আন্তর্জাতিক ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ
স্কটল্যান্ডের জনসংখ্যায় মুসলমানরা এখনও সংখ্যালঘু হলেও দেশটিতে তাদের উপস্থিতি ও প্রভাব ক্রমেই দৃশ্যমান হয়ে উঠছে। শিক্ষা, ব্যবসা, রাজনীতি এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডে মুসলিম সম্প্রদায়ের সক্রিয় অংশগ্রহণ স্কটল্যান্ডের বহুসাংস্কৃতিক সমাজে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
২০২২ সালের সরকারি আদমশুমারির তথ্য অনুযায়ী, স্কটল্যান্ডে মুসলমানের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ১৯ হাজার ৮৭২ জনে, যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ২ দশমিক ২ শতাংশ। ২০০১ সালে এই সংখ্যা ছিল ৪২ হাজার ৫৫৭ এবং ২০১১ সালে ৭৬ হাজার ৭৩৭। দুই দশকে মুসলিম জনসংখ্যা প্রায় তিন গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
স্কটল্যান্ডে ইসলামের ইতিহাসও বেশ পুরোনো। ১৮৫৮-৫৯ সালে ভারতের বোম্বে (বর্তমান মুম্বাই) থেকে আসা ওয়াজির বেগ এডিনবরা বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাশাস্ত্র অধ্যয়ন করেন। তিনিই দেশটিতে পরিচিত প্রথম মুসলিম ব্যক্তি হিসেবে ইতিহাসে উল্লেখিত।
বর্তমানে স্কটল্যান্ডের সবচেয়ে বড় মুসলিম জনপদ গড়ে উঠেছে গ্লাসগো শহরে। সেখানে প্রায় ৪৯ হাজার মুসলমান বসবাস করেন। রাজধানী এডিনবরাতেও ১৮ হাজারের বেশি মুসলিম রয়েছেন। মোট মুসলিম জনসংখ্যার প্রায় ৬০ শতাংশ এই দুই শহরেই বাস করেন।
জাতিগত বৈচিত্র্যের দিক থেকেও স্কটিশ মুসলিম সমাজ বেশ সমৃদ্ধ। মুসলমানদের মধ্যে পাকিস্তানি বংশোদ্ভূতদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। এছাড়া আরব, আফ্রিকান ও বাংলাদেশি সম্প্রদায়েরও উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি রয়েছে। একই সঙ্গে দুই হাজারের বেশি স্থানীয় শ্বেতাঙ্গ স্কটিশ নাগরিক ইসলাম গ্রহণ করেছেন।
শিক্ষাক্ষেত্রে স্কটিশ মুসলমানদের অর্জনও উল্লেখযোগ্য। বিভিন্ন জরিপে দেখা গেছে, উচ্চশিক্ষায় মুসলমানদের অংশগ্রহণ জাতীয় গড়ের চেয়ে বেশি। পাশাপাশি ব্যবসা ও উদ্যোক্তা কার্যক্রমেও তাদের সক্রিয় ভূমিকা রয়েছে।
রাজনীতিতেও মুসলমানরা গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করেছেন। দেশটির সাবেক ফার্স্ট মিনিস্টার হামজা ইউসুফ এবং লেবার পার্টির নেতা আনাস সারওয়ার মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্বকারী উল্লেখযোগ্য রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। এছাড়া মুসলিম কাউন্সিল অব ব্রিটেনের প্রথম নারী ও সর্বকনিষ্ঠ সেক্রেটারি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন জারা মোহাম্মদ।
স্কটিশ সংস্কৃতির সঙ্গেও মুসলিম পরিচয়ের এক ধরনের মেলবন্ধন তৈরি হয়েছে। ‘ইসলামিক টারটান’ নামে বিশেষ একটি নকশা তারই উদাহরণ, যা স্কটিশ মুসলমানদের স্বতন্ত্র পরিচয়ের প্রতীক হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।
সাম্প্রতিক আদমশুমারির তথ্য বলছে, স্কটল্যান্ডের অর্ধেকেরও বেশি মানুষ নিজেদের কোনো ধর্মের অনুসারী হিসেবে পরিচয় দেন না। এমন বাস্তবতায় মুসলমানরা নিজেদের ধর্মীয় পরিচয় অটুট রেখে একই সঙ্গে দেশটির সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অগ্রগতিতে সক্রিয় অবদান রেখে চলেছেন।
দেড় শতাব্দীরও বেশি আগে একজন মুসলিম শিক্ষার্থীর আগমনের মাধ্যমে যে যাত্রা শুরু হয়েছিল, আজ তা স্কটল্যান্ডে একটি প্রাণবন্ত, বৈচিত্র্যময় এবং ক্রমবর্ধমান মুসলিম সমাজে রূপ নিয়েছে। শিক্ষা, সংস্কৃতি, ব্যবসা ও জনজীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাদের অবদান দেশটির বহুসাংস্কৃতিক পরিচয়কে আরও সমৃদ্ধ করছে।
আর/

