ব্রিকস সম্মেলন ঘিরে দিল্লির বস্তি ঢাকল পর্দায়, মোদি সরকারকে এএপির কটাক্ষ

পুতিন-জিনপিংদের চোখে ‘অস্বস্তিকর দৃশ্য’ ঠেকাতে বস্তি আড়ালের অভিযোগ, এএপি বলল—পর্দা টানলে বাস্তবতা বদলায় না

by ABDUR RAHMAN
ব্রিকস সম্মেলন ঘিরে দিল্লির বস্তি ঢাকল পর্দায়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে শুরু হয়েছে ১৮তম ব্রিকস সম্মেলন। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনীতির দেশগুলোর নেতাদের উপস্থিতিতে যখন দিল্লি সেজেছে বর্ণিল সাজে, তখন আন্তর্জাতিক অতিথিদের চলাচলের পথের পাশের বস্তি কাপড়ের পর্দা দিয়ে আড়াল করার ঘটনায় শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক।

বিজ্ঞাপন
banner

বিশেষ করে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংসহ শীর্ষ নেতাদের চলাচলের সম্ভাব্য পথের পাশে থাকা বস্তি ও অননুমোদিত বসতিগুলো নতুন কাপড়ের আচ্ছাদন দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন নরেন্দ্র মোদি সরকারের সমালোচনায় সরব হয়েছে দিল্লির ক্ষমতাসীন আম আদমি পার্টি (এএপি)।

দলটির বক্তব্য, কাপড়ের পর্দা দিয়ে বস্তি বা দরিদ্র মানুষের জীবনযাপন আড়াল করা গেলেও দিল্লির প্রকৃত চিত্র বদলে দেওয়া সম্ভব নয়।

‘পর্দা টানলেই বাস্তবতা বদলায় না’
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি কার্টুন প্রকাশ করে মোদি সরকারের নীতির সমালোচনা করে এএপি।

কার্টুনটিতে একটি আয়নার ওপর ‘ভিশন ২০৪৭’ লেখা রয়েছে। আয়নার প্রতিফলনে দেখা যায় সাজানো-গোছানো উন্নত দিল্লি ও ভারত মণ্ডপম। অথচ আয়নার বাইরে রয়েছে বস্তি, আবর্জনা এবং অস্থায়ী ঘরবাড়ির চিত্র।

কার্টুনটি প্রকাশ করে এএপি মূলত বোঝাতে চেয়েছে, দৃশ্যমান দারিদ্র্যকে পর্দার আড়ালে সরিয়ে রাখলেই দেশের বাস্তব পরিস্থিতি বদলে যায় না।

দলটি ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সরকারি পরিসংখ্যান নিয়েও কটাক্ষ করেছে। তাদের বক্তব্য, বস্তি আড়াল করার এই উদ্যোগকে অনেকটা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সংখ্যাকে ভিন্নভাবে উপস্থাপনের সঙ্গে তুলনা করা যায়।

ব্রিকস সম্মেলনে বিশ্বনেতাদের উপস্থিতি
ভারতের আয়োজনে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ১৮তম ব্রিকস সম্মেলন। ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠেয় এই সম্মেলনে ব্রিকসের সদস্যদেশগুলোর শীর্ষ নেতারা অংশ নিচ্ছেন। শনিবার থেকে সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

সম্মেলনকে কেন্দ্র করে নয়াদিল্লিতে নেওয়া হয়েছে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, সম্মেলনস্থল ও অতিথিদের চলাচলের এলাকায় বাড়ানো হয়েছে নজরদারি। এর মধ্যেই বস্তি আড়াল করার বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

আন্তর্জাতিক আয়োজন ঘিরে পুরোনো বিতর্ক
দিল্লিতে বড় ধরনের আন্তর্জাতিক আয়োজন হলেই শহরের দরিদ্র ও বস্তি এলাকার দৃশ্য আড়াল করার অভিযোগ নতুন নয়। গুরুত্বপূর্ণ সড়কের পাশে থাকা বস্তি কিংবা অননুমোদিত বসতিগুলোকে পর্দা, সবুজ চাদর অথবা অস্থায়ী কাঠামো দিয়ে ঢেকে দেওয়ার ঘটনা অতীতেও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

সমালোচকদের মতে, আন্তর্জাতিক অতিথিদের সামনে শহরের দারিদ্র্যের চিত্র না দেখানোর পরিবর্তে এসব এলাকার মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং আবাসন সমস্যার স্থায়ী সমাধানে মনোযোগ দেওয়া উচিত।

তাদের প্রশ্ন, কয়েক ঘণ্টা বা কয়েক দিনের জন্য কোনো এলাকার বাস্তব চিত্র আড়াল করে রাখলে কি সেই এলাকার মানুষের দারিদ্র্য, আবাসন সংকট কিংবা জীবনযাত্রার সমস্যাগুলোও আড়াল করা সম্ভব?

‘চকচকে দিল্লি’র আড়ালে অন্য বাস্তবতা?
ব্রিকস সম্মেলনকে সামনে রেখে নয়াদিল্লির গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোকে সাজানো হয়েছে। বিদেশি অতিথিদের স্বাগত জানাতে শহরের বিভিন্ন অংশে সৌন্দর্যবর্ধনের পাশাপাশি নিরাপত্তাব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে।

তবে এর মধ্যেই রাস্তার পাশের বস্তি ঢেকে দেওয়ার ছবি ও খবর সামনে আসায় প্রশ্ন উঠেছে—আন্তর্জাতিক সম্মেলনে ভারতের অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও আধুনিক নগরীর যে চিত্র তুলে ধরা হচ্ছে, তার সঙ্গে দিল্লির দরিদ্র মানুষের বাস্তব জীবনের দূরত্ব কতটা?

এএপির সমালোচনার কেন্দ্রে মূলত এই বৈপরীত্যই। দলটির দাবি, উন্নয়নের চিত্র দেখাতে হলে শহরের দরিদ্র মানুষ ও তাদের সমস্যাকেও সেই উন্নয়নের অংশ করতে হবে; পর্দার আড়ালে ঠেলে দেওয়া নয়।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

banner

এ জাতীয় আরো সংবাদ