অনলাইন ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ
পর্দার বিধান অক্ষুণ্ন রাখার পাশাপাশি পরীক্ষার্থী শনাক্তকরণ প্রক্রিয়াকে আরও নির্ভুল, নিরাপদ ও আধুনিক করতে দাওরায়ে হাদিস (তাকমীল) পরীক্ষায় ছাত্রী পরীক্ষার্থীদের ফিঙ্গারপ্রিন্ট বাধ্যতামূলক করেছে কওমি মাদরাসা শিক্ষাবোর্ডগুলোর শীর্ষ সংস্থা আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামিআতিল কওমিয়া বাংলাদেশ।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এ নির্দেশনার কথা জানানো হয়।
আল-হাইআতুল উলয়ার স্থায়ী কমিটির ৬৮তম সভায় গত ৪ জুলাই ১৪৪৮ হিজরি/২০২৭ সালের দাওরায়ে হাদিস পরীক্ষার নিবন্ধনের সময় ছাত্রীদের ফিঙ্গারপ্রিন্ট গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সংস্থাটির অফিস ব্যবস্থাপক মু. অছিউর রহমান জানান, প্রায় ১০ বছর ধরে আল-হাইআতুল উলয়ার অধীনে দাওরায়ে হাদিস পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। এতদিন নিবন্ধনের সময় ছাত্র পরীক্ষার্থীদের অনলাইনে ছবি নেওয়া হলেও পর্দার বিধানের কারণে ছাত্রীদের ছবি নেওয়া হতো না।
এ বছর ছাত্রীদের ছবির পরিবর্তে ফিঙ্গারপ্রিন্ট নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ফলে নিবন্ধনের সময় প্রত্যেক ছাত্রী পরীক্ষার্থীকে ফিঙ্গারপ্রিন্ট দিতে হবে। ফিঙ্গারপ্রিন্ট ছাড়া কোনো ছাত্রী পরীক্ষার্থীর নিবন্ধন কার্যক্রম সম্পন্ন করা যাবে না।
নির্ধারিত ডিভাইসেই ফিঙ্গারপ্রিন্ট
আল-হাইআতুল উলয়া জানিয়েছে, ১৪৪৮ হিজরি/২০২৭ সালের দাওরায়ে হাদিস (তাকমীল) পরীক্ষার নিবন্ধনে ছাত্রীদের ফিঙ্গারপ্রিন্ট গ্রহণের জন্য ZKTeco SLK20R Biometric Fingerprint Scanner ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সংস্থাটির ভাষ্য, IP Based বা Standalone ডিভাইসের পরিবর্তে USB Fingerprint Reader ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কম কারিগরি জটিলতা, সহজ ব্যবহার, বহনযোগ্যতা, অতিরিক্ত অবকাঠামোর প্রয়োজন না হওয়া এবং HEMS-এর সঙ্গে সমন্বয়ের বিষয় বিবেচনায় নিয়ে এ ধরনের ডিভাইস নির্বাচন করা হয়েছে।
USB ডিভাইস সরাসরি কম্পিউটার বা ল্যাপটপে সংযুক্ত করে ব্যবহার করা যায়। ফলে এর জন্য আলাদা IP Address বা নেটওয়ার্ক কনফিগারেশনের প্রয়োজন হয় না।
ডিভাইস নির্ধারণের ক্ষেত্রে শুধু ব্র্যান্ড নয়, HEMS-এর সঙ্গে সফটওয়্যার ইন্টিগ্রেশন, SDK ও Driver Support, সেন্সরের কার্যকারিতা, নির্ভরযোগ্যতা, বাজারে প্রাপ্যতা এবং ব্যয়ের বিষয়ও বিবেচনা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আল-হাইআতুল উলয়া। এসব বিষয় বিবেচনায় ZKTeco SLK20R মডেলটি নির্ধারণ করা হয়েছে।
অন্য মডেল কেনার বিষয়ে সতর্কতা
নির্ধারিত ডিভাইসটির পাশাপাশি বাজারে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের USB Fingerprint Device পাওয়া গেলেও সেগুলোর Driver, SDK, Sensor Technology, Fingerprint Processing Algorithm এবং Template Generation ও Matching পদ্ধতিতে পার্থক্য থাকতে পারে।
এ কারণে নির্ধারিত ও পরীক্ষিত ডিভাইসের পরিবর্তে অন্য কোনো মডেল ব্যবহার করলে HEMS-এর সঙ্গে সফটওয়্যার ইন্টিগ্রেশন এবং ফিঙ্গারপ্রিন্ট ডাটার সামঞ্জস্যে কারিগরি সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই মাদরাসাগুলোকে নিজ উদ্যোগে অন্য কোনো ব্র্যান্ড বা মডেলের ফিঙ্গারপ্রিন্ট ডিভাইস না কেনার পরামর্শ দিয়েছে আল-হাইআতুল উলয়া।
বাজারে সাময়িক সংকট, বিকল্প ব্যবস্থার নির্দেশ
এদিকে নির্ধারিত মডেলের ডিভাইস দেশের বিভিন্ন স্থানে সহজে পাওয়া যাচ্ছে না—এমন অভিযোগের বিষয়টিও বিবৃতিতে স্পষ্ট করা হয়েছে।
আল-হাইআতুল উলয়া জানিয়েছে, কোনো নির্দিষ্ট দোকান, ব্যবসায়ী বা বিক্রেতাকে ডিভাইস সরবরাহের জন্য প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে নির্ধারণ করা হয়নি। একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক মহিলা মাদরাসার ডিভাইস সংগ্রহের প্রয়োজন হওয়ায় চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কমে গিয়ে বাজারে সাময়িক সংকট তৈরি হয়েছে।
তবে ডিভাইস সংকটের কারণে নিবন্ধন কার্যক্রম যাতে ব্যাহত না হয়, সে জন্য বিকল্প ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। যেসব মহিলা মাদরাসা এখনো নির্ধারিত ডিভাইস সংগ্রহ করতে পারেনি, তারা ইতোমধ্যে ডিভাইস সংগ্রহ করেছে এমন নিকটস্থ বা একই জেলার অন্য মাদরাসার সহযোগিতায় ছাত্রীদের ফিঙ্গারপ্রিন্ট গ্রহণ করতে পারবে।
এ জন্য সংশ্লিষ্ট মাদরাসা অ্যাডমিনদের জেলার ডিভাইস সংগ্রহ করা মাদরাসাগুলোর তালিকাও দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে আল-হাইআতুল উলয়া।
সংস্থাটি সংশ্লিষ্ট মাদরাসাগুলোকে পারস্পরিক যোগাযোগ ও সমন্বয়ের মাধ্যমে ছাত্রী পরীক্ষার্থীদের ফিঙ্গারপ্রিন্ট গ্রহণের কার্যক্রম সম্পন্ন করার আহ্বান জানিয়েছে।
আর/

