সামাজিক শান্তি ছাড়া অর্থনৈতিক সংকট কাটানো সম্ভব নয়: তথ্যমন্ত্রী

৩০ লাখ কোটি টাকার ঋণের বোঝা, আমদানিনির্ভর অর্থনীতি ও সামাজিক স্থিতিশীলতার গুরুত্ব তুলে ধরে

by ABDUR RAHMAN
তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন

অনলাইন ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ

রাজধানীর উত্তরায় আয়োজিত মাসব্যাপী ইসলামি প্রতিযোগিতা ‘আলোকিত মাহে রমাদান’-এর পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সরকারকে অন্তত দুই বছর সময় দিতে হবে।

বিজ্ঞাপন
banner

বুধবার সকালে উত্তরার একটি কমিউনিটি সেন্টারে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, বিগত সরকারের সময়কার লুটপাট ও অনিয়মের কারণে দেশের অর্থনীতি ভয়াবহ সংকটে পড়েছে। সেই ক্ষত কাটিয়ে অর্থনীতিকে আবার স্বাবলম্বী পর্যায়ে নিতে সময় প্রয়োজন।

তথ্যমন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকার প্রায় ৩০ লাখ কোটি টাকার ঋণের বোঝা উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছে। প্রতিবছর প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ করতে হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি বলেন, দেশের রপ্তানি আয় বছরে প্রায় ৪০ বিলিয়ন ডলার এবং রেমিট্যান্স থেকে আসে ২০ থেকে ২২ বিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে বছরে ৬০ থেকে ৭০ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করতে হয়। ফলে দেশকে ঘাটতি অর্থনীতি ও ঘাটতি বাজেট নিয়েই চলতে হচ্ছে।

জহির উদ্দিন স্বপনের ভাষ্য, অতীতের সরকারের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার দায় এখন জনগণকেই বহন করতে হচ্ছে। এ অবস্থায় অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের সময়টিকে অত্যন্ত জটিল বলে উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, আগামী দুই বছর শান্তিপূর্ণ সামাজিক পরিবেশ বজায় রাখা না গেলে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার সম্ভব হবে না। রাজনৈতিক বিভাজন বা সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টি হলে দেশের স্বাভাবিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ব্যাহত হবে।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, জাতীয় সংসদে বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে গঠনমূলক আলোচনা ও সমালোচনা চলবে। তবে সেই বিতর্ক যেন রাজপথে বিশৃঙ্খলার কারণ না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, সামাজিক স্থিতিশীলতা আগামী দিনের রাজনীতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। প্রতিটি নাগরিককে দেশের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ রক্ষায় ভূমিকা রাখতে হবে।

ধর্মীয় সম্প্রীতির প্রসঙ্গ তুলে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, দেশে কৃত্রিমভাবে ধর্মীয় বিভাজন সৃষ্টি করা হয়েছিল। কোনো কোনো ক্ষেত্রে টুপি, দাড়ি বা মাদ্রাসার শিক্ষার্থী পরিচয়ও সন্দেহের চোখে দেখা হতো।

তার দাবি, পরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়ে ধর্মবিশ্বাসীদের মধ্যে বিরোধ তৈরির চেষ্টা করা হয়েছে। অথচ বাংলাদেশের মানুষের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য হচ্ছে ধর্মীয় সহাবস্থান ও সম্প্রীতি।

তিনি বলেন, ইসলামসহ সব ধর্মের মানুষ একে অপরের বিশ্বাসকে সম্মান করে এসেছে। হাজার বছরের এ সামাজিক ঐক্য নষ্ট করার অপচেষ্টা করা হয়েছিল রাজনৈতিক স্বার্থে।

মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের প্রসঙ্গে তথ্যমন্ত্রী বলেন, তাদের মধ্যে যে প্রতিভা ও যুক্তিবোধ রয়েছে, তা দেশের সামাজিক ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

অনুষ্ঠানে ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি আব্দুল মালেক এবং হাফেজ মাওলানা নাজমুল হাসান কাসেমী।

আর/

banner

এ জাতীয় আরো সংবাদ