আন্তর্জাতিক ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ
ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড ও ওয়েলসের স্থানীয় নির্বাচনে বড় ধরনের বিপর্যয়ের পর ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমারের ওপর চাপ আরও বেড়েছে। লেবার পার্টির ভেতর থেকেই এখন তার পদত্যাগ অথবা দায়িত্ব ছাড়ার সময়সূচি ঘোষণার দাবি উঠছে জোরালোভাবে।
সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, স্টারমারের সরে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন লেবার পার্টির অন্তত ৮১ জন এমপি। সবশেষ এ তালিকায় যোগ দিয়েছেন মোরক্যাম্ব ও লুনসডেলের এমপি লিজি কোলিংগে। তিনি এক বিবৃতিতে বলেন, প্রধানমন্ত্রী দেশের মানুষের আস্থা হারিয়েছেন এবং নতুন নেতৃত্বের কাছে সুশৃঙ্খলভাবে দায়িত্ব হস্তান্তরের সময় এসেছে।
লেবার পার্টির নিয়ম অনুযায়ী, দলের নেতৃত্ব পরিবর্তনের প্রক্রিয়া শুরু করতে সংসদীয় দলের অন্তত ২০ শতাংশ এমপির সমর্থন প্রয়োজন। বর্তমানে সেই সংখ্যা ৮১। যদিও স্টারমারের বিরোধীরা এখনও বিকল্প কোনো একক নেতার পক্ষে একমত হতে পারেননি। সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে সাবেক উপ-প্রধানমন্ত্রী অ্যাঞ্জেলা রায়নার, স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং এবং গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র অ্যান্ডি বার্নহামের নাম আলোচনায় রয়েছে।
এদিকে, সরকারের সেফগার্ডিং মন্ত্রী জেস ফিলিপস পদত্যাগ করেছেন। পদত্যাগপত্রে তিনি বলেন, লেবার সরকারকে সফল দেখতে চাইলেও বর্তমান নেতৃত্বের অধীনে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন তিনি দেখতে পাচ্ছেন না। তাই মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব চালিয়ে যাওয়া তার পক্ষে সম্ভব নয়।
মঙ্গলবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে কিয়ার স্টারমার স্পষ্টভাবে জানান, তিনি এখনই ডাউনিং স্ট্রিট ছাড়ছেন না। তার ভাষায়, লেবার পার্টিতে নেতৃত্বকে চ্যালেঞ্জ করার একটি নির্দিষ্ট সাংগঠনিক প্রক্রিয়া রয়েছে এবং সেটি আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও শুরু হয়নি।
স্থানীয় নির্বাচনে ভরাডুবির পর সোমবার দেওয়া এক ভাষণে স্টারমার নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন, এই মুহূর্তে নেতৃত্ব পরিবর্তন হলে দেশে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা তৈরি হতে পারে। কনজারভেটিভ সরকারের ১৪ বছরে পাঁচজন প্রধানমন্ত্রী পরিবর্তনের উদাহরণ টেনে তিনি দাবি করেন, যুক্তরাজ্য আরেক দফা অনিশ্চয়তা চায় না।
২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে লেবার পার্টিকে বড় জয় এনে দিয়েছিলেন স্টারমার। তবে ক্ষমতায় আসার পর অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ, শিশু দারিদ্র্য হ্রাস এবং জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা (এনএইচএস)-এর দীর্ঘ চিকিৎসা-জট কমানোর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ধীরগতির অভিযোগ উঠেছে তার সরকারের বিরুদ্ধে। বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক স্থানীয় নির্বাচনে ভোটারদের অসন্তোষের বড় কারণ ছিল এসব ইস্যু।
অন্যদিকে, ব্রিটিশ রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন প্রশ্ন উঠেছে—স্টারমার শেষ পর্যন্ত নেতৃত্ব ধরে রাখতে পারবেন কি না। যদিও তিনি এখনও প্রকাশ্যে অনড় অবস্থানে রয়েছেন, তবু দলীয় ভেতরের চাপ দ্রুত বাড়ছে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
সূত্র: বিবিসি, আল-জাজিরা
আর/

