নিজস্ব প্রতিবেদক | হুদহুদ নিউজ
সম্পত্তি হস্তান্তর সংক্রান্ত নতুন আইন বাতিল না করা হলে দেশে সর্বব্যাপী আন্দোলন গড়ে তোলার কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর আল্লামা মামুনুল হক। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, কোরআন ও সুন্নাহর বিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো আইন দেশের সাধারণ জনগণ কখনোই মেনে নেবে না।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টায় বরিশাল টাউন হলে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস বরিশাল জেলা ও মহানগরের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক নাগরিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বরিশাল মহানগর আহ্বায়ক মুফতি মিজানুর রহমান খানের সভাপতিত্বে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে আল্লামা মামুনুল হক বলেন, ‘‘বিএনপি ক্ষমতায় এলে কোরআন-সুন্নাহবিরোধী কোনো আইন করবে না বলে বারবার অঙ্গীকার করেছিল। অথচ গত ৬ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে বর্তমান সরকারের আইনমন্ত্রী ‘প্রপার্টি ট্রান্সফার-২২৬’ নামে নতুন একটি আইন তৈরি করেছেন। বাংলাদেশের আলেম সমাজ এই আইনের বিভিন্ন বিধানকে সরাসরি ইসলামি মূলনীতির পরিপন্থী আখ্যা দিয়ে প্রত্যাখ্যান করেছে।’’
আইনটি বাতিলের দাবি জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘‘বাংলাদেশের মুসলমানদের কাছে আল্লাহর কোরআন এবং রাসুলের সুন্নাহ সর্বোচ্চ সম্মানের। কোরআন-সুন্নাহর বিধানকে অকার্যকর করে ইসলামকে নির্বাসনে পাঠানোর যে ষড়যন্ত্র চলছে, তা থেকে বিরত না থাকলে এমন আন্দোলন শুরু হবে, যার আগুনে বিরোধীরা জ্বলে ছারখার হয়ে যাবে।’’
তিনি উল্লেখ করেন, কোরআন ও সুন্নাহর সম্মান রক্ষার্থে এই লড়াই কোনো নির্দিষ্ট দলীয় ফোরামে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং এটি হবে সর্বদলীয়, নির্দলীয়, দেশপ্রেমিক ও ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন।
বক্তব্যে জুলাই বিপ্লবের স্পিরিট ও ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের জোরালো দাবি তোলেন খেলাফত মজলিসের আমীর। তিনি বলেন, ‘‘কেবল নামমাত্র সংশোধনীর জন্য জুলাই বিপ্লব হয়নি; বিপ্লব হয়েছে রাষ্ট্রের গঠনমূলক পরিবর্তন ও রাজনীতিকে নতুন করে মেরামতের জন্য। আমরা চাই সংবিধানের শুরুতে ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ ও আল্লাহর ওপর অবিচল আস্থা পুনঃস্থাপিত হোক, পাশাপাশি তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ও ‘জুলাই সনদ’ সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা হোক। এটি বাস্তবায়িত হলে দেশে আর কোনো স্বৈরাচার মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারবে না।’’
রাষ্ট্রপ্রশাসনে ক্ষমতার ভারসাম্য ও নিরপেক্ষতার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর একক ক্ষমতা কমিয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে কিছু ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে। স্বাধীন বিচার বিভাগ ও নিরপেক্ষ পাবলিক সার্ভিস কমিশন (পিএসসি) গঠনের ওপর জোর দিয়ে তিনি সতর্ক করেন যে, সাধারণ মানুষ আর কোনো ‘জাতীয়তাবাদী পুলিশ দল’ দেখতে চায় না, বরং সেবাধর্মী ও নিরপেক্ষ পুলিশ ও প্রশাসন দেখতে চায়।
গণভোটের গণরায় মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে মামুনুল হক বলেন, ‘‘৫০ শতাংশ ভোট পেয়ে সরকার গঠন করে ৭০ শতাংশ মানুষের ভোটাধিকার বা মতামতকে উপেক্ষা করা যাবে না। জনগণের বড় অংশের রায় উপেক্ষা করে কোনো দলই নিজেদের ক্ষমতা দীর্ঘস্থায়ী বা রক্ষা করতে পারবে না।’’

উক্ত নাগরিক সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দিন আহমাদ, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমীন, সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি ওযায়ের আমীন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা রাকীবুল ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিসের কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা জাহিদুজ্জামান এবং বাংলাদেশ খেলাফত ছাত্র মজলিসের কেন্দ্রীয় সভাপতি মুহাম্মাদ আব্দুল আজিজসহ স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।

