জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান ইসলামবিদ্বেষ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বিভিন্ন দেশের সরকারকে ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষা এবং ঘৃণাত্মক বক্তব্য মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোকে ধর্ম বা বিশ্বাসের ভিত্তিতে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য ও হয়রানি প্রতিরোধে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।
গত শনিবার (১৪ মার্চ) আন্তর্জাতিক ইসলামবিদ্বেষ প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বক্তব্য ও সামাজিকমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত ভিডিও বার্তায় গুতেরেস এসব কথা বলেন।
তিনি জানান, বিশ্বের প্রায় দুই বিলিয়ন মুসলমান বিভিন্ন অঞ্চল ও সংস্কৃতির মানুষ হলেও অনেক ক্ষেত্রেই তারা প্রাতিষ্ঠানিক বৈষম্য, সামাজিক বর্জন এবং পক্ষপাতদুষ্ট নীতির মুখোমুখি হন।
জাতিসংঘ ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, গাজার ওপর ইসরায়েলের দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অভিযানের পর বিশ্বজুড়ে ইসলামবিদ্বেষ, আরববিরোধী মনোভাব এবং ইহুদিবিদ্বেষ বৃদ্ধির প্রবণতা দেখা গেছে। গুতেরেস বলেন, জাতিগত বিদ্বেষ ও বৈষম্যমূলক নীতি মানবাধিকার ও মানবিক মর্যাদাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে এবং অনেক ক্ষেত্রে তা ব্যক্তি বা উপাসনালয়ের ওপর হামলায় রূপ নিচ্ছে।
এদিকে জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল মিগুয়েল অ্যাঞ্জেল মোরাতিনোস বলেন, “বর্তমানে অনেক মুসলমান প্রাতিষ্ঠানিক বৈষম্য ও সামাজিক-অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতার মুখোমুখি হচ্ছেন।”
তিনি অভিযোগ করেন, কিছু রাজনৈতিক নেতার ইসলামবিরোধী বক্তব্য, পক্ষপাতদুষ্ট সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন এবং মুসলিমদের প্রতি অযৌক্তিক সন্দেহ এই পরিস্থিতিকে আরও উসকে দিচ্ছে।
মানবাধিকার সংস্থা কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশন্স (সিএআইআর) জানিয়েছে, ২০২৩ সালে ইসলামবিদ্বেষ ও আরববিরোধী ঘটনার অভিযোগের সংখ্যা ৮ হাজার ৬৫৮-এ পৌঁছেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৭ দশমিক ৪ শতাংশ বেশি। সংস্থাটির দাবি, ১৯৯৬ সালে তথ্য সংরক্ষণ শুরু করার পর এটিই সর্বোচ্চ সংখ্যা।
উল্লেখ্য, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ২০২২ সালে সর্বসম্মতিক্রমে ১৫ মার্চকে আন্তর্জাতিক ইসলামোফোবিয়া মোকাবিলা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। এই দিবসকে সামনে রেখে গুতেরেস সবাইকে ধর্মীয় বিদ্বেষ, বর্ণবাদ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
আর/

