অনলাইন ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ
জাতীয় সংসদে আলোচনায় অংশ নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম খান অভিযোগ করেছেন, দেশে বর্তমান সরকার পরিচালনায় “আওয়ামী স্টাইল”-এর স্পষ্ট লক্ষণ দেখা যাচ্ছে, যা দেশের জন্য মোটেও ইতিবাচক নয়।
রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় তিনি বলেন, সরকারের কর্মকাণ্ড বিশ্লেষণ করলে মনে হয়, রাষ্ট্র পরিচালনায় এক ধরনের একদলীয় প্রভাব ক্রমেই বাড়ছে। তার ভাষায়, “সব জায়গায় একই ধাঁচের শাসনব্যবস্থা গড়ে উঠছে, যা গণতন্ত্রের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।”
সরকারের বয়স মাত্র দুই মাস হলেও ইতোমধ্যে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে ব্যাপক পরিবর্তনের অভিযোগ তোলেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উপাচার্য পরিবর্তন, জেলা প্রশাসক ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নতুন নিয়োগ এবং সিটি করপোরেশনগুলোতে মেয়র বসানোর ঘটনাকে তিনি দলীয়করণের উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন।
তিনি আরও বলেন, অতীতে যারা বিভিন্ন কারণে প্রশাসনিকভাবে উপেক্ষিত বা ওএসডি ছিলেন, তাদের অনেককে আবারও একই অবস্থায় রাখা হচ্ছে। অন্যদিকে, পূর্ববর্তী সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এখনও গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল থেকে সুবিধা পাচ্ছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
সংসদে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, সরকারি দলের বক্তব্যে দেশের বাস্তব সমস্যা অনুপস্থিত। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং আইনশৃঙ্খলার অবনতির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকর আলোচনা হচ্ছে না।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, ১৯৯৭ সাল থেকে বিভিন্ন আন্দোলন ও নির্বাচনে একসঙ্গে কাজ করার পর হঠাৎ করেই একটি পক্ষকে দোষারোপ করা হচ্ছে। তার দাবি, “নির্বাচনের পরই আমাদেরকে খারাপ হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে, অথচ বাস্তব সমস্যাগুলো আড়াল করা হচ্ছে।”
অতীত রাজনৈতিক ঘটনাও উল্লেখ করেন তিনি। ২০১৩ সালের আন্দোলন, লংমার্চ টু ঢাকা এবং শাপলা চত্বরের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, সে সময় বিরোধী দলগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের অভাব ছিল, যা আন্দোলনের গতি কমিয়ে দেয়।
একই সঙ্গে তিনি গণভোট ও নির্বাচনের প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, জনগণের রায় যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা হলে অনেক সমস্যার সমাধান সম্ভব। তার মতে, দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।
আর/

