ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ ‘গণতন্ত্রের জয়’, যা বললেন সোনম ওয়াংচুক

২৬ দিনের অনশন শেষে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগকে শান্তি, ধৈর্য ও অধ্যবসায়ের বিজয় বললেন সোনম ওয়াংচুক; এবার আন্দোলনের লক্ষ্য শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার।

by ABDUR RAHMAN
ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ ‘গণতন্ত্রের জয়’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ

ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগকে ‘গণতন্ত্রের জয়’ হিসেবে অভিহিত করেছেন খ্যাতনামা ভারতীয় পরিবেশকর্মী ও শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুক। একই সঙ্গে তিনি আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী, জেন-জি তরুণ প্রজন্ম এবং রাজপথে নেমে আসা সাধারণ নাগরিকদের অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন
banner

শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় হাসপাতালের শয্যা থেকে ‘ভিক্টরি’ বা বিজয়ের চিহ্ন দেখানো নিজের একটি ছবি শেয়ার করেন ওয়াংচুক। ছবির ক্যাপশনে তিনি লেখেন, “সরাসরি রাজপথ থেকে উঠে আসা প্রত্যক্ষ গণতন্ত্র—এটি শান্তি, ধৈর্য এবং অধ্যবসায়ের জয়।”

শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং শিক্ষা ব্যবস্থার সার্বিক সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত রাজনৈতিক সংগঠন ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-এর প্রতি সংহতি জানিয়ে গত ২৮ জুন অনশন শুরু করেছিলেন সোনম ওয়াংচুক। সরকারের পক্ষ থেকে নিট প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে সংসদে আলোচনা, আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা না নেওয়া এবং আত্মহত্যাকারী শিক্ষার্থীদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আশ্বাস পাওয়ার পর গত বৃহস্পতিবার রাতে টানা ২৬ দিনের অনশন ভাঙেন তিনি।

এক্সে দেওয়া পোস্টে এক মাসেরও বেশি সময় ধরে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া জেন-জি তরুণ প্রজন্ম ও সিজেপিকে অভিনন্দন জানান ওয়াংচুক। পাশাপাশি ভয় কাটিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে রাজপথে নেমে আসা সাধারণ নাগরিকদেরও ধন্যবাদ জানান তিনি।

ওয়াংচুক বলেন, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের মধ্য দিয়ে আন্দোলন এখন শুধু ‘জবাবদিহিতার’ পর্যায়ে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থার প্রয়োজনীয় সংস্কারের দিকেই মূল গুরুত্ব দেওয়া হবে।

এদিকে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে সিজেপির তৃতীয় দফার আনুষ্ঠানিক বৈঠকের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে পদত্যাগের ঘোষণা দেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। এক্সে প্রকাশিত দুই পৃষ্ঠার বিবৃতিতে তিনি জানান, গত ১০ দিনের ঘটনাপ্রবাহে তিনি গভীরভাবে মর্মাহত।

ধর্মেন্দ্র প্রধান বলেন, এটি তাঁর ব্যক্তিগত মর্যাদা বা অহংকারের বিষয় নয়। শুরু থেকেই তিনি পুরো ঘটনার নৈতিক দায় স্বীকার করেছেন এবং কখনোই দায়িত্ব এড়িয়ে যাননি। একই সঙ্গে তিনি বলেন, “পরীক্ষা মাফিয়াদের কারণে কোনো মেধাবী শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ যেন নষ্ট না হয় এবং কারও প্রতি অন্যায় না ঘটে—এটি নিশ্চিত করতেই আমি দৃঢ় ছিলাম।”

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের খবর প্রকাশের পর সিজেপি সমর্থকদের মধ্যে উল্লাস দেখা যায়। ‘লং লিভ স্টুডেন্ট পাওয়ার’ স্লোগান দিয়ে তারা এ ঘটনাকে আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে উদযাপন করে। দলটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপও এটিকে ‘প্রকৃত গণতন্ত্রের বিজয়’ বলে মন্তব্য করেন।

সূত্র: এনডিটিভি

আর/

banner

এ জাতীয় আরো সংবাদ