পল্লী বিদ্যুতের অবহেলায় দগ্ধ শিশু রায়হানকে দেখতে বার্ন ইউনিটে প্রিন্সিপাল মাওলানা রাকীবুল ইসলাম

দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, শিশুর সর্বোচ্চ চিকিৎসা ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ক্ষতিপূরণের দাবি

by Master Fatih
বার্ন ইউনিটে দগ্ধ শিশু রায়হানের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিচ্ছেন প্রিন্সিপাল মাওলানা রাকীবুল ইসলাম।

নিজেস্ব প্রতিবেদক। হুদহুদ নিউজ

পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের অবহেলা ও দায়িত্বহীনতার অভিযোগে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে গুরুতর দগ্ধ শিশু রায়হান মিয়াকে দেখতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিট পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক এবং বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নরসিংদী-৩ আসনে ১১ দল সমর্থিত রিকশা মার্কার প্রার্থী প্রিন্সিপাল মাওলানা রাকীবুল ইসলাম।

বিজ্ঞাপন
banner

বুধবার (৮ জুলাই) তিনি বার্ন ইউনিটে গিয়ে শিশুটির শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন, চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেন। এ সময় তিনি রায়হানের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।

জানা গেছে, গত ২ জুলাই নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার পুটিয়া ইউনিয়নের কুমরাদী গ্রামে মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনা ঘটে। রায়হান স্থানীয় পান দোকানি আব্দুস সাত্তার মিয়ার ছেলে এবং কুমরাদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ঘটনার প্রায় তিন দিন আগে রাস্তার পাশে বিদ্যুতের খুঁটি স্থাপনের সময় ১১ হাজার ভোল্টের একটি বিদ্যুৎবাহী তার ছিঁড়ে নিচু হয়ে ঝুলে ছিল। বিষয়টি একাধিকবার সংশ্লিষ্ট পল্লী বিদ্যুৎ অফিসকে মৌখিকভাবে জানানো হয়। পরে লিখিত অভিযোগও দাখিল করা হলেও কর্তৃপক্ষ তারটি অপসারণ কিংবা বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।

ঘটনার দিন স্কুল ছুটি শেষে বাড়ি ফেরার পথে অসাবধানতাবশত সচল ওই বিদ্যুৎবাহী তারে জড়িয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয় রায়হান। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে নরসিংদী জেলা হাসপাতালে এবং পরে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করেন।

বর্তমানে রায়হান বার্ন ইউনিটের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন রয়েছে। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিদ্যুতের তীব্র দগ্ধতায় তার দুই হাত মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং তার শারীরিক অবস্থা এখনও সংকটাপন্ন।

বার্ন ইউনিটে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রিন্সিপাল মাওলানা রাকীবুল ইসলাম বলেন, একটি নিষ্পাপ শিশুকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চরম অবহেলার নির্মম পরিণতি ভোগ করতে হচ্ছে। স্থানীয় জনগণ একাধিকবার মৌখিক ও লিখিতভাবে অভিযোগ জানানোর পরও যদি সময়মতো ব্যবস্থা নেওয়া হতো, তাহলে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব ছিল।

তিনি এ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, রায়হানের সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানান।

এ সময় বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিসের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক মাওলানা বোরহান উদ্দীন ইমাম, ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি জাকারিয়া আল ফারুকী, বাংলাদেশ খেলাফত ছাত্র মজলিসের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি মুহাম্মাদ কামাল উদ্দীন, সাবেক সভাপতি পরিষদ সদস্য আশরাফুল ইসলাম সাদ এবং বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিস ঢাকা মহানগর দক্ষিণের দায়িত্বশীল সাইফুল ইসলাম লিটন উপস্থিত ছিলেন।

banner

এ জাতীয় আরো সংবাদ