বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনে চমক—আওয়ামী লীগ নেত্রী সুবর্ণাসহ ৩৬ জনের তালিকা ঘোষণা

মনোনয়ন তালিকায় আওয়ামী লীগ-সম্পৃক্ত নাম ঘিরে আলোচনা, বাদ পড়লেন কনকচাঁপা ও আফরোজা আব্বাসসহ অনেকে

by ABDUR RAHMAN

অনলাইন ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য ৩৬ জন প্রার্থীর চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।

বিজ্ঞাপন
banner

সোমবার রাজধানীর নয়াপল্টনে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এ তালিকা ঘোষণা করেন সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

তবে তালিকা প্রকাশের পরপরই রাজনৈতিক অঙ্গনে সবচেয়ে বেশি আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ-এর এক নেত্রীর অন্তর্ভুক্তিকে ঘিরে। মনোনীতদের তালিকার ২০ নম্বরে রয়েছেন সুবর্ণা শিকদার (ঠাকুর), যিনি স্থানীয় আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে পরিচিত।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের সম্মেলনের পর প্রকাশিত কমিটিতে তার নাম অন্তর্ভুক্ত ছিল। তবে মনোনয়ন পাওয়ার পর সুবর্ণা দাবি করেছেন, তিনি কখনো সক্রিয়ভাবে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না এবং তার অনুমতি ছাড়াই কমিটিতে নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল।

অন্যদিকে, আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাদের একটি অংশ বলছে, সুবর্ণা দলীয় কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন এবং এখন নতুন রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে তা অস্বীকার করছেন। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা।

এদিকে একই তালিকায় আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করা মাধবী মারমার নামও রয়েছে, যা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কাছে নতুন কৌশলগত ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিএনপির প্রকাশিত এই তালিকায় অভিজ্ঞ, ত্যাগী ও তরুণ নেত্রীদের সমন্বয় ঘটানো হয়েছে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে। তালিকায় স্থান পেয়েছেন সেলিমা রহমান, শিরিন সুলতানা, রাশেদা বেগম হীরা, নিপুণ রায় চৌধুরী, সানজিদা ইসলাম তুলি, মানসুরা আক্তারসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেত্রীরা।

তবে মনোনয়ন ফরম কেনা ও আলোচনায় থাকার পরও চূড়ান্ত তালিকায় জায়গা পাননি বেশ কয়েকজন আলোচিত ব্যক্তি। বাদ পড়াদের মধ্যে রয়েছেন জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী কনকচাঁপা, মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস, মডেল মেঘনা আলম, অভিনেত্রী রুকাইয়া জাহান চমক এবং নেত্রী সৈয়দা আসিফা আশরাফী পাপিয়া।

দলীয় সূত্র জানায়, সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য প্রায় এক হাজারের বেশি মনোনয়ন ফরম বিক্রি হয় এবং প্রায় ৯০০ জন প্রার্থী আবেদন জমা দেন। দুই দিনব্যাপী সাক্ষাৎকার শেষে মনোনয়ন বোর্ড ৩৬ জনকে চূড়ান্তভাবে মনোনীত করে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই তালিকায় ভিন্ন পটভূমির ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তি ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে কৌশলগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিতে পারে। বিশেষ করে প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তি নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি করতে পারে।

উল্লেখ্য, সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন আগামী ১২ মে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। জাতীয় সংসদের ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসন দলগুলোর সংসদীয় আসনের অনুপাতে বণ্টন করা হবে। সে হিসেবে বিএনপি জোট পাবে ৩৬টি আসন।

এই মনোনয়ন তালিকা প্রকাশের পর দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে—এটি কি কৌশলগত সিদ্ধান্ত, নাকি দলীয় পুনর্গঠনের অংশ—তা সময়ই বলে দেবে।

আর/

banner

এ জাতীয় আরো সংবাদ