আন্তর্জাতিক ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ
ভারতের নিট (NEET)সহ একাধিক প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস ও শিক্ষা ব্যবস্থায় অনিয়মের অভিযোগে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবিতে দেশজুড়ে বিক্ষোভ আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। রাজধানী দিল্লিতে সংসদ ভবন অভিযানে পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষের পাশাপাশি বেঙ্গালুরু, মুম্বাই, ভুবনেশ্বর, রাঁচি, পূর্ণিয়া, কোটা, সিকার, যোধপুর, ইন্দোর ও গোয়ালিয়রসহ বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ, মশাল মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
সোমবার (২০ জুলাই) দিল্লির যন্তর মন্তরে ‘ককরোজ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) এবং কয়েকটি সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত সংসদ অভিযানে হাজার হাজার শিক্ষার্থী ও তরুণ অংশ নেন। সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশন চলাকালে বিক্ষোভকারীরা সংসদ ভবনের দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে তাদের আটকে দেয়। একপর্যায়ে ব্যারিকেড ভাঙাকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তি ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপসহ অতিরিক্ত পুলিশ ও র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (আরএএফ) মোতায়েন করা হয়।
বিক্ষোভের কারণে মধ্য দিল্লির কনট প্লেস, শাস্ত্রী ভবন, রেল ভবন, কনস্টিটিউশন ক্লাব এবং রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে কয়েকটি মেট্রো স্টেশনের প্রবেশপথ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়, যার ফলে সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তি পোহাতে হয়। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, কর্মসূচির এলাকায় মোবাইল ও ইন্টারনেট পরিষেবাও ব্যাহত করা হয়েছে।
এদিকে, বিক্ষোভের সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কনভয় সংসদ ভবন এলাকা ত্যাগ করেছে বলে ভারতীয় কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে পৃথক কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
পুলিশ জানিয়েছে, সংসদ ভবনের আশপাশে কার্যকর থাকা নিষেধাজ্ঞার মধ্যে অনুমতি ছাড়া এ কর্মসূচি আয়োজন করা হয়েছিল। তাই আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে আন্দোলনকারীদের দাবি, তারা আগেই কর্মসূচির বিষয়ে প্রশাসনকে লিখিতভাবে জানিয়েছিলেন এবং শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বাধা দেওয়া হয়েছে।
দিল্লির বাইরে আন্দোলনের প্রভাবও দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। বেঙ্গালুরুর ফ্রিডম পার্কে শত শত শিক্ষার্থী, তরুণ পেশাজীবী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা বিক্ষোভে অংশ নেন। এক শিক্ষার্থী বলেন, এটি শুধু একটি পরীক্ষা নয়, বরং দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষার আন্দোলন।
মুম্বাইয়ের শিবাজি পার্কে সোনাম ওয়াংচুককে হেফাজতে নেওয়ার প্রতিবাদে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে মহারাষ্ট্রের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে আরও জোরালো আন্দোলনের আহ্বান জানান। পরে অনুমতি ছাড়া সমাবেশ করার অভিযোগে আন্দোলনের আয়োজকদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করে মুম্বাই পুলিশ।
অন্যদিকে, বিহারের পূর্ণিয়ায় কংগ্রেস ও যুব কংগ্রেস মশাল মিছিল করেছে। রাজস্থানের সিকার, কোটা ও যোধপুরেও একই ধরনের কর্মসূচি পালিত হয়। ভুবনেশ্বরে এনএসইউআইয়ের কর্মীরা শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের বাসভবন ঘেরাও করেন। রাঁচি, ইন্দোর ও গোয়ালিয়রেও শিক্ষার্থী, বিরোধী রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা প্রশ্নফাঁস বন্ধ ও জবাবদিহির দাবিতে রাস্তায় নামেন।
এদিকে আন্দোলনকারী সংগঠন সিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব দাবি করেছে, কেন্দ্রীয় সরকার তাদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তবে এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
সূত্র: দ্য ওয়্যার, হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা
আর/

