাদ বা বিবৃতি নয়, বরং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তথ্য উপস্থাপন ও কূটনৈতিক সমন্বয়ের মতো দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ নিয়েও আলোচনা হয়েছে। তবে এই উদ্যোগ বাস্তবে কতটা কার্যকর প্রভাব ফেলতে পারে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
আর/

