আন্তর্জাতিক ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ
ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে চলমান অনশন আপাতত ভাঙছেন না শিক্ষাবিদ ও পরিবেশকর্মী সোনাম ওয়াংচুক। কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে কিছু আশ্বাস এলেও দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার অবস্থান নিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টিও।
বুধবার (২২ জুলাই) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ওয়াংচুক জানান, ভারতের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডা তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের পরিবারকে সহায়তা এবং শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের বিষয়টি বিবেচনা করার আশ্বাস দিয়েছেন। তবে এই আশ্বাসের পরও তিনি অনশন কর্মসূচি প্রত্যাহার করছেন না।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, শুধু তার ব্যক্তিগত অনুরোধে নয়, দেশের লাখো শিক্ষার্থী ও তরুণদের দাবির প্রতিফলন ঘটিয়ে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নিলেই তিনি অনশন ভাঙার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।
ওয়াংচুক আরও জানান, দেশের ৬৫ জন সংসদ সদস্য তাকে অনশন ভেঙে আন্দোলন চালিয়ে যেতে অনুরোধ করেছেন। তাদের মতে, দেশের বৃহত্তর স্বার্থে তার সুস্থ থাকা প্রয়োজন। তবুও তিনি আন্দোলনের লক্ষ্য পূরণ না হওয়া পর্যন্ত অবস্থান পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেননি।
তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, সংসদ অভিযানে অংশ নেওয়া ছাত্র-যুবকদের বিরুদ্ধে যেন কোনো ধরনের আইনি ব্যবস্থা নেওয়া না হয়। গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে প্রতিবাদকারীদের প্রতি রাষ্ট্র কী ধরনের আচরণ করে, সেটির ওপর বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে ওয়াংচুকের বিবৃতির পর আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া ককরোচ জনতা পার্টি জানিয়েছে, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাদের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। দলটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপ সোনাম ওয়াংচুককে স্বাস্থ্যগত কারণে অনশন ভেঙে আন্দোলনের নেতৃত্ব অব্যাহত রাখার অনুরোধ জানিয়েছেন।
বুধবারও দিল্লির যন্তর মন্তরে শত শত আন্দোলনকারী জড়ো হন। গরম, আর্দ্র আবহাওয়া এবং মাঝেমধ্যে বৃষ্টির মধ্যেও তারা প্ল্যাকার্ড হাতে বিক্ষোভ অব্যাহত রাখেন। বিভিন্ন রাজ্য থেকে সাধারণ মানুষ ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন আন্দোলনকারীদের জন্য খাবার ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী পাঠাচ্ছেন।
অন্যদিকে পরিস্থিতি মোকাবিলায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে ভারত সরকার। পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনী দায়িত্বে থাকা কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর ২০ কোম্পানি সদস্যকে দিল্লিতে আনা হয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে রাজধানীর কয়েকটি মেট্রো স্টেশনও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।
এর মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান তার অবস্থান তুলে ধরলেও আন্দোলনকারীদের দাবি নিয়ে সরকারের অবস্থানে দৃশ্যমান কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
উল্লেখ্য, সর্বভারতীয় ডাক্তারি ভর্তি পরীক্ষা (নিট) প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ এবং এর জেরে অন্তত ২০ জন পরীক্ষার্থীর আত্মহত্যার দায়ে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করছেন আন্দোলনকারীরা। এই দাবিকে কেন্দ্র করেই কয়েক দিন ধরে রাজধানী দিল্লিতে বিক্ষোভ ও অনশন কর্মসূচি চলছে।
সূত্র: বিবিসি বাংলা
আর/

