‘বাংলাদেশ কোনো পরিবারের নয়, ২০ কোটি মানুষের’: রফিকুল ইসলাম খান

গণভোটের রায় অমান্যকারীরা জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করছে: জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় হুইপ

by ABDUR RAHMAN
বাংলাদেশ কোনো পরিবারের নয়, ২০ কোটি মানুষের

অনলাইন ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ

জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় হুইপ ও সংসদ সদস্য মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান অভিযোগ করেছেন, বিএনপি বাংলাদেশে আগের মতোই গুম-খুনের রাজনীতি ফিরিয়ে আনতে চায়। এ কারণেই গুম-খুন কমিশনসহ বিভিন্ন উদ্যোগ বাতিল করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

বিজ্ঞাপন
banner

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির আয়োজিত নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেন, যারা দাবি করছে জনগণ গণভোটে না বুঝে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছে, তারা মূলত জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। গণভোটের রায় যারা মেনে নেয় না, তারা দেশের মানুষের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

গণভোটের রায় বাতিলের নানা কারণ রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এবারের সংসদে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ১৩৩টি অধ্যাদেশ আনা হয়েছে। এর মধ্যে ২০টি অধ্যাদেশ বাতিল করা হয়েছে। বাতিল হওয়া অধ্যাদেশগুলোর একটি ছিল গুম-খুন কমিশন, যার বিরোধিতা তারা করেছিলেন বলে জানান তিনি।

রফিকুল ইসলাম খানের ভাষ্য, ‘তারা (বিএনপি) বাংলাদেশে আগের মতোই গুম-খুনের রাজনীতি করতে চায়।’

তিনি বলেন, আগের অধ্যাদেশে এমন বিধান ছিল যে, গুম-খুনের ঘটনায় কোনো সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে সেই সংস্থা ওই অভিযোগের তদন্ত করতে পারবে না। কিন্তু পরবর্তীতে সেটি পরিবর্তন করে এমন ব্যবস্থা করা হয়েছে, যেখানে পুলিশ গুম ও খুনের অভিযোগের সঙ্গে যুক্ত থাকার পর একই ঘটনার তদন্তও পুলিশের মাধ্যমে হতে পারে।

তার দাবি, নতুন ব্যবস্থায় কোনো অভিযোগকারী তদন্তে অভিযোগ প্রমাণ করতে ব্যর্থ হলে তার সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পর্যন্ত সাজা হতে পারে। এমন বিধান থাকলে সাধারণ মানুষ গুম-খুনের অভিযোগ নিয়ে সামনে আসতে সাহস পাবে কি না—সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।

এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে দেশকে আবারও স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের দিকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় হুইপ।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ কোনো একক পরিবার বা গোষ্ঠীর দেশ নয়; এটি ২০ কোটি মানুষের দেশ। রাষ্ট্র কীভাবে পরিচালিত হবে, সেই সিদ্ধান্ত দেশের জনগণই নেবে। কেউ এর ব্যত্যয় ঘটানোর চেষ্টা করলে ছাত্রসমাজ ও জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে তা প্রতিহত করবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

শিক্ষাঙ্গনে আদর্শ, সৎ, যোগ্য ও চরিত্রবান মানুষ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়ে রফিকুল ইসলাম খান বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থায় আদর্শ মানুষ তৈরির জন্য নির্দিষ্ট কোনো সিলেবাস নেই। এ কারণে স্বতন্ত্র সংগঠন হিসেবে ছাত্রশিবির দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ধরনের মানুষ গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করছে।

বিগত সরকারের সময় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে তিনি বলেন, গত ১৬ বছরে গেস্টরুম, টর্চার সেল, গণরুম, টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি ও মাদক সংস্কৃতির কারণে সাধারণ শিক্ষার্থীরা নানা ধরনের দুর্ভোগের শিকার হয়েছে। ৫ আগস্টের গণবিপ্লবের মধ্য দিয়ে সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে। তবে এই পরিবর্তন নষ্ট করতে এখনো অনেকে ষড়যন্ত্র করছে বলে দাবি করেন তিনি।

রাষ্ট্রব্যবস্থায় দলীয়করণ ও স্বৈরাচারী প্রবণতার পুনরাবৃত্তি ঠেকানোর বিষয়েও বক্তব্য দেন রফিকুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, তাদের আন্দোলন ছিল বৈষম্য, অন্যায় ও অসত্যের বিরুদ্ধে। কিন্তু বর্তমান সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডেও একই ধরনের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

তার অভিযোগ, মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পরিবর্তন করা হয়েছে। নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতিতে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনার কথা বলা হলেও সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদ ও সরকারি করপোরেশনগুলোতে দলীয় ব্যক্তিদের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। এসব কর্মকাণ্ড নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে হবে, যেখানে বাংলাদেশে ভবিষ্যতে আর কোনো স্বৈরাচার জন্ম নেওয়ার সুযোগ থাকবে না।

অনুষ্ঠানে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসন সংকটের বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেলেও তাদের বড় একটি অংশ আবাসন সুবিধা থেকে বঞ্চিত।

তার দাবি, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মাত্র ৩০ শতাংশ শিক্ষার্থী হলে থাকার সুযোগ পান। বাকি ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থীকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে থাকতে হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়নের ক্ষেত্রেও তিনি প্রশাসনের সমালোচনা করেন।

তিনি বলেন, পিএসসিতে বিপুল বাজেট বরাদ্দ থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় হচ্ছে না। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করে আগামী দুই বছরের মধ্যে শতভাগ আবাসন নিশ্চিত করার ঘোষণা দেওয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি মেহেদী হাসানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম বুলবুল, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম, রাকসু ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ, শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মুজাহিদ ফয়সালসহ সংগঠনটির বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মী।

অনুষ্ঠানে প্রায় চার হাজার নিবন্ধিত নবীন শিক্ষার্থী ও আমন্ত্রিত অতিথি উপস্থিত ছিলেন।

banner

এ জাতীয় আরো সংবাদ