অভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্রক্ষমতা গেছে ইসলাম, দেশ ও মানবতার জন্য অনিরাপদ শক্তির হাতে: রেজাউল করীম

জাতীয় প্রেসক্লাবে ইসলামী যুব আন্দোলনের আলোচনা সভায় বক্তব্য; জুলাই সনদ দ্রুত বাস্তবায়ন ও জুলাই জাদুঘর উন্মুক্ত করার দাবি

by ABDUR RAHMAN
অভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্রক্ষমতা গেছে ইসলাম, দেশ ও মানবতার জন্য অনিরাপদ শক্তির হাতে

অনলাইন ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ

রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত ‘স্বৈরাচার প্রতিরোধ দিবসে চেতনায় জুলাই’ শীর্ষক আলোচনা সভায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম (পীর সাহেব চরমোনাই) বলেছেন, ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে তরুণদের যে প্রত্যাশা ছিল, ফ্যাসিবাদের পতনের পরও তা বাস্তবায়িত হয়নি। অতীতের প্রতিটি গণআন্দোলন ও অভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্রক্ষমতা এমন শক্তির হাতে গেছে, যাদের কাছে ইসলাম, দেশ ও মানবতা নিরাপদ ছিল না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিজ্ঞাপন
banner

রোববার দুপুরে ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এ আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ইতিহাস থেকে শিক্ষা না নেওয়ার কারণেই জাতিকে বারবার হতাশার মুখোমুখি হতে হয়েছে। “শিয়ালের কাছে মুরগি বর্গা দেওয়ার মতো ভুল” বারবার করার ফলেই জনগণের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। তিনি বলেন, দেশের ভাগ্যের পরিবর্তনের জন্য ইসলামকে রাষ্ট্রক্ষমতায় প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করতে হবে। তাঁর ভাষায়, ইসলামি শরিয়াহভিত্তিক শাসনই প্রকৃত আদর্শ শাসনব্যবস্থা।

পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, জুলাই আন্দোলনের উত্তাল দিনগুলোতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ নিজেদের রাজনৈতিক অস্তিত্বের ঝুঁকি নিয়েও রাজপথে ছিল। ১৯ জুলাই বাইতুল মোকাররম এলাকায় ইসলামী যুব আন্দোলনের সমাবেশ ও মিছিলে তিনি নিজে এবং দলের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। সে সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুলিতে বহু নেতাকর্মী আহত হন এবং তাদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালানো হয় বলে তিনি দাবি করেন।

তিনি আরও বলেন, সেদিন তিনি এবং দলের শীর্ষ নেতারা গুলির মুখেও রাজপথ ছাড়েননি। তখনই তিনি বলেছিলেন, যত শক্তিশালীই হোক, ফ্যাসিবাদের পতন হবেই। পরবর্তীতে সেই পতন ঘটলেও আন্দোলনের মূল লক্ষ্য এখনো অর্জিত হয়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সভাপতি আতিকুর রহমান মুজাহিদ। সঞ্চালনা করেন সংগঠনের জয়েন্ট সেক্রেটারি জেনারেল মুফতি রহমাতুল্লাহ বিন হাবিব এবং অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা ইলিয়াস হাসান।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, ১৯ জুলাই ২০২৪ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত যুব আন্দোলনের সমাবেশে পুলিশের গুলিতে শতাধিক নেতাকর্মী আহত হন। তাঁর দাবি, জুলাই আন্দোলনে দলীয় প্রধান হিসেবে পীর সাহেব চরমোনাই যেভাবে সরাসরি রাজপথে নেতৃত্ব দিয়েছেন, অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের প্রধানকে সেভাবে দেখা যায়নি।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, বর্তমানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের কৃতিত্ব নেওয়ার প্রতিযোগিতায় নেমেছে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, ঐকমত্য কমিশনে সংস্কার প্রস্তাবের সময় এনসিপি বিভিন্ন বিষয়ে বিএনপির অবস্থানকে সমর্থন করলেও পরে নির্বাচনের প্রসঙ্গে ভিন্ন অবস্থান নেওয়ায় রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

জুলাই সনদের বিষয়ে গাজী আতাউর রহমান বলেন, নির্বাচনের আগে জুলাই সনদে স্বাক্ষর করে পরে তা বাস্তবায়নে গড়িমসি করা জাতির সঙ্গে প্রতারণার শামিল। তিনি দ্রুত জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান। অন্যথায় দেশ, জাতি ও ইসলামের স্বার্থে আবারও রাজপথে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন।

সভায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যক্ষ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল-মাদানী বলেন, দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্তরে এখনো ভারতপন্থী প্রভাবশালী গোষ্ঠীর প্রভাব রয়েছে। দেশ ও ইসলামের স্বার্থে এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মুহাম্মাদ নেছার উদ্দীন বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর বিএনপির মধ্যে পতিত স্বৈরাচারের কিছু বৈশিষ্ট্য দেখা যাচ্ছে। তিনি বলেন, ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগের মাধ্যমে অর্জিত প্রত্যাশা বাস্তবায়নে গড়িমসি করলে তার পরিণতি শুভ হবে না। তিনি জুলাই মাসের মধ্যেই জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবি জানান।

সহকারী মহাসচিব কে এম আতিকুর রহমান বলেন, স্বৈরাচারের প্রভাব এখনো রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলোতে রয়ে যাওয়ায় কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন দৃশ্যমান হয়নি। প্রকৃত পরিবর্তনের জন্য আল্লাহভীরু, সৎ ও স্বচ্ছ নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

সভাপতির বক্তব্যে ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সভাপতি আতিকুর রহমান মুজাহিদ বলেন, জুলাই আন্দোলন প্রমাণ করেছে যে দেশের তরুণদের মতামত উপেক্ষা করে ক্ষমতায় টিকে থাকা সম্ভব নয়। তিনি দ্রুত জুলাই সনদ কার্যকর এবং জুলাই জাদুঘর জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করার দাবি জানান।

এ সময় আরও বক্তব্য দেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ওবায়দুল্লাহ আল মামুন, যুব আন্দোলনের দপ্তর সম্পাদক শফিকুল ইসলাম, প্রচার সম্পাদক মুহাম্মাদ আবু বকর সিদ্দীক, আইন ও মানবাধিকার সম্পাদক অ্যাডভোকেট বায়েজীদ হোসাইন, নগর উত্তর সভাপতি হাম্মাদ বিন মোশাররফ, নগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা নেছার উদ্দিন হুজাইফ এবং বৈষম্যবিরোধী কওমী ছাত্র আন্দোলনের সদস্যসচিব মাকসুদুর রহমান জুনায়েদসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

আর/

banner

এ জাতীয় আরো সংবাদ