অনলাইন ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ
ঢাকার মগবাজারে অবস্থিত আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন পোস্টে এ সিদ্ধান্তের পেছনে রাজনৈতিক ও আন্তর্জাতিক প্রভাবের অভিযোগ
গত ২৭ মে হাসপাতালটিতে চিকিৎসাধীন ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর তদন্ত কমিটি গঠন করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর (DGHS)। তদন্ত শেষে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। কর্তৃপক্ষের জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় ১১ জুন হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিল করা হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ভাষ্য অনুযায়ী, তদন্তে অক্সিজেন সরবরাহে ঘাটতি ও প্রাতিষ্ঠানিক অবহেলার বিষয় উঠে এসেছে। লাইসেন্স বাতিলের পর নতুন রোগী ভর্তি ও চিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে বিদ্যমান রোগীদের অন্যান্য হাসপাতালে স্থানান্তরের ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
এদিকে সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত একাধিক পোস্টে দাবি করা হয়েছে, আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজে অধ্যয়নরত বিপুল সংখ্যক কাশ্মীরি শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ এই সিদ্ধান্তের কারণে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। তবে শিক্ষার্থীর সুনির্দিষ্ট সংখ্যা বা তাদের ডিগ্রি স্বীকৃতি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশিত হয়নি।
তবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আদ-দ্বীন ফাউন্ডেশনের সব প্রতিষ্ঠান নয়, কেবল মগবাজার শাখার হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে মেডিকেল শিক্ষার্থীদের ক্লিনিক্যাল ক্লাস ও ইন্টার্নশিপ কীভাবে সম্পন্ন হবে সে বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়েছে চিকিৎসা শিক্ষা অধিদপ্তর।
সামাজিক মাধ্যমে আরও দাবি করা হয়েছে যে, হাসপাতালটির বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং এর মাধ্যমে নির্দিষ্ট একটি রাজনৈতিক শক্তিকে দুর্বল করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে এ ধরনের অভিযোগের পক্ষে কোনো সরকারি নথি, আদালতের পর্যবেক্ষণ বা স্বাধীন তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিলের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদনও করা হয়েছে। রিটে লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত ও সংশ্লিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, ঘটনাটির আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া এখনও চলমান। ফলে হাসপাতালটির ভবিষ্যৎ, শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপ এবং স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমের ওপর চূড়ান্ত প্রভাব সম্পর্কে সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও আদালতের অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
আর/

