মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা: ইরান-ইসরাইল টানাপোড়েনে কি বড় যুদ্ধের পথে বিশ্ব?

রাজনীতি বনাম সামরিক শক্তি—সমাধান কোথায়, নাকি সংঘাত আরও দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে?

by ABDUR RAHMAN

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ

মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল আকার ধারণ করছে, যেখানে ইরান, হিজবুল্লাহ এবং ইসরাইল—তিন পক্ষের কাছেই সংঘাতটি এখন অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই হিসেবে প্রতীয়মান হচ্ছে। অন্যদিকে লেবানন সরকারের জন্য হিজবুল্লাহ একদিকে নিরাপত্তার ঝুঁকি, অন্যদিকে ইসরাইলের বিরুদ্ধে কৌশলগত হাতিয়ার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন
banner

এই সংঘাতের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো যুক্তরাষ্ট্র-এর অবস্থান। দীর্ঘদিনের সামরিক ও রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা থাকা সত্ত্বেও, তাদের কাছে এই পরিস্থিতি মূলত একটি সামরিক অভিযান হিসেবেই প্রতিফলিত হচ্ছে, যা বৃহত্তর রাজনৈতিক সমাধানের পথে বাধা তৈরি করছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইতিহাস বারবার প্রমাণ করেছে—রাজনৈতিক সমস্যার কোনো স্থায়ী সামরিক সমাধান নেই। ১৯৮২ সালে লেবাননে ইসরাইলি আগ্রাসনের আগে হিজবুল্লাহর অস্তিত্ব ছিল না এবং ১৯৬৭ সালের দখলের আগে হামাসেরও উদ্ভব হয়নি। অর্থাৎ, শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে কোনো গোষ্ঠীকে দমন করার চেষ্টা শেষ পর্যন্ত নতুন প্রতিরোধ আন্দোলনের জন্ম দেয়।

বর্তমান পরিস্থিতিতে বিভিন্ন পক্ষের স্বার্থও সংঘাত দীর্ঘায়িত করছে। বিশেষ করে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু-এর রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে আলোচনা রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ এবং বিচার প্রক্রিয়া বিলম্বিত করার কৌশল হিসেবে উত্তেজনা বজায় রাখা তার জন্য একটি সুবিধাজনক পথ হতে পারে।

একই সঙ্গে লেবাননের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও বিভাজন স্পষ্ট। কিছু রাজনৈতিক গোষ্ঠীর ইসরাইলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা হিজবুল্লাহর প্রতিক্রিয়াকে আরও তীব্র করে তুলছে, যা সংঘাতকে আরও জটিল করে তুলছে।

অন্যদিকে, ইরানকে ঘিরে একটি ভিন্নধর্মী বিশ্লেষণও সামনে এসেছে। অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন, দেশটি পরমাণু অস্ত্রধারী না হওয়ায় এটি তুলনামূলকভাবে সহজ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। একই যুক্তি লেবাননের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য—যতক্ষণ একটি দেশকে সামরিকভাবে দুর্বল ভাবা হবে, ততক্ষণ সেখানে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা কঠিন।

সাম্প্রতিক বাস্তবতায় দেখা যাচ্ছে, ইসরাইলের শক্তিশালী সামরিক সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের যেসব দেশ নিরাপত্তার জন্য পুরোপুরি যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীল ছিল, তাদের ভূরাজনৈতিক প্রভাবও ধীরে ধীরে কমে আসছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বাইরের শক্তির ওপর নির্ভর করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কৌশল টেকসই নয়। এতে সাময়িকভাবে ‘সশস্ত্র স্থিতিশীলতা’ তৈরি হলেও প্রকৃত শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব হয় না। বরং দীর্ঘমেয়াদে রাজনৈতিক সমাধান এবং আঞ্চলিক সমঝোতাই হতে পারে একমাত্র কার্যকর পথ।

সূত্র: আলজাজিরা

আর/

banner

এ জাতীয় আরো সংবাদ