আন্তর্জাতিক ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ
ফিলিস্তিনি সাংবাদিক মুজাহিদ বানি মুফলেহর একটি ভয়াবহ ছবি প্রকাশের পর ইসরায়েলি কারাগারের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে সমালোচনা শুরু হয়েছে। ছয় মাস আটক থাকার পর গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় মুক্তি পাওয়া এই সাংবাদিকের শারীরিক অবস্থা ঘিরে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বন্দী অধিকার সংগঠনগুলো।
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূত্র অনুযায়ী, মুক্তির পর প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায় তার মাথার খুলির একটি অংশ অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে অপসারণ করা হয়েছে। দীর্ঘ চিকিৎসা ও জটিল শারীরিক অবস্থার কারণে তিনি অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়েছেন এবং উল্লেখযোগ্যভাবে ওজন হারিয়েছেন।
বন্দী অধিকার সংগঠন ফিলিস্তিনি বন্দী সোসাইটি বলেছে, এই ঘটনা কোনো বিচ্ছিন্ন উদাহরণ নয়, বরং ইসরায়েলি কারাগার ব্যবস্থায় চলমান পদ্ধতিগত নির্যাতনের প্রতিফলন। তাদের দাবি, কারাগারগুলোতে বন্দীদের বিরুদ্ধে ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি করা হচ্ছে।
সংগঠনটির বিবৃতিতে বলা হয়, আটক ব্যক্তিদের ওপর নির্যাতন, অনাহার, চিকিৎসা বঞ্চনা, শারীরিক ও মানসিক নিপীড়ন এবং ক্রমাগত মানসিক চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে। এসব কারণে মুক্তিপ্রাপ্ত অনেক বন্দীই গুরুতর শারীরিক ও মানসিক সমস্যায় ভুগছেন।
ফিলিস্তিনি বন্দী সোসাইটি আরও জানিয়েছে, অনেক পরিবার পুনরায় গ্রেপ্তারের আশঙ্কায় প্রকাশ্যে এসব ঘটনা জানাতে ভয় পাচ্ছে, ফলে প্রকৃত পরিস্থিতির অনেক অংশই অপ্রকাশিত থেকে যাচ্ছে।
সংগঠনটির তথ্যমতে, ২০২৫ সালের জুনে কোনো অভিযোগ ছাড়াই বানি মুফলেহকে আটক করা হয় এবং পরবর্তীতে ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়। মুক্তির মাত্র দুই দিনের মধ্যেই তিনি মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং হাসপাতালে ভর্তি হন।
এদিকে, গাজা যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ফিলিস্তিনি সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দমন-পীড়ন বেড়েছে বলে দাবি করেছে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন। তাদের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে অন্তত ২৪৫ জন সাংবাদিককে গ্রেপ্তার করেছে ইসরায়েলি বাহিনী।
সরকারি ফিলিস্তিনি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৮ অক্টোবর থেকে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বাহিনী ও বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতায় ১ হাজার ১৭৩ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। একই সময়ে আহত হয়েছেন ১২ হাজার ৬৬৬ জন, গ্রেপ্তার করা হয়েছে প্রায় ২৩ হাজার জনকে এবং বাস্তুচ্যুত হয়েছেন প্রায় ৩৩ হাজার মানুষ।
সূত্র: আনাদোলু, মিডল ইস্ট মনিটর
আর/

