আন্তর্জাতিক ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ
ভারতের রাজধানী দিল্লিতে শিক্ষার্থীদের চলমান বিক্ষোভের মধ্যেই যন্তর মন্তর ও আশপাশের এলাকায় মোবাইল ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করে দিয়েছে সরকার। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকাল থেকে কার্যকর হওয়া এ নিষেধাজ্ঞার প্রভাব পড়েছে মধ্য দিল্লির বিস্তৃত এলাকায়।
প্রাথমিকভাবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ইন্টারনেট বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হলেও পরে তা বাড়িয়ে মধ্যরাত পর্যন্ত করা হয়। প্রায় দুই কিলোমিটার দূরের মান্ডি হাউস এলাকাতেও এর প্রভাব দেখা গেছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
ইন্টারনেট সেবা বন্ধ থাকায় শুধু আন্দোলনকারীরাই নয়, সাধারণ মানুষ, চাকরিজীবী ও ব্যবসায়ীরাও সমস্যায় পড়েছেন। বিশেষ করে অনলাইন লেনদেন ব্যবস্থা, মোবাইল পেমেন্ট ও ইউপিআই পরিষেবা ব্যাহত হওয়ায় ছোট ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের ভোগান্তি বেড়েছে। অনেকেই বাধ্য হয়ে নগদ অর্থের মাধ্যমে লেনদেন করছেন।
এ ছাড়া ইন্টারনেটভিত্তিক যোগাযোগের পাশাপাশি মোবাইল ফোন কলেও বিঘ্ন ঘটছে বলে অভিযোগ করেছেন অনেক ব্যবহারকারী।
সরকারের পক্ষ থেকে সাধারণত গুজব ছড়ানো, সহিংসতা নিয়ন্ত্রণ বা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামাল দিতে নির্দিষ্ট এলাকায় ইন্টারনেট পরিষেবা সীমিত করার পদক্ষেপ নেওয়া হয়। তবে এবারের নিষেধাজ্ঞার নির্দেশনা জনসমক্ষে প্রকাশ না করায় প্রশ্ন উঠেছে।
ডিজিটাল অধিকার নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠন অভিযোগ করেছে, আগাম কোনো ঘোষণা ছাড়া এভাবে ইন্টারনেট বন্ধ করা নাগরিকদের তথ্যপ্রাপ্তি ও যোগাযোগের অধিকারের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
ভারতের সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো এলাকায় ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করার ক্ষেত্রে এর কারণ ও প্রয়োজনীয়তা প্রকাশ করার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। তবে এবারের ঘটনায় সেই প্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি বলে সমালোচনা উঠেছে।
দিল্লির যন্তর মন্তরে শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে প্রশাসন। এর আগে বিক্ষোভস্থলের দিকে যাওয়া ব্যক্তিদের নিয়ন্ত্রণ, অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন এবং বিভিন্ন বিধিনিষেধ আরোপের খবরও প্রকাশিত হয়েছে।
ভারতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন সময় ইন্টারনেট বন্ধের নজির রয়েছে। তবে ডিজিটাল পরিষেবার ওপর নির্ভরতা বাড়ায় এ ধরনের পদক্ষেপ নিয়ে নাগরিক অধিকারকর্মীদের মধ্যে নিয়মিত বিতর্ক দেখা যায়।
সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

