অনলাইন ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে ‘২য় বাংলাদেশ ব্যাটালিয়ন’ গঠন এবং এর চারটি কোম্পানির নাম ইসলামের প্রথম চার খলিফার নামে রাখার তথ্য প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে ভারতের কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। এসব প্রতিবেদনে নতুন ব্যাটালিয়নের নামকরণকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ‘ইসলামীকরণ’-এর ইঙ্গিত হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
ভারতের নবভারত টাইমস এক প্রতিবেদনের শিরোনামে প্রশ্ন তুলেছে, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কি একটি ‘ইসলামিক আর্মি’ গঠনের পথে এগোচ্ছে? একইভাবে নর্থইস্ট নিউজ নতুন ব্যাটালিয়নের চারটি কোম্পানির নাম হযরত আবু বকর (রা.), হযরত উমর (রা.), হযরত উসমান (রা.) ও হযরত আলী (রা.)-এর নামে রাখার বিষয়টি উল্লেখ করে মন্তব্য করেছে, এটি সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরে ‘ইসলামীকরণ’ বৃদ্ধির একটি লক্ষণ।
তবে সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সশস্ত্র বাহিনীতে ইউনিট, রেজিমেন্ট, ব্যাটালিয়ন কিংবা রণধ্বনির নামকরণে ইতিহাস, সংস্কৃতি, ধর্মীয় ঐতিহ্য বা জাতীয় বীরদের নাম ব্যবহার নতুন কোনো বিষয় নয়। অনেক দেশই নিজস্ব ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও পরিচয়ের প্রতিফলন ঘটিয়ে সামরিক ইউনিটগুলোর নাম নির্ধারণ করে থাকে।
এ প্রসঙ্গে ভারতীয় সেনাবাহিনীর উদাহরণও সামনে আসে। দেশটির বিভিন্ন কোর ও ইউনিটের নাম ব্রহ্মাস্ত্র কোর, সুদর্শন চক্র কোর, ত্রিশক্তি কোর, বজ্র কোর এবং চেতক কোরসহ হিন্দু ধর্মীয় ও পৌরাণিক ঐতিহ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন প্রতীকের নামে রাখা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন রেজিমেন্টের রণধ্বনিতেও হিন্দু দেব-দেবী, পৌরাণিক বীর এবং সংস্কৃত ঐতিহ্যের প্রভাব দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যমান।
এর আগে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ফেসবুক পেজে গত ১৮ জুন প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সেনাবাহিনী প্রধান বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমিতে (বিএমএ) ‘২য় বাংলাদেশ ব্যাটালিয়ন’-এর উদ্বোধন করেন। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রশিক্ষণরত অফিসার ক্যাডেটদের পেশাগত দক্ষতা, নেতৃত্বের গুণাবলি এবং প্রশিক্ষণের সামগ্রিক মানোন্নয়নের লক্ষ্যেই ‘১ম বাংলাদেশ ব্যাটালিয়ন’-এর পাশাপাশি নতুন ব্যাটালিয়নটি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।
দ্য ডিসেন্ট-এর প্রতিবেদনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দুটি সূত্রের বরাত দিয়ে দাবি করা হয়েছে, নতুন ব্যাটালিয়নের অধীনে চারটি কোম্পানি গঠন করা হয়েছে। কোম্পানিগুলোর নাম রাখা হয়েছে ইসলামের প্রথম চার খলিফা—হযরত আবু বকর (রা.), হযরত উমর (রা.), হযরত উসমান (রা.) এবং হযরত আলী (রা.)-এর নামে। তবে এসব তথ্য সেনাবাহিনীর আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়নি।
সূত্রগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, এর আগে ‘১ম বাংলাদেশ ব্যাটালিয়ন’-এ ছয়টি কোম্পানি ছিল, যেগুলোর নামকরণ করা হয়েছিল বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বীরদের নামে। নতুন ব্যাটালিয়ন যুক্ত হওয়ায় প্রশিক্ষণ কাঠামো আরও সম্প্রসারিত হয়েছে।
একই সূত্র আরও জানিয়েছে, ভবিষ্যতে ‘২য় বাংলাদেশ ব্যাটালিয়ন’-এ আরও দুটি পূর্ণাঙ্গ নারী কোম্পানি যুক্ত করার প্রস্তাব রয়েছে। প্রস্তাবিত কোম্পানিগুলোর নাম হযরত ফাতিমা (রা.) ও হযরত আয়েশা (রা.)-এর নামে রাখার বিষয়টি এখনও অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমিতে প্রশিক্ষণ গ্রহণকারী ক্যাডেটের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় অতিরিক্ত একটি ব্যাটালিয়ন গঠনের প্রয়োজন দেখা দেয়। নতুন ব্যাটালিয়ন প্রতিষ্ঠার পেছনে এটিকেই মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
সূত্র: দ্য ডিসেন্ট, নবভারত টাইমস, নর্থইস্ট নিউজ
আর/

