আন্তর্জাতিক ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ
২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে মার্চ—এই তিন মাসে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যকার সীমান্ত সংঘাতে অন্তত ৩৭২ জন আফগান বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ সহায়তা মিশন ইন আফগানিস্তান (ইউএনএএমএ)। একই সময়ে আহত হয়েছেন আরও প্রায় ৩৯৭ জন। নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে।
ইউএনএএমএ প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১১ সালের পর বছরের প্রথম প্রান্তিকে আফগানিস্তানে এত বেশি বেসামরিক হতাহতের ঘটনা আর দেখা যায়নি। সংস্থাটি জানিয়েছে, তথ্যগুলো তিনটি স্বাধীন সূত্র যাচাই করে নিশ্চিত করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, হতাহতের সবচেয়ে বড় ঘটনা ঘটে ১৬ মার্চ কাবুলের একটি মাদক পুনর্বাসন কেন্দ্রে চালানো বিমান হামলায়। ওই হামলায় অন্তত ২৬৯ জন নিহত এবং আরও ১২২ জন আহত হন। হাসপাতালটিতে শুধুমাত্র পুরুষ রোগীদের ভর্তি করা হতো বলে নিহত পুরুষের সংখ্যা বেশি। অনেক মরদেহ আগুনে পুড়ে যাওয়ায় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি বলেও জানায় ইউএনএএমএ।
জাতিসংঘের তথ্যমতে, নিহতদের মধ্যে ১৩ জন নারী, ৪৬ জন শিশু এবং ৩১৩ জন পুরুষ রয়েছেন। শিশুদের মধ্যে ৩১ জন ছেলে ও ১৬ জন মেয়ে ছিল। বিমান হামলা মোট হতাহতের প্রায় ৬৪ শতাংশের জন্য দায়ী বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া সীমান্তপারের গোলাবর্ষণ ও টার্গেটেড কিলিংয়ের ঘটনাও হতাহতের কারণ হিসেবে উঠে এসেছে।

আফগান কর্মকর্তারা অভিযোগ করেছেন, পাকিস্তানের বিমান ও ড্রোন হামলায় পাকতিকা, কুনার, নুরিস্তান ও কাবুলসহ বিভিন্ন অঞ্চলে বেসামরিক ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়েছে। ২৭ এপ্রিল কুনার প্রদেশের আসাদাবাদে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে গোলাবর্ষণে সাতজন নিহত এবং অন্তত ৮৫ জন আহত হওয়ার ঘটনাও উল্লেখ করা হয়েছে।
২০২১ সালে তালেবান পুনরায় ক্ষমতায় ফেরার পর থেকেই দুই দেশের সীমান্তে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। ইসলামাবাদ দাবি করে, আফগান ভূখণ্ডে পাকিস্তান তালেবান (টিটিপি) সদস্যরা আশ্রয় পাচ্ছে। তবে কাবুল প্রশাসন এ অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টা অভিযোগ করেছে, পাকিস্তান আফগান সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করছে।
গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে পরিস্থিতিকে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী “খোলা যুদ্ধ” হিসেবে উল্লেখ করেন। এরপর সীমান্তে সংঘর্ষ আরও তীব্র আকার নেয়। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০০০ সালের পর এ অঞ্চলে এটিই সবচেয়ে ভয়াবহ সীমান্ত সহিংসতার একটি পর্যায়।
ইউএনএএমএ সংঘাতে জড়িত উভয় পক্ষকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে। বিশেষ করে হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বেসামরিক এলাকায় হামলা থেকে বিরত থাকার অনুরোধ করা হয়েছে। অন্যদিকে পাকিস্তান দাবি করেছে, তাদের সামরিক অভিযান কেবল সন্ত্রাসী ও সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করেই পরিচালিত হয়েছে।
চীনের মধ্যস্থতায় এপ্রিলের শুরুতে যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা হওয়ার পর পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলেও পুরোপুরি সহিংসতা থামেনি। সীমান্ত এলাকায় এখনও থেমে থেমে সংঘর্ষ ও গোলাবর্ষণের খবর পাওয়া যাচ্ছে।
সূত্র: এএফপি, ইউএনএএমএ, আল জাজিরা
আর/

