ভোটের পর পশ্চিমবঙ্গে মুসলিমদের ওপর হামলা-ভাঙচুরের অভিযোগ, APCR-এর প্রতিবেদন

নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় অন্তত ৩৪টি ঘটনার দাবি; মুসলিম পরিবার, ব্যবসা ও ধর্মীয় স্থাপনায় হামলার অভিযোগে উদ্বেগ প্রকাশ মানবাধিকার সংস্থার

by ABDUR RAHMAN
ভোটের পর পশ্চিমবঙ্গে মুসলিমদের ওপর হামলা-ভাঙচুরের অভিযোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় মুসলিম সম্প্রদায়ের ওপর হামলা, ভাঙচুর ও ভয়ভীতির অভিযোগ তুলে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে মানবাধিকার সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন ফর প্রোটেকশন অফ সিভিল রাইটস (APCR)।

বিজ্ঞাপন
banner

সংগঠনটির দাবি, নির্বাচন ফল ঘোষণার পর ৪ থেকে ৭ মে পর্যন্ত রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় অন্তত ৩৪টি সহিংস ঘটনার নথি তারা সংগ্রহ করেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এসব ঘটনায় মুসলিম পরিবারের বাড়িঘর, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় স্থাপনায় হামলার অভিযোগ রয়েছে। কিছু ঘটনায় প্রাণহানি ও আহত হওয়ার ঘটনাও উল্লেখ করা হয়েছে। সংগঠনটি নিরপেক্ষ তদন্ত, ক্ষতিগ্রস্তদের নিরাপত্তা এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে।

এদিকে মানবাধিকার পর্যবেক্ষণমূলক উদ্যোগ ইন্ডিয়া পারসিকিউশন ট্র্যাকার-এর ২০২৬ সালের জানুয়ারি-এপ্রিল পর্যালোচনায় দাবি করা হয়েছে, ওই সময়ে ধর্মীয় বিদ্বেষমূলক সহিংসতায় অন্তত ১৭ জন মুসলিম নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে ১৩ জনের মৃত্যুর জন্য উগ্র হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠীর সদস্যদের দায়ী করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে মসজিদ, দরগাহ ও অন্যান্য ধর্মীয় স্থাপনা উচ্ছেদ বা ভাঙার ঘটনাও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তবে প্রতিটি ঘটনার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট রাজ্য প্রশাসন বিভিন্ন সময় আদালতের নির্দেশ, অবৈধ নির্মাণ উচ্ছেদ বা প্রশাসনিক কারণের কথা জানিয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়ার সুপুরডিহি গ্রামের ঠেলাগাড়িতে বাসনপত্র বিক্রেতা দরিদ্র মুসলিম আকবর ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগানধারী জঙ্গি হিন্দুদের হাতে প্রাণ দিয়ে অসহনীয় যন্ত্রণা নিয়ে বেঁচে থাকার হাত থেকে মুক্তি পেয়েছেন। পুরুলিয়ায় আরেক হতভাগ্য মুসলিম মাইমুর উগ্রবাদী হিন্দুদের হামলায় গুরুতর আহত হয়ে এখন বেঁচে থাকার শেষ চেষ্টা করছেন।

ভীতসন্ত্রস্ত মাইমুর পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতার সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার বর্ণনা করে বলেন, “হামলার মুহূর্তে আমি শুধু বাঁচতে চেয়েছিলাম। ওরা ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি দিয়ে আমাকে ধাওয়া করছিল। আমি কোথায় লুকাবো, তা বুঝতে পারছিলাম না। থানায় গেলে যে পুলিশ আমাকে সাহায্য করবে না, সেটা নিশ্চিত ছিলাম। তারপরও থানায় গিয়ে উঠলাম। পুলিশ তখন আমাকে নিরাপত্তা দেওয়ার পরিবর্তে গরু পাচার মামলার আসামি বানিয়ে দিল। বুঝতে পারলাম, আমাদের মুসলিম পরিচয় নিয়ে ভারতে বসবাস করা সবচেয়ে বড় অপরাধ।”

মাইমুরই এখন ভারতের ২৫ কোটি মুসলিমের জীবনের প্রতিচ্ছবি। অসহনীয় যন্ত্রণা নিয়ে জীবন পার হচ্ছে দেশটির মুসলিমদের। হতাশা আর আতঙ্ক এখন তাদের নিত্যদিনের সঙ্গী।

৪৫ দিনে ২৩টি মুসলিম ধর্মীয় স্থাপনা ভাঙা, অথবা ১ হাজার ৮৮০ জনকে বাংলাদেশে ‘পুশব্যাক’ করার মতো ঘটনাও ঘটেছে, যা এখনো চলমান।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রদায়িক সহিংসতা, সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা এবং আইনের সমান প্রয়োগের বিষয়টি ভারতে রাজনৈতিক ও মানবাধিকার বিতর্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে। এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং আইনের শাসন নিশ্চিত করার ওপর জোর দিচ্ছে বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা।

আর/

banner

এ জাতীয় আরো সংবাদ