গুলিস্তানে চাঁদাবাজিবিরোধী কর্মসূচিতে হামলা, বিএনপিকে দায়ী করল জামায়াত

চাঁদাবাজি ও দখলবাজির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিলের প্রস্তুতিকালে হামলার দাবি জামায়াতের; অভিযোগ অস্বীকার করে তাৎক্ষণিকভাবে বিএনপির কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি

by ABDUR RAHMAN
গুলিস্তানে চাঁদাবাজিবিরোধী কর্মসূচিতে হামলা

অনলাইন ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ

রাজধানীর গুলিস্তানের ফুলবাড়িয়া ফ্লাইওভারের নিচে জামায়াতে ইসলামীর বিক্ষোভ কর্মসূচির প্রস্তুতিকালে হামলার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (৪ জুলাই) বিকেলে সংঘটিত এ ঘটনায় অন্তত ১৫ থেকে ২০ জন আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে দলটি। আহতদের মধ্যে ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতে ইসলামী।

বিজ্ঞাপন
banner

দলটির ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সহকারী প্রচার সম্পাদক আব্দুস সাত্তার সুমন জানান, চাঁদাবাজি ও দখলবাজির বিরুদ্ধে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ফুলবাড়িয়া এলাকায় একটি বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করা হয়েছিল। ব্যবসায়ীরা সেখানে জড়ো হওয়ার পর বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মী ও তাদের সহযোগীরা অতর্কিত হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

জামায়াতের দাবি, হামলায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা অস্ত্র, ছুরি, হকিস্টিক ও লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালায়। এতে ১৫ থেকে ২০ জন নেতাকর্মী আহত হন। আহতদের মধ্যে তিনজন ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হয়েছেন। তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও ইসলামী ব্যাংক সেন্ট্রাল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আব্দুস সাত্তার সুমনের অভিযোগ, গুলিস্তান এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজি ও দখলবাজির ঘটনা ঘটছে। সম্প্রতি একটি মার্কেটে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে তালা লাগানোর ঘটনাকেও কেন্দ্র করে উত্তেজনা তৈরি হয়। সেই সময় স্থানীয় ব্যবসায়ীদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন জামায়াতের নেতাকর্মীরা বলেও দাবি করেন তিনি।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, হামলায় যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রনজু, মামুন কমিশনার, ৩৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সেক্রেটারি ডালিম, মনা এবং আওয়ামী লীগের হানিফ, মালেক ও জুয়েলসহ শতাধিক ব্যক্তি অংশ নেন। হামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতাও যুক্ত ছিলেন বলে দাবি করেছে জামায়াত। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে বিএনপি বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে ঘটনার পর ফুলবাড়িয়া এলাকায় বিএনপির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেন জামায়াতের নেতাকর্মীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

বংশাল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সৈকত হোসেন জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা হয়নি।

রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকায় বাজার ও মার্কেটকেন্দ্রিক দখল, চাঁদাবাজি এবং রাজনৈতিক আধিপত্যকে ঘিরে সাম্প্রতিক সময়ে উত্তেজনার একাধিক ঘটনা সামনে এসেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এসব ঘটনায় নজরদারি ও টহল জোরদারের কথা জানিয়েছে।ঃ

আর/

banner

এ জাতীয় আরো সংবাদ