জামায়াতে শৃঙ্খলা, জবাবদিহিতা ও দুর্নীতিমুক্ত রাজনীতির ওপর গুরুত্বারোপ করলেন আমির

স্থানীয় নির্বাচনে সৎ ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের প্রার্থী করার আহ্বান; সংগঠনের লক্ষ্য আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন বলেও মন্তব্য

by ABDUR RAHMAN
জামায়াতে শৃঙ্খলা, জবাবদিহিতা ও দুর্নীতিমুক্ত রাজনীতির ওপর গুরুত্বারোপ করলেন আমির

অনলাইন ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জামায়াতের সাংগঠনিক শৃঙ্খলা একটি বিশেষ নেয়ামত। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সংগঠনের প্রতিটি স্তরে নীতি-নৈতিকতা, শৃঙ্খলা এবং আল্লাহর কাছে জবাবদিহিতার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে অনুসরণ করা হয়, যা অন্য কোনো সংগঠনে দেখা যায় না। তিনি বলেন, একজন মানুষের দীর্ঘদিনের সুনাম ও অর্জনও একটি ছোট ভুল বা দুর্ঘটনায় ম্লান হয়ে যেতে পারে।

বিজ্ঞাপন
banner

শনিবার (৪ জুলাই) রাজধানীর মগবাজারের আল ফালাহ মিলনায়তনে জেলা ও মহানগর কর্মপরিষদের সদস্যদের অংশগ্রহণে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী শিক্ষাশিবিরের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

স্থানীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সমাজের সৎ, যোগ্য ও মানবিক ব্যক্তিদের নেতৃত্বে নিয়ে আসতে হবে। প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে হালাল উপার্জন, সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা এবং নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতাকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তার মতে, এসব গুণাবলি বিবেচনায় এনে দায়িত্বশীল নেতৃত্ব গড়ে তুলতে হবে, তিনি যে স্তরের জনশক্তিই হোন না কেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, যদি সংগঠনের লক্ষ্য কেবল ক্ষমতায় যাওয়া হয়, তবে তার পরিধি দুনিয়াব্যাপী সীমাবদ্ধ থাকবে। কিন্তু লক্ষ্য যদি আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন হয়, তাহলে তার ব্যাপ্তি হবে আখিরাত পর্যন্ত। তিনি আরও বলেন, অন্যের ত্রুটি সংশোধনের আগে প্রত্যেককে নিজের ভেতরের দুর্বলতা ও পশুত্ব দমন করার চেষ্টা করতে হবে।

তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (সা.)-এর সুন্নাহ ও আল্লাহর কিতাবকে যারা দৃঢ়ভাবে ধারণ করেন, তারা কখনো পথভ্রষ্ট হন না। সমাজ, সংগঠন ও রাষ্ট্র গঠনে নারী-পুরুষের সমন্বিত ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি মায়েদের যথাযথ সম্মান দেওয়া, তাদের কাজে সহযোগিতা করা এবং দ্বীনের কাজে সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানান।

বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, আল্লাহকে একীন ও ইখলাসের সঙ্গে ডাকতে হবে। একীন ও ইখলাস একত্রে থাকলে বিভক্তির কোনো সুযোগ থাকে না।

উপমহাদেশের ইতিহাস প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, ১৯৪৭ সালে মুসলমানদের নেতৃত্বে আন্দোলনের মাধ্যমে দেশ স্বাধীন হয়েছিল। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ৮৬ বছরের পথচলায় অসংখ্য নেক বান্দা সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। তাদের ত্যাগ, কোরবানি ও আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, আল্লাহর পথে দেওয়া সেই ত্যাগের প্রতিদান এ জাতি একদিন লাভ করবে, ইনশাআল্লাহ।

তিনি আরও দাবি করেন, উপমহাদেশের চারটি দেশের মধ্যে তাদের সংগঠনই সবচেয়ে বড় পরীক্ষার মুখোমুখি হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, ভারতে মুসলমানরা নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে বসবাস করছেন এবং বিশেষ করে ভারত-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে মুসলিম জনগোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে নানা সংকটের মুখোমুখি।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সংরক্ষিত নারী আসনসহ তাদের দল বর্তমানে ৯০টি আসন নিয়ে সংসদে প্রতিনিধিত্ব করছে। জনগণ দুর্নীতিমুক্ত একটি দলকে দায়িত্ব দিতে চেয়েছিল বলেও তিনি মন্তব্য করেন। আল্লাহ তাদের যতটুকু দায়িত্ব দেওয়ার উপযুক্ত মনে করেছেন, ততটুকুই দায়িত্ব দিয়েছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিন দিনব্যাপী এই শিক্ষাশিবিরে কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ড. মাওলানা ছামিউল হক ফারুকী সঞ্চালকের দায়িত্ব পালন করেন। বিভিন্ন অধিবেশনে সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মাছুম, ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ, মাওলানা আবদুল হালিম, অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়েরসহ কেন্দ্রীয় নেতারা বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা উপস্থাপন করেন।

আর /

banner

এ জাতীয় আরো সংবাদ