অর্থনৈতিক চাপে ইরানে ফিকে ঈদ, কমছে কুরবানির আয়োজন

নিষেধাজ্ঞা ও মূল্যস্ফীতিতে সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে লাল মাংস

by ABDUR RAHMAN
অর্থনৈতিক চাপে ইরানে ফিকে ঈদ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ

অর্থনৈতিক সংকট, উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং দীর্ঘদিনের মার্কিন নিষেধাজ্ঞার প্রভাবে ইরানে এবার ঈদুল আজহার আমেজ অনেকটাই ম্লান হয়ে পড়েছে। দেশটির সাধারণ মানুষের বড় একটি অংশের কাছে কুরবানির মাংস এখন প্রায় বিলাসী পণ্যে পরিণত হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
banner

ঈদুল আজহা উপলক্ষে ইরানের বিভিন্ন শহরে অনুমোদিত পশু বিক্রয় ও কুরবানি কেন্দ্র চালু করা হলেও বাজারে মাংসের ঊর্ধ্বগতির কারণে স্বস্তি মিলছে না সাধারণ ক্রেতাদের। সরকার নির্ধারিত বিক্রয়কেন্দ্রে তুলনামূলক কম দামে মাংস বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া হলেও খোলা বাজারে দাম কয়েক গুণ বেশি থাকছে।

তেহরান সিটি কর্পোরেশনের তথ্য অনুযায়ী, নির্ধারিত কেন্দ্রে প্রতি কেজি কুরবানির মাংস ৭৪ লাখ রিয়ালে বিক্রি হচ্ছে। তবে বিভিন্ন এলাকায় এই একই মাংসের দাম আরও অনেক বেশি নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

ইরানে বর্তমানে শ্রমিকদের সর্বনিম্ন মাসিক আয় ১০০ ডলারেরও কম। ফলে অনেক পরিবার নিয়মিত মাংস কেনা প্রায় বন্ধ করে দিয়েছে। তেহরানের এক বাসিন্দা জানান, তারা এখন খুব সীমিত পরিমাণে মাংস কিনতে পারেন এবং বেশিরভাগ সময় বিকল্প খাবারের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।

তার ভাষায়, আগে যেখানে নিয়মিত লাল মাংস খাওয়া হতো, এখন সেখানে মানুষ মুরগি, ডিম কিংবা ডালজাতীয় খাবারের দিকে ঝুঁকছে। কিন্তু এসব পণ্যের দামও আগের তুলনায় অনেক বেড়ে গেছে।

দেশটির মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণ খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত এক বছরে লাল মাংসের চাহিদা প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। বাজারে সরবরাহ থাকলেও মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ায় বিক্রি আশানুরূপ হচ্ছে না।

রাষ্ট্র-সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, সরকার মূল্য নিয়ন্ত্রণে চেষ্টা চালিয়ে গেলেও অর্থনৈতিক চাপের কারণে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমছে না। এমন পরিস্থিতিতে এবারের ঈদ অনেক পরিবারের জন্য আনন্দের চেয়ে বাস্তবতার কঠিন হিসাবই বেশি হয়ে উঠেছে।

সূত্র: আল-জাজিরা, মেহর, ইলনা

banner

এ জাতীয় আরো সংবাদ