নিজস্ব প্রতিবেদক | হুদহুদ নিউজ
বাংলাদেশের বিদ্যমান রাজনৈতিক ব্যবস্থা ও সাংবিধানিক কাঠামোর সংস্কার ছাড়া কেবল সরকার পরিবর্তনের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদ নির্মূল করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর আল্লামা মামুনুল হক।
রোববার (৯ আগস্ট) বিকেল ৩টায় ফরিদপুরের সদরপুর স্টেডিয়াম মাঠে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস সদরপুর উপজেলা শাখা আয়োজিত নাগরিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
আল্লামা মামুনুল হক বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান সংবিধান ও রাজনৈতিক ব্যবস্থার মধ্যে এমন কিছু কাঠামোগত সমস্যা রয়েছে, যার কারণে ক্ষমতায় যাওয়া যেকোনো ব্যক্তি বা দল একপর্যায়ে ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করার প্রবণতায় জড়িয়ে পড়তে পারে।
তিনি বলেন, “বাংলাদেশে আজ যে সংবিধান আছে, বাংলাদেশে এখন যে রাজনৈতিক ব্যবস্থা আছে—এই ব্যবস্থাটাই এমন যে, এখানে যে যাবে লঙ্কায়, সেই হবে রাবণ। যে ক্ষমতার মসনদে যাবে, কিছুদিন পর আস্তে আস্তে ক্ষমতার স্বাদ পেতে পেতে সেও একটা নতুন হাসিনায় পরিণত হবে।”
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, তারা জিয়াউর রহমানকে ভালোবাসেন এবং খালেদা জিয়ার আধিপত্যবাদবিরোধী দীর্ঘ সংগ্রামকে শ্রদ্ধা করেন। তবে ভবিষ্যতে ক্ষমতায় আসা কেউ যেন আবার স্বৈরাচারী শাসকে পরিণত হতে না পারেন, সে জন্য রাজনৈতিক ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় সংস্কার করা জরুরি বলে মন্তব্য করেন তিনি।
মামুনুল হক বলেন, “আমাদের লড়াই, আমাদের সরকারকে ফ্যাসিবাদের হাত থেকে মুক্ত করার লড়াই। আমরা এখন যে আন্দোলন করছি, এটা সরকার বদলের আন্দোলন নয়; এটা গণভোটের রায় কার্যকর করার আন্দোলন।”
গণভোটের রায় বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, জনগণ যে ম্যান্ডেট দিয়েছে, তার ভিত্তিতে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে। তার দাবি, জুলাই সনদ বাস্তবায়িত হলে প্রধানমন্ত্রীর হাতে ক্ষমতার এককেন্দ্রিকতা কমবে, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বাড়বে এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে সরকারি নিয়োগে নিরপেক্ষতা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
পুলিশ ও প্রশাসনকে কোনো রাজনৈতিক দলের প্রভাবমুক্ত রাখার দাবি জানিয়ে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর বলেন, “পুলিশ রাষ্ট্রের বাহিনী, রাষ্ট্রের থাকবে। প্রশাসন রাষ্ট্রের, প্রশাসন রাষ্ট্রের থাকবে।” সরকারি চাকরিতে দলীয় বিবেচনায় নিয়োগ বন্ধ করে নিরপেক্ষ সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়ারও দাবি জানান তিনি।
জাতীয় সংসদে ১০০ সদস্যের উচ্চকক্ষ প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব তুলে ধরে মামুনুল হক বলেন, উচ্চকক্ষ গঠন করা হলে রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য তৈরি হবে। এর ফলে কোনো প্রধানমন্ত্রী বা সরকার ইচ্ছা করলেই রাষ্ট্রের সব ক্ষমতা এককেন্দ্রিক করতে পারবে না।
গণভোটের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার সমালোচনা করে তিনি বলেন, সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ফলে একটিকে বৈধ এবং অন্যটিকে অবৈধ বলার সুযোগ নেই। জনগণের দেওয়া রায়কে অসম্মান না করার আহ্বান জানান তিনি।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস জনগণের অধিকার আদায়ে রাজপথে রয়েছে উল্লেখ করে মামুনুল হক বলেন, দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় নাগরিক সমাবেশের মাধ্যমে জনগণকে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের বিষয়ে সচেতন করা হচ্ছে। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে এ সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।
সন্ত্রাসের পথ পরিহারের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমরা সন্ত্রাসের পথে বিশ্বাস করি না। ইনশাআল্লাহ জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আগামী দিনে আমরা আমাদের অধিকার আদায় করব।”
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য মিজানুর রহমান মোল্লা। প্রধান মেহমান হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনটির অভিভাবক পরিষদ সদস্য আল্লামা শাহ আকরাম আলী। প্রধান আলোচক ছিলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমাদ।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমিন, মুফতি শরাফাত হোসাইন, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আজিজুর রহমান হেলাল এবং ফরিদপুর জেলা সভাপতি মাওলানা আমজাদ হোসাইন। এ ছাড়া জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন।

