অনলাইন ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ১৮তম আবর্তনের শিক্ষার্থীদের একাংশ ছাত্রদলের আহ্বায়ক সদস্য ও একই বিভাগের শিক্ষার্থী জয় সাহার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তিন দফা দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত ক্লাস ও পরীক্ষায় অংশ না নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।
শনিবার (৮ আগস্ট) ১৮তম আবর্তনের শিক্ষার্থীদের স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এসব দাবি ও কর্মসূচির কথা জানানো হয়।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, গত ৪ আগস্ট ক্যাম্পাসে সংঘর্ষ ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির মধ্যে জয় সাহা কয়েকজন সহপাঠীর ওপর হামলা চালান। এতে কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত ও রক্তাক্ত হন বলে দাবি তাদের। ঘটনার পর নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জয় সাহার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তোলেন তারা।
তিন দফা দাবির প্রথমটিতে জয় সাহাকে ছাত্রদল এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী হিন্দু ফোরাম থেকে বহিষ্কারের কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে তার সঙ্গে কোনো ধরনের সাংগঠনিক বা প্রাতিষ্ঠানিক সম্পর্ক না রাখার দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। ভবিষ্যতে তাকে সহযোগিতা বা প্রশ্রয় দেওয়ার প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি রয়েছে। পাশাপাশি জয় সাহাকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের দাবিও করেছেন তারা।
দ্বিতীয় দাবিতে জয় সাহাকে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ১৮তম আবর্তনের ক্লাস ও পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ না দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে তাকে ওই আবর্তন থেকেও বহিষ্কারের দাবি জানিয়েছেন সহপাঠীরা।
তৃতীয় দাবিতে বলা হয়েছে, ভবিষ্যতে জয় সাহার বিরুদ্ধে হামলা, হুমকি বা ছাত্রী হয়রানির অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া গেলে তাকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের পাশাপাশি আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।
শিক্ষার্থীরা বিবৃতিতে স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, তাদের তিন দফা দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ১৮তম আবর্তনের কেউ ক্লাস ও পরীক্ষায় অংশ নেবেন না।
গত ৪ আগস্ট জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ইনকিলাব মঞ্চের’ প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল, ছাত্রশিবির, ছাত্রশক্তি ও ছাত্র ফ্রন্টের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ৭০ জন আহত হন বলে জানা যায়।
ঘটনার পর ছাত্রশিবির, ছাত্রশক্তি ও ছাত্র ফ্রন্টের নেতাকর্মীদের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তাদের ওপর হামলা চালিয়েছেন। এমনকি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত ব্যক্তিদের ওপরও হামলার অভিযোগ ওঠে।
অন্যদিকে, অভিযোগ অস্বীকার করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল দাবি করে, শিবির শিক্ষার্থীদের দাবিকে কেন্দ্র করে মব করার চেষ্টা করেছিল। সাধারণ শিক্ষার্থীরাই তাদের প্রতিহত করেন বলে দাবি সংগঠনটির।
এ ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। সংঘর্ষ নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের মধ্যেই জয় সাহার বিরুদ্ধে তার সহপাঠীদের তিন দফা দাবি ও ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

