রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ নিয়ে গুঞ্জন, দেশজুড়ে আলোচনা

স্বাস্থ্যগত কারণ ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে পদত্যাগের গুঞ্জন; বঙ্গভবন সূত্রের বরাতে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ, তবে এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।

by ABDUR RAHMAN
রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ নিয়ে গুঞ্জন

অনলাইন ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ

বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি পদত্যাগের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন এবং বিষয়টি নিয়ে বঙ্গভবন সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দেওয়া হয়েছে। তবে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনো পাওয়া যায়নি।

বিজ্ঞাপন
banner

গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, স্বাস্থ্যগত কারণকে সম্ভাব্য কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে। কিছু প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে। তবে এসব তথ্য সূত্রনির্ভর এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের বিষয়টি আনুষ্ঠানিক ঘোষণার ওপর নির্ভর করছে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর থেকেই রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছিল। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও জামায়াতসহ কয়েকটি রাজনৈতিক পক্ষ বিভিন্ন সময়ে তার অপসারণের দাবি তোলে। তবে অন্তর্বর্তী সরকার সাংবিধানিক ধারাবাহিকতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে রাষ্ট্রপতির পদে কোনো পরিবর্তন আনার পথে এগোয়নি।

এ বিষয়ে বিএনপিও তখন ভিন্ন অবস্থান নেয়। দলটি রাষ্ট্রপতিকে অপসারণের দাবিতে সমর্থন না দিয়ে তাকে বহাল রাখার পক্ষে অবস্থান নেয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে রাষ্ট্রপতির অবস্থান নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, চলতি বছরের ৯ মে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন লন্ডন সফরে যান এবং ১৮ মে দেশে ফেরেন। ওই সফরের সময় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তার একটি ফোনালাপ হয়েছিল বলেও কিছু প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এসব তথ্যের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা তৈরি হয় এবং পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রপতির ভবিষ্যৎ ভূমিকা নিয়ে রাজনৈতিক পর্যায়ে মতবিনিময় শুরু হয় বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

বর্তমানে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে—রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে পরবর্তী সাংবিধানিক প্রক্রিয়া কী হবে। সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার দায়িত্ব পালন করতে পারেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাষ্ট্রপতির পদ পরিবর্তনের বিষয়টি শুধু ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা এবং আগামী দিনের রাজনৈতিক সমীকরণও জড়িত।

এদিকে, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের দাবি ছড়িয়ে পড়ায় তথ্য যাচাইয়ের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন পর্যবেক্ষকরা। অতীতেও রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর ঘটনা ঘটেছে।

banner

এ জাতীয় আরো সংবাদ