অনলাইন ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ
চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাস বন্ধ করে একটি ন্যায়সঙ্গত, বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, ফ্যাসিবাদ কোনো নির্দিষ্ট দলের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়; এটি একটি ‘ভাইরাস’, যা যে কোনো জায়গায় ভর করতে পারে।
সোমবার (১০ আগস্ট) গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া কাজী আজহার আলী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত জনসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। সন্ত্রাসীদের হামলায় নিহত শিবির নেতা সাইফুল্লাহ বারী ও জামায়াত কর্মী সালাউদ্দিনের হত্যার বিচার এবং দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রতিবাদে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
বক্তব্যের একপর্যায়ে বিএনপিকে উদ্দেশ করে শফিকুর রহমান বলেন, ‘আপা যে পথে হেঁটেছেন, এখন আপনারাও সেই পথে হাঁটছেন।’ তিনি বলেন, ওই পথ অত্যাচারীর পালানোর পথ। তার ভাষ্য, এই পথে হাঁটলে মক্কায় যাওয়া যাবে না, দিল্লি যেতে হবে। এ দেশের মানুষ বাংলাদেশের ওপর দিল্লির খবরদারি বা কোনো ধরনের আধিপত্যবাদ মেনে নেবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জামায়াত আমির বলেন, ফ্যাসিবাদ কোনো একটি দলের সঙ্গে স্থায়ীভাবে থাকে না; এটি একটি ভাইরাসের মতো। একটি ফ্যাসিবাদী শক্তিকে সরিয়ে জনগণ আরেকটি ফ্যাসিবাদ দেখতে চায় না। বাংলাদেশের মাটিতে কোনো ধরনের ফ্যাসিবাদকে জায়গা দেওয়া হবে না বলেও তিনি ঘোষণা দেন।
২০২৪ সালের আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, তখন মানুষ রাস্তায় নেমেছিল। প্রয়োজনে ভবিষ্যতেও জনগণকে আবার রাজপথে নামতে হতে পারে। জাতির প্রয়োজনে একবার নয়, শতবার রাস্তায় নামতেও প্রস্তুত বলে মন্তব্য করেন তিনি।
চাঁদাবাজি, দখলবাণিজ্য ও সন্ত্রাসের সমালোচনা করে শফিকুর রহমান বলেন, যারা জনগণের কাছ থেকে চাঁদা নেয়, তারা দুর্বল। তিনি অভিযোগ করেন, সরকার প্রশাসনকে দলীয়করণ করেছে এবং স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার পরিচালনা কমিটিতে দলীয় লোক বসানো হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে নিয়োগসহ বিভিন্ন সুযোগকে কেন্দ্র করে অনিয়মের সুযোগ তৈরি হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
সাইফুল্লাহ বারী ও সালাউদ্দিন হত্যার বিচার দাবি করে জামায়াত আমির প্রশাসনের প্রতি কঠোর হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি প্রশ্ন করেন, আসামিদের নজরদারিতে রাখা হলেও মূল আসামি পলাশকে কেন গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না। প্রশাসনকে দায়িত্বের জায়গা থেকে নিরপেক্ষভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রশাসন কোনো দলের নয়, এটি গোটা জাতির সম্পদ।
গণভোট প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান বলেন, জনগণ গণভোটে যে রায় দিয়েছে, সেটিকে সম্মান করতে হবে। জনতার রায় অগ্রাহ্য বা অপমান করে অতীতে কেউ টিকে থাকতে পারেনি বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার আহ্বান, জনগণের সংস্কার সাধন করে ফ্যাসিবাদের পথ বন্ধ এবং একটি মানবিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের পথ খুলে দিতে হবে। তা করা হলে বিরোধী দল হিসেবে সরকারকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাসও দেন তিনি।
ক্ষমতার স্থায়িত্ব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ক্ষমতা কারও জন্য চিরস্থায়ী নয়। আল্লাহ যাকে ক্ষমতায় বসান, আবার সময় হলে তাকেই ক্ষমতা থেকে সরিয়ে নিতে পারেন।
দেশের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, শিশু, নারী, মা, যুবক ও বয়স্ক—সবাইকে নিরাপদ রাখতে হবে। একই সঙ্গে সব ধর্ম, বর্ণ ও ভাষার মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।
সমাবেশে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা মো. আব্দুল হালিম, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ শাহাবুদ্দিন, বগুড়া জেলা আমির মো. আব্দুল হকসহ দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য দেন। এছাড়া গাইবান্ধার বিভিন্ন আসনের দলীয় নেতারাও সমাবেশে বক্তব্য রাখেন।

