আন্তর্জাতিক ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ
আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইসরায়েলের সীমান্তের বাইরে অবস্থিত পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমের ইহুদি বসতি এলাকায় উৎপাদিত পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ করার একটি বিল অনুমোদন করেছে আয়ারল্যান্ডের পার্লামেন্ট। মঙ্গলবার বিলটি পাসের মাধ্যমে ইসরায়েল-নিয়ন্ত্রিত বসতি অঞ্চলগুলোর বিষয়ে ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম কঠোর বাণিজ্যিক অবস্থান নিল ডাবলিন।
এখন বিলটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য দেশটির পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষে পাঠানো হবে। অনুমোদন সম্পন্ন হলে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইসরায়েলের সীমান্তের বাইরে অবস্থিত আবাসিক, কৃষি ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান থেকে উৎপাদিত কোনো পণ্য আয়ারল্যান্ডে আমদানি করা যাবে না।
আয়ারল্যান্ড সরকার জানিয়েছে, ২০২৪ সালে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) দেওয়া পরামর্শমূলক মতামতের ভিত্তিতেই এই আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ওই মতামতে আদালত বলেছিল, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী পশ্চিম তীর, পূর্ব জেরুজালেম ও গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের উপস্থিতি একটি অবৈধ দখলদারিত্ব।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অধিকাংশ দেশ ইসরায়েলি বসতিগুলোকে আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী বলে মনে করলেও ইসরায়েল এসব অঞ্চলের সঙ্গে তাদের ঐতিহাসিক সম্পর্কের দাবি করে আসছে।
অর্থনৈতিকভাবে এই নিষেধাজ্ঞার প্রভাব তুলনামূলকভাবে সীমিত হতে পারে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমের বসতি অঞ্চল থেকে ফল, শাকসবজি, কাঠসহ বিভিন্ন পণ্য আমদানির মোট মূল্য ১০ লাখ ইউরোরও কম ছিল।
তবে বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, শুধু পণ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে সেবা খাতকে বাইরে রাখায় আইনটির কার্যকারিতা সীমিত থাকবে। জবাবে সরকার বলেছে, সেবা খাতে একই ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপের ক্ষেত্রে আরও জটিল আইনি বিষয় রয়েছে। তাই বিষয়টি আরও সুস্পষ্ট ও নির্ভুলভাবে প্রণয়ন করা প্রয়োজন।
২০২৩ সালের অক্টোবরে হামাসের হামলার পর গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের অন্যতম কড়া সমালোচক হিসেবে সামনে আসে আয়ারল্যান্ড। এর ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালে দেশটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেয়।
পরে ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিয়ন সার আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে ‘চরম ইসরায়েলবিরোধী নীতি’ অনুসরণের অভিযোগ তোলেন এবং ডাবলিনে ইসরায়েলি দূতাবাস বন্ধের নির্দেশ দেন। এছাড়া সম্প্রতি ফিলিস্তিনপন্থী কর্মীদের প্রতি আচরণের প্রতিবাদে ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির এবং অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচের আয়ারল্যান্ডে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করে ডাবলিন।
একই সঙ্গে ১৯৯৫ সালের ইউরোপীয় ইউনিয়ন–ইসরায়েল অ্যাসোসিয়েশন চুক্তি পুনর্বিবেচনার দাবিও দীর্ঘদিন ধরে ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছে জানিয়ে আসছে আয়ারল্যান্ড। এর আগে স্পেনও ইসরায়েলি বসতি এলাকায় উৎপাদিত পণ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞাসংবলিত একটি বাণিজ্যিক প্যাকেজ বাস্তবায়ন করে। ফলে ইউরোপে ইসরায়েল-নিয়ন্ত্রিত বসতি অঞ্চলগুলোর বিরুদ্ধে বাণিজ্যিক অবস্থান আরও কঠোর হওয়ার ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে।
গাজা যুদ্ধকে কেন্দ্র করে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ইসরায়েলের নীতি নিয়ে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে। আয়ারল্যান্ড, স্পেন ও কয়েকটি ইউরোপীয় দেশ আন্তর্জাতিক আইন এবং মানবিক পরিস্থিতির প্রশ্নে ইসরায়েলের ওপর কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ বৃদ্ধির পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। অন্যদিকে ইসরায়েল এসব পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করে আসছে।
সূত্র: রয়টার্স, এএফপি, টাইমস অব ইসরায়েল
আর/

