অনলাইন ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ
রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার শ্যামপুর এলাকায় একটি মুসলিম পরিবার দীর্ঘ সাত বছর ধরে ধর্মীয় হয়রানি, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং জোরপূর্বক কাদিয়ানী মতবাদ গ্রহণে চাপের মুখে রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, স্থানীয় কাদিয়ানী সম্প্রদায়ের একটি প্রভাবশালী অংশ পরিকল্পিতভাবে তাদের ধর্মান্তরের চেষ্টা চালিয়ে আসছে। এতে রাজি না হওয়ায় বিভিন্ন সময় হামলা, প্রাণনাশের হুমকি এবং পৈতৃক বসতভিটা ছেড়ে চলে যাওয়ার চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে।
সম্প্রতি ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য শুহাদের সঙ্গে কথা বলে, স্থানীয় একাধিক বাসিন্দার বক্তব্য, সংশ্লিষ্ট তথ্য-উপাত্ত ও নথিপত্র পর্যালোচনার ভিত্তিতে এসব অভিযোগ সামনে এসেছে।
পরিবারটির ভাষ্য অনুযায়ী, তাদের বর্তমান বসতভিটার জমি শুহাদের প্রয়াত বাবা স্থানীয় গফুর নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে বৈধভাবে ক্রয় করেছিলেন। গফুর কাদিয়ানী সম্প্রদায়ের অনুসারী হলেও শুহাদের বাবা ছিলেন ধর্মপ্রাণ মুসলিম। তিনি নিয়মিত মসজিদে নামাজ আদায় করতেন এবং স্থানীয় আলেম-ওলামাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতেন বলে এলাকাবাসীর একাংশ জানিয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, বাবার মৃত্যুর পর স্থানীয় কাদিয়ানী সম্প্রদায়ের কয়েকজন সদস্য দাবি করতে শুরু করেন, যেহেতু জমিটির পূর্ব মালিক কাদিয়ানী ছিলেন, তাই ওই ভিটায় বসবাস করতে হলে বর্তমান বাসিন্দাদেরও কাদিয়ানী মতবাদ গ্রহণ করতে হবে। অন্যথায় সেখানে বসবাসের অধিকার নেই বলে তাদের জানানো হয়।
এরপর থেকেই পরিবারটির ওপর ধারাবাহিকভাবে মানসিক চাপ ও ভয়ভীতি সৃষ্টি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ। তাদের দাবি, প্রকাশ্যে ‘ধর্মে আয়, নইলে ভিটা ছাড়’—এ ধরনের হুমকি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে পরিবারের বৃদ্ধা নারী সদস্যকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা, সন্তানদের ওপর হামলা এবং একাধিকবার প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
পরিবারটির আরও অভিযোগ, তাদের বাড়ির পাশের কাদিয়ানী কবরস্থানে যাতায়াতের অজুহাতে ব্যক্তিগত উঠান ব্যবহার করা হচ্ছে এবং ধীরে ধীরে জমির ওপরও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চলছে। এ বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে উভয় পক্ষের মধ্যে বিরোধ রয়েছে।
শুহাদ দাবি করেন, সম্প্রতি কাদিয়ানী সম্প্রদায়ের কথিত ‘ন্যাশনাল আমির’ আব্দুল আউয়াল খান শ্যামপুর সফর করেন। ওই সফরে কবরস্থানের রাস্তা ও তাদের পরিবারের বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। এর কিছুদিন পর তার ওপর পরিকল্পিত হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। তার দাবি, হামলায় অভিযুক্ত কয়েকজন ওই সফরের সময় আমিরের নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, নিরাপত্তা চেয়ে তারা একাধিকবার বদরগঞ্জ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) ও লিখিত অভিযোগ করলেও কার্যকর প্রতিকার পাননি। পরে ইউনিয়ন পরিষদে বিচার চাইতে গেলে এক ইউপি সদস্য তাদের কাছে মুসলিম হওয়ার এফিডেভিট চেয়েছেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। বিষয়টিকে তারা বৈষম্যমূলক ও অপমানজনক বলে উল্লেখ করেছেন।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। এছাড়া প্রশাসনের পক্ষ থেকেও অভিযোগগুলোর বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি।
ভুক্তভোগী পরিবার সুষ্ঠু তদন্ত, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা এবং নিজেদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।
আর/

