গাজাকে আধুনিক করতে ট্রাম্পের পরিকল্পনা, কি কি থাকছে সেখানে?

by ABDUR RAHMAN

যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকাকে নতুনভাবে গড়ে তুলতে একটি বিস্তৃত পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এই পরিকল্পনার নাম দেওয়া হয়েছে ‘নিউ গাজা’। এতে গাজাকে আধুনিক অবকাঠামো, আবাসন ও শিল্পনির্ভর অঞ্চলে রূপান্তরের কথা বলা হয়েছে।

‘নিউ গাজা’ পরিকল্পনার স্লাইডে দেখা যায়, ভূমধ্যসাগরের উপকূলজুড়ে সারি সারি উঁচু ভবন নির্মাণ করা হবে।

বিজ্ঞাপন
banner

গাজার দক্ষিণাঞ্চলের রাফাহ এলাকায় গড়ে তোলা হবে বড় আকারের আবাসিক প্রকল্প। একটি মানচিত্রে দেখানো হয়, প্রায় ২১ লাখ মানুষের জন্য ধাপে ধাপে নতুন আবাসন, কৃষিজমি ও শিল্পাঞ্চল তৈরি করা হবে।

সুইজারল্যান্ডের দাভোসে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের এক বিশেষ অনুষ্ঠানে এই পরিকল্পনা উপস্থাপন করা হয়। ওই অনুষ্ঠানেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘বোর্ড অব পিস’ নামে একটি নতুন পরিষদের ঘোষণা দেন। এই বোর্ডের কাজ হবে ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে দুই বছর ধরে চলা যুদ্ধের অবসান ঘটানো এবং গাজা পুনর্গঠনের পুরো প্রক্রিয়া তদারক করা।

অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেন, “আমরা গাজায় সফল হতে যাচ্ছি। এটি দেখার মতো একটি বিষয় হবে।” তিনি আরো বলেন, “আমি মনে-প্রাণে একজন রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী। এটি পুরোপুরি জায়গার ব্যাপার। সমুদ্রের ধারের এই অসাধারণ ভূখণ্ড অনেক মানুষের জন্য বড় কিছু হয়ে উঠতে পারে।”

ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার জানান, গাজায় প্রায় ৯০ হাজার টন গোলাবারুদ ব্যবহার করা হয়েছে এবং সেখানে প্রায় ছয় কোটি টন ধ্বংসস্তূপ জমে আছে, যা পরিষ্কার করতে হবে। কুশনার বলেন, “শুরুতে পরিকল্পনা ছিল গাজার একটি অংশ মুক্ত এলাকা করা হবে এবং আরেকটি অংশ থাকবে হামাসের জন্য। পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, পুরো গাজাকেই একসঙ্গে পুনর্গঠন করা হবে।”

তিনি দাবি করেন, ‘হামাস নিরস্ত্রীকরণের চুক্তিতে সই করেছে এবং সেটি বাস্তবায়ন করা হবে।’ তার ভাষায়, “মানুষ আমাদের কাছে প্ল্যান বি জানতে চায়। কিন্তু এর কোনো প্ল্যান বি নেই।” যুক্তরাষ্ট্রের এই মাস্টার প্ল্যানে গাজার উপকূলে একটি পর্যটন এলাকা তৈরির কথা বলা হয়েছে, যেখানে প্রায় ১৮০টি উঁচু ভবন থাকবে। পাশাপাশি থাকবে আবাসিক এলাকা, শিল্প অঞ্চল, তথ্যপ্রযুক্তি কেন্দ্র, আধুনিক কারখানা, পার্ক, কৃষিজমি ও খেলাধুলার সুবিধা।

পরিকল্পনায় মিসর সীমান্তের কাছে একটি নতুন সমুদ্রবন্দর ও বিমানবন্দর নির্মাণের কথাও রয়েছে। একই সঙ্গে এমন একটি বিশেষ সীমান্ত পারাপারের ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে, যেখানে মিসর ও ইসরায়েলের সীমান্ত মিলিত হয়েছে। গাজা পুনর্গঠনের কাজ চারটি ধাপে সম্পন্ন করা হবে। প্রথম ধাপে রাফাহ এলাকা থেকে কাজ শুরু হবে এবং ধীরে ধীরে উত্তরের দিকে গাজা শহরের দিকে এগোনো হবে।

মানচিত্রে মিসর ও ইসরায়েল সীমান্ত বরাবর একটি ফাঁকা এলাকা দেখানো হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, এটি ট্রাম্পের ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনায় উল্লেখ করা নিরাপত্তা অঞ্চল, যেখানে গাজা পুরোপুরি নিরাপদ না হওয়া পর্যন্ত ইসরায়েলি বাহিনী অবস্থান করবে। আরেকটি স্লাইডে বলা হয়, নিউ রাফাহ এলাকায় এক লাখের বেশি স্থায়ী ঘর, ২০০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং ৭৫টি চিকিৎসাকেন্দ্র নির্মাণ করা হবে। যুদ্ধের আগে গাজার দক্ষিণের এই শহরে প্রায় ২ লাখ ৮০ হাজার মানুষ বাস করতো।

ইসরায়েলি হামলা ও পরিকল্পিত ধ্বংসের ফলে রাফাহ শহরটি প্রায় পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে এবং বর্তমানে এটি ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। কুশনার জানান, দুই থেকে তিন বছরের মধ্যেই নিউ রাফাহ নির্মাণকাজ শেষ করা সম্ভব। তিনি বলেন, “ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে।” তার ভাষায়, ‘নিউ গাজা হতে পারে আশার প্রতীক, একটি নতুন গন্তব্য এবং শিল্পনির্ভর একটি অঞ্চল।’

তিনি আরো জানান, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ওয়াশিংটনে একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে বিভিন্ন দেশ গাজা পুনর্গঠনে আর্থিক সহায়তার ঘোষণা দেবে এবং বেসরকারি খাতের জন্য বড় বিনিয়োগের সুযোগ তুলে ধরা হবে। এর আগে গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে ট্রাম্প বলেছিলেন, গাজার ফিলিস্তিনিদের প্রতিবেশী দেশগুলোতে স্থায়ীভাবে সরিয়ে নেওয়া যেতে পারে এবং যুক্তরাষ্ট্র গাজার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে এটিকে মধ্যপ্রাচ্যের একটি পর্যটনকেন্দ্রে রূপান্তর করতে পারে। এই মন্তব্য বিশ্বজুড়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি করেছিল।

কুশনার বলেন, “গাজাকে নিরস্ত্রীকরণের প্রক্রিয়া এখনই শুরু হচ্ছে।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, “নিরাপত্তা ছাড়া সেখানে কেউ বিনিয়োগ করবে না।”

তিনি জানান, গাজার নতুন প্রযুক্তিনির্ভর ফিলিস্তিনি প্রশাসন ন্যাশনাল কমিটি ফর দ্য অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব গাজা (এনসিএজি) নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়ায় হামাসের সঙ্গে কাজ করবে, যাতে চুক্তিতে উল্লেখ করা শর্তগুলো বাস্তবায়ন করে পরবর্তী ধাপে এগোনো যায়। অন্যদিকে হামাস বারবার বলে এসেছে, স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ছাড়া তারা অস্ত্র ত্যাগ করবে না। তবে ট্রাম্প হামাসকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ”হামাসকে অস্ত্র ছাড়তেই হবে। যদি তারা তা না করে, তাহলে সেটাই হবে তাদের শেষ।”

সূত্র: বিবিসি বাংলা

banner

এ জাতীয় আরো সংবাদ