আয়কর রিটার্ন না দিলে কঠোর ব্যবস্থা, করদাতাদের জন্য ৫ বড় ঝুঁকি

এনবিআরের কড়াকড়ি—নোটিশ, জরিমানা থেকে পরিষেবা বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা

by Master Fatih
আয়কর রিটার্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক | হুদহুদ নিউজ

আয়কর আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে সরকার। দেশে বিপুলসংখ্যক ই-টিআইএনধারী থাকা সত্ত্বেও অনেকেই আয়কর রিটার্ন জমা দিচ্ছেন না। এ পরিস্থিতিতে কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

বিজ্ঞাপন
banner

এনবিআরের চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান জানিয়েছেন, যাদের ই-টিআইএন রয়েছে কিন্তু রিটার্ন জমা দেননি, তাদের কাছে ডাটাবেজ থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নোটিশ পাঠানো হবে। এরপরও রিটার্ন জমা না দিলে কর পরিদর্শক সরাসরি বাসায় গিয়ে ব্যবস্থা নেবেন।

জানা গেছে, চলতি অর্থবছরের রিটার্ন জমা দেওয়ার সময়সীমা একাধিকবার বাড়ানোর পর গত ৩১ মার্চ শেষ হয়েছে। বর্তমানে দেশে প্রায় ১ কোটি ২৮ লাখ ই-টিআইএনধারী থাকলেও রিটার্ন জমা দিয়েছেন প্রায় সাড়ে ৪২ লাখ করদাতা। অর্থাৎ, ৮০ লাখের বেশি টিআইএনধারী এখনো রিটার্ন দাখিল করেননি।

এনবিআরের কর্মকর্তারা বলছেন, করযোগ্য আয় থাকা সত্ত্বেও বিপুলসংখ্যক ব্যক্তি রিটার্ন দেননি, যা আইন অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

আয়কর আইন অনুযায়ী, ই-টিআইএন থাকার পরও নির্ধারিত সময়ে রিটার্ন জমা না দিলে করদাতাদের কয়েক ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে হতে পারে—

১. জরিমানা আরোপ
আইনের ২৬৬ ধারা অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন না দিলে সর্বশেষ নিরূপিত আয়ের ওপর ধার্যকৃত করের ১০ শতাংশ হারে জরিমানা দিতে হবে (ন্যূনতম ১,০০০ টাকা)। পাশাপাশি বিলম্ব অব্যাহত থাকলে প্রতিদিন ৫০ টাকা করে অতিরিক্ত জরিমানা যোগ হবে।

২. কর ছাড় থেকে বঞ্চিত হওয়া
আইনের ১৭৪ ধারা অনুসারে নির্ধারিত সময়ে রিটার্ন না দিলে বিনিয়োগজনিত কর রেয়াত, কর অবকাশসহ বিভিন্ন সুবিধা বাতিল হতে পারে।

৩. অতিরিক্ত কর পরিশোধের বাধ্যবাধকতা
সময়সীমা পেরিয়ে গেলে প্রতি মাসে আরোপিত করের ওপর ২ শতাংশ হারে অতিরিক্ত কর দিতে হবে।

৪. সরকারি পরিষেবা সংযোগ বিচ্ছিন্নের ঝুঁকি
বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি—এ ধরনের রাষ্ট্রীয় পরিষেবার সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার ক্ষমতা কর কর্তৃপক্ষের রয়েছে, যা প্রয়োগ করা হতে পারে।

৫. বেতন-ভাতা প্রাপ্তিতে জটিলতা
সরকারি ও বেসরকারি চাকরিতে নির্ধারিত আয়ের ক্ষেত্রে রিটার্ন জমা বাধ্যতামূলক। অনেক প্রতিষ্ঠান রিটার্নের কপি না পেলে বেতন-ভাতা স্থগিত বা কর্তনের সিদ্ধান্তও নিতে পারে।

এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, সম্ভাব্য কর ফাঁকি রোধ ও রাজস্ব আদায় বাড়াতে ভবিষ্যতে নজরদারি আরও বাড়ানো হবে। করদাতাদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন জমা দিয়ে আইনি জটিলতা এড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

banner

এ জাতীয় আরো সংবাদ