আন্তর্জাতিক ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ
দিল্লির যন্তর-মন্তরে প্রায় এক মাস ধরে চলা আন্দোলনকে এবার সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। সংগঠনটির পক্ষ থেকে শুক্রবার (২৪ জুলাই) দেশের প্রতিটি শহর ও গ্রামে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ আয়োজনের আহ্বান জানানো হয়েছে। শিক্ষার্থী ছাড়াও সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে এই কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সিজেপির মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা বলেন, আন্দোলনকে শুধু রাজধানীর মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে জাতীয় পর্যায়ে নিয়ে যেতে হবে। তিনি দেশের বিভিন্ন এলাকায় শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালনের আহ্বান জানান এবং স্থানীয় আয়োজকদের আন্দোলনের মূল দাবিগুলো স্পষ্টভাবে তুলে ধরার পরামর্শ দেন।
সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিত দীপ বলেন, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি দীর্ঘদিন ধরে উপেক্ষিত হচ্ছে। তার অভিযোগ, একজন মন্ত্রীকে রক্ষা করার চেয়ে কোটি কোটি শিক্ষার্থীর স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। তিনি সতর্ক করে বলেন, সরকার দাবি না মানলে আন্দোলনের পরিধি আরও বাড়তে পারে এবং ভবিষ্যতে তা বৃহত্তর রাজনৈতিক দাবিতে রূপ নিতে পারে।
এদিকে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠার মধ্যেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা জানিয়েছেন, সরকার আন্দোলনকারীদের সঙ্গে নতুন করে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত। তিনি নিজের দপ্তর অথবা সরকারি বাসভবনে বৈঠকের প্রস্তাব দিলেও সিজেপির পক্ষ থেকে আগেই জানানো হয়েছে, আলোচনা হলে তা বিক্ষোভস্থল অথবা নিরপেক্ষ কোনো স্থানে হওয়া উচিত।
বৃহস্পতিবার বিকেলে দিল্লির সংসদ মার্গ–টলস্টয় লেন এলাকায় বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে পুলিশের দিকে বোতল নিক্ষেপের অভিযোগ ওঠে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সেখানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে দিল্লির মধ্যাঞ্চলে মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখার সময়ও বাড়ানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, নির্ধারিত সময় পর্যন্ত ওই এলাকায় ইন্টারনেট সীমিত রাখা হবে।
অন্যদিকে আন্দোলনের রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে আলোচনা করতে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী বিরোধী দলগুলোর নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের উদ্যোগ নেন। একই সময়ে তার বাসভবনের সামনে অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়।
সমাজকর্মী আন্না হাজারেও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে চিঠি দিয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগ না করার আহ্বান জানিয়েছেন। তার ভাষায়, সহিংসতা কোনো সমস্যার সমাধান নয়; বরং তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস, এএনআই

