শাপলা গণহত্যার স্মৃতি সংরক্ষণে ভাস্কর্যের মুখাবয়ব মুছে ফেলুন- মাওলানা মামুনুল হক

জুলাই স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন শেষে সঠিক ইতিহাস সংরক্ষণ ও শাপলা চত্বরের শহীদদের স্মৃতি যথাযথভাবে তুলে ধরার আহ্বান

by Master Fatih
জুলাই স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন করছেন মাওলানা মামুনুল হক-শাপলা গণহত্যা

নিজস্ব প্রতিবেদক: >>

জুলাই গণঅভ্যুত্থান, শাপলা গণহত্যার ও ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের স্মৃতি সংরক্ষণে প্রতিষ্ঠিত জুলাই স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা মামুনুল হক।

রোববার (৯ আগস্ট) তিনি জাদুঘরটি পরিদর্শন করেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমীর মাওলানা মাহবুবুল হক, মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দিন আহমাদ, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমীন, মাওলানা তোফাজ্জল হুসাইন মিয়াজী, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা ফয়সল আহমাদ, মাওলানা আবুল হাসানাত জালালী, প্রশিক্ষণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম, বায়তুল মাল সম্পাদক মাওলানা ফজলুর রহমান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা রাকীবুল ইসলাম এবং ঢাকা মহানগর উত্তরের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মুর্শিদ সিদ্দিকীসহ দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

বিজ্ঞাপন
banner

জাদুঘর পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মাওলানা মামুনুল হক বলেন, ফ্যাসিবাদের দুঃসহ স্মৃতিগুলো এখানে ভাস্বর হয়ে উঠেছে। মানুষের ওপর জুলুম-নির্যাতন, পাশবিকতা, হত্যা এবং হত্যার পর মরদেহের সঙ্গে করা বর্বরতার ভয়াল চিত্র এখানে তুলে ধরা হয়েছে।

তিনি বলেন, এই জাদুঘর বাংলাদেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য, বিশেষ করে রাষ্ট্রের শাসকদের জন্য একটি শিক্ষণীয় পাঠশালা। ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার শাসনামলের ভয়াবহ পৈশাচিকতা ও নির্মমতার নিদর্শন যেকোনো বিবেকবান মানুষের হৃদয়কে ব্যথাতুর করবে।

জুলাই স্মৃতি জাদুঘরের সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা প্রসঙ্গে মামুনুল হক বলেন, জাদুঘরকে আরও সুরক্ষিত করতে হবে। এখানে অনেক গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম ও স্মৃতিচিহ্ন অত্যন্ত মামুলিভাবে প্রদর্শিত হচ্ছে এবং মূল্যবান অনেক জিনিস মানুষের হাতের নাগালে রয়েছে।

তিনি বলেন, একদিকে এসব স্মৃতিচিহ্ন মানুষের সামনে তুলে ধরতে হবে, অন্যদিকে এগুলোর যথাযথ সংরক্ষণের প্রতিও গুরুত্ব দিতে হবে। এ বিষয়ে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

মামুনুল হক বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের অনেক গুরুত্বপূর্ণ ইতিহাস যথাযথভাবে সংরক্ষিত হয়নি। ইতিহাসকে তার নিজস্ব গতিতে প্রবাহিত হতে দেওয়া দরকার। কোনো পক্ষের মুখের দিকে তাকিয়ে নয়, বরং সত্য ও বাস্তবতার ভিত্তিতে সঠিক ইতিহাস সংরক্ষণ করা উচিত।

তিনি বলেন, ২০১৩ সালে আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মৃত্যুদণ্ড ঘোষণার পর সারাদেশে যে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছিল, তার পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস এখানে সংরক্ষিত হয়নি। একইভাবে ২০১৫-১৬ সালে বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বাড়ির সামনে বালুর ট্রাক দিয়ে অবরুদ্ধ করার পর সারাদেশে যে আন্দোলন হয়েছিল, সেটিও যথাযথভাবে তুলে ধরা হয়নি।

তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনার শাসনামলের অন্যতম বড় আন্দোলন ২০২১ সালের মোদিবিরোধী আন্দোলন। সেই আন্দোলনেরও উল্লেখযোগ্য কোনো স্মৃতি এখানে সংরক্ষিত হয়নি। অথচ ওই সময়ের শহীদ ও আহত ব্যক্তিরা এখনো জীবন্ত ইতিহাস হয়ে আছেন।

১৯৭১ সালের ইতিহাসের প্রসঙ্গ টেনে মামুনুল হক বলেন, পাকিস্তানি বাহিনীর বর্বরতার স্মৃতিগুলো যেভাবে সংরক্ষণ ও উপস্থাপন করা হয়েছে, একইভাবে সীমান্ত হত্যা ও মোদিবিরোধী আন্দোলনের স্মৃতিগুলোও সংরক্ষণ করা দরকার।

তিনি বলেন, কোনো রাষ্ট্রের বর্বরতার প্রমাণ থাকলে সেটিও ইতিহাসের অংশ হিসেবে সংরক্ষণ করা উচিত। কারও মুখের দিকে তাকিয়ে দেশের গৌরবোজ্জ্বল ও বেদনাবিধুর স্মৃতি সংরক্ষণ থেকে পিছিয়ে থাকা উচিত নয়।

জাদুঘরে থাকা প্রাণীর ভাস্কর্য প্রসঙ্গে মাওলানা মামুনুল হক বলেন, প্রতিটি ইতিহাসের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দৃশ্যকে তার মূল চেতনাসহ ধারণ করা উচিত।

তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদের সময়ে ভাস্কর্যবিরোধী আন্দোলন ও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে দেশ গেছে। তাঁদের স্পষ্ট বক্তব্য ছিল, রাষ্ট্রীয় স্থাপনায় মুসলিম সংস্কৃতি ও মূল্যবোধবিরোধী মানুষের ভাস্কর্য থাকতে পারে না।

এ কারণে শাপলা চত্বরের শহীদদের মুখাবয়ব বাদ দিয়ে তাদের স্মৃতি ও ঘটনাকে চিত্রিত করার পরামর্শ দেন তিনি।

জুলাই ও ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের অংশীজনদের স্বীকৃতির ক্ষেত্রেও বৈষম্য করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেন মামুনুল হক।

তিনি বলেন, জুলাই ও ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে যার যতটুকু ভূমিকা, সেভাবেই তাদের স্বীকৃতি দেওয়া দরকার। এ ক্ষেত্রে যথেষ্ট বৈষম্য করা হয়েছে। জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী বাংলাদেশে এটি কোনোভাবেই সমীচীন হবে না।

এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মনোযোগ দেবেন বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ফেলানী হত্যার স্মৃতি প্রসঙ্গে মামুনুল হক বলেন, ফেলানীর ঝুলন্ত লাশের ছবির চেয়ে বড় ফ্যাসিবাদী নির্যাতনের ছবি বাংলাদেশের সামনে আসেনি। এই একটি দৃশ্য পুরো বাংলাদেশকে রিপ্রেজেন্ট করেছিল।

তিনি বলেন, সেটি জাদুঘরে স্থান পাবে না—এটি কোনোভাবেই চিন্তা করা যায় না। এটি সরিয়ে ফেলার কারণে জনগণের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

banner

এ জাতীয় আরো সংবাদ