আন্তর্জাতিক ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ
যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন এখনো আনুষ্ঠানিক প্রচারপর্বে প্রবেশ করেনি। এমনকি ডেমোক্রেটিক পার্টির সম্ভাব্য প্রার্থীদের অনেকেই নিজেদের প্রার্থিতা ঘোষণা করেননি। তারপরও নির্বাচনের সম্ভাব্য সমীকরণে ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছেন নিউইয়র্কের কংগ্রেসওম্যান আলেক্সান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্টেজ, যিনি রাজনৈতিক অঙ্গনে বেশি পরিচিত ‘এওসি’ নামে।
৩৬ বছর বয়সী এই ডেমোক্র্যাট নেতা এখনো স্পষ্ট করে জানাননি, ২০২৮ সালে তিনি প্রেসিডেন্ট পদে লড়বেন কি না। বরং প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নেওয়া এবং নিউইয়র্ক থেকে সিনেটর চাক শুমারের আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা—দুই সম্ভাবনাই তিনি খোলা রেখেছেন। চলতি আগস্টে দেওয়া বক্তব্যেও এওসি ইঙ্গিত দিয়েছেন, ২০২৮ নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় আসেনি; তার তাৎক্ষণিক রাজনৈতিক মনোযোগ ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের দিকে।
তবে সম্ভাব্য প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে তার নাম যে এখন আর কেবল রাজনৈতিক জল্পনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, তার বড় প্রমাণ পাওয়া গেছে নিউ হ্যাম্পশায়ারের সাম্প্রতিক জরিপে।
নিউ হ্যাম্পশায়ারে এওসি এগিয়ে
জুলাইয়ে ইউনিভার্সিটি অব নিউ হ্যাম্পশায়ারের ‘গ্রানাইট স্টেট পোল’-এ সম্ভাব্য ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট প্রার্থীদের মধ্যে ২২ শতাংশ সমর্থন নিয়ে প্রথম অবস্থানে ছিলেন ওকাসিও-কর্টেজ। তার ঠিক পেছনে ছিলেন সাবেক পরিবহনমন্ত্রী পিট বুটিগিগ, যার সমর্থন ছিল ২১ শতাংশ। জরিপে এওসির সমর্থনের বড় অংশ এসেছে নিজেদের সমাজতন্ত্রী ও প্রগতিশীল হিসেবে পরিচয় দেওয়া ভোটারদের কাছ থেকে। অন্যদিকে বুটিগিগের সমর্থন প্রগতিশীল, উদারপন্থী ও মধ্যপন্থী ভোটারদের মধ্যে তুলনামূলকভাবে বেশি ছড়ানো ছিল।
তবে এই ফলকে ২০২৮ সালের নির্বাচনের পূর্বাভাস হিসেবে দেখা হচ্ছে না। কারণ নির্বাচনের অনেক আগে করা এমন জরিপ মূলত সম্ভাব্য প্রার্থীদের বর্তমান পরিচিতি ও ভোটারদের প্রাথমিক পছন্দের একটি চিত্র তুলে ধরে। প্রার্থী তালিকা, রাজনৈতিক পরিস্থিতি, অর্থনীতি, আন্তর্জাতিক ইস্যু এবং ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফল—সবকিছুই আগামী দুই বছরে সমীকরণ বদলে দিতে পারে।
কীভাবে জাতীয় রাজনীতির পরিচিত মুখ হলেন এওসি
২০১৬ সালে বার্নি স্যান্ডার্সের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনি প্রচারে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করেছিলেন ওকাসিও-কর্টেজ। এর মাত্র দুই বছর পর ২০১৮ সালে নিউইয়র্কের ডেমোক্রেটিক প্রাইমারিতে ১০ মেয়াদের কংগ্রেসম্যান জো ক্রাউলিকে পরাজিত করে জাতীয় রাজনীতিতে বড় চমক তৈরি করেন তিনি।
সেসময় তার পরিচয় ছিল তুলনামূলকভাবে অপরিচিত এক তরুণ প্রার্থী হিসেবে। কিন্তু প্রগতিশীল রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর সমর্থন, তৃণমূলভিত্তিক প্রচার এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের শক্তিকে কাজে লাগিয়ে খুব দ্রুতই তিনি জাতীয় রাজনীতির আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসেন।
কংগ্রেসে যাওয়ার পর অর্থনৈতিক বৈষম্য, শ্রমজীবী মানুষের অধিকার, স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক নিরাপত্তা ও জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর মতো বিষয়কে রাজনৈতিক বক্তব্যের কেন্দ্রে রেখেছেন তিনি। তরুণ ভোটারদের মধ্যে তার জনপ্রিয়তা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিশাল অনুসারী তাকে ডেমোক্রেটিক পার্টির অন্য অনেক নেতার তুলনায় আলাদা রাজনৈতিক শক্তি দিয়েছে।
তার সবচেয়ে বড় শক্তিগুলোর একটি হলো সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক উদ্বেগকে সহজ ভাষায় তুলে ধরার ক্ষমতা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বারটেন্ডার হিসেবে তার অতীত কর্মজীবনও শ্রমজীবী ও মধ্যবিত্ত ভোটারদের একটি অংশের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত সংযোগ তৈরিতে ভূমিকা রেখেছে।
‘পদ নয়, দেশ পরিবর্তন’—এওসির বক্তব্য ঘিরে নতুন জল্পনা
সম্প্রতি শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের রকফেলার মেমোরিয়াল চ্যাপেলে দেওয়া এক বক্তব্যে ওকাসিও-কর্টেজ বলেন, তার রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা কোনো নির্দিষ্ট পদ বা আসন দখল করা নয়; বরং দেশের পরিবর্তন ঘটানো। বক্তব্যটি উপস্থিত শ্রোতাদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে।
এ ধরনের বক্তব্যের সঙ্গে তার সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অবস্থান মিলিয়ে অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, এওসি ভবিষ্যতে জাতীয় পর্যায়ের বড় দায়িত্ব নেওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছেন না। তবে এটিকে সরাসরি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থিতার ঘোষণা হিসেবেও দেখার সুযোগ নেই।
বরং তার বর্তমান কৌশল অনেকটাই অপেক্ষা ও রাজনৈতিক পরিসর বাড়ানোর। তিনি ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন এবং একই সঙ্গে ২০২৮ সালের জন্য নিজের সম্ভাব্য পথগুলো খোলা রাখছেন।
প্রগতিশীল রাজনীতিই শক্তি, আবার সেটিই চ্যালেঞ্জ
এওসির রাজনৈতিক পরিচয়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক তার প্রগতিশীল অবস্থান। অর্থনৈতিক বৈষম্য কমানো, শ্রমিকদের অধিকার, স্বাস্থ্যসেবা এবং সামাজিক সুরক্ষার মতো ইস্যুতে তিনি দীর্ঘদিন ধরে ডেমোক্রেটিক পার্টির বামপন্থী অংশের অন্যতম পরিচিত কণ্ঠ।
গাজা ইস্যুতেও তার অবস্থান তাকে ব্যাপক আলোচনায় রেখেছে। তিনি ইসরাইলের সামরিক কর্মকাণ্ডের তীব্র সমালোচনা করেছেন এবং মার্কিন সামরিক সহায়তা নিয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। এতে প্রগতিশীল ও বামপন্থী ভোটারদের একটি অংশের মধ্যে তার সমর্থন শক্ত হয়েছে। একই সঙ্গে ২০২৪ সালের ডেমোক্রেটিক ন্যাশনাল কনভেনশনে কমলা হ্যারিসের গাজা নীতির প্রশংসা করাসহ কিছু অবস্থানের কারণে বামপন্থী কর্মীদের একাংশ তার সমালোচনাও করেছে।
সাম্প্রতিক সময়ে ‘ওয়োক’ রাজনীতি এবং পুলিশের অর্থায়ন বন্ধের মতো কিছু পুরোনো বামপন্থী দাবিকে অতিরিক্ত উগ্র হিসেবে বর্ণনা করায় এওসির রাজনৈতিক অবস্থান আরও বাস্তববাদী হচ্ছে কি না, তা নিয়েও আলোচনা তৈরি হয়েছে। সমালোচকদের কেউ কেউ এটিকে জাতীয় নির্বাচনের জন্য বৃহত্তর ভোটারগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছানোর কৌশল হিসেবে দেখছেন।
আফ্রিকান-আমেরিকান ভোটারদের সমর্থন হবে বড় পরীক্ষা
ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রেসিডেন্ট মনোনয়ন পেতে হলে শুধু প্রগতিশীল ভোটারদের সমর্থন যথেষ্ট নয়। আফ্রিকান-আমেরিকান ভোটাররা দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনি ভিত্তি হওয়ায় এই জনগোষ্ঠীর মধ্যে গ্রহণযোগ্যতা এওসির জন্য বড় পরীক্ষা হয়ে উঠতে পারে।
প্রগতিশীল আন্দোলনের সমর্থকদের একটি অংশ মনে করে, এওসির জনপ্রিয়তা ও সংগঠনী শক্তি জাতীয় পর্যায়ে বড় রাজনৈতিক জোট গঠনের ভিত্তি তৈরি করতে পারে। কিন্তু সমালোচকদের মতে, প্রগতিশীল সংগঠনগুলো অতীতে কৃষ্ণাঙ্গ শ্রমজীবী ভোটারদের কাছে নিজেদের বার্তা যথেষ্ট কার্যকরভাবে পৌঁছাতে পারেনি।
ফলে প্রেসিডেন্ট পদে লড়তে চাইলে এওসিকে স্বাস্থ্যসেবা, জীবনযাত্রার ব্যয়, চাকরি, মজুরি ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তার মতো সরাসরি জনজীবনসম্পৃক্ত ইস্যুতে আরও বিস্তৃত ভোটারজোট গড়ে তুলতে হবে।
ডেমোক্র্যাটদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বহুমুখীb
২০২৮ সালের ডেমোক্রেটিক মনোনয়ন দৌড় এখনো অনেক দূরের বিষয় হলেও সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকা ইতোমধ্যেই দীর্ঘ। ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউজম, পিট বুটিগিগ, কমলা হ্যারিস, জর্জিয়ার সিনেটর জন অসফ, মার্ক কেলি এবং কংগ্রেসম্যান রো খান্নাসহ একাধিক নেতার নাম আলোচনায় রয়েছে।
রাজনৈতিক বাজারের হিসাবেও নিউজম এখনো শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছেন। সাম্প্রতিক একটি বাজারে নিউজম, জন অসফ ও এওসি সম্ভাব্য ডেমোক্র্যাটিক মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে সামনের সারিতে ছিলেন। তবে এসব বাজার নির্বাচনের ফল বা প্রার্থিতার নির্ভরযোগ্য পূর্বাভাস নয়; এগুলো মূলত অংশগ্রহণকারীদের প্রত্যাশা ও সম্ভাবনার ওপর ভিত্তি করে তৈরি।
অন্যদিকে নিউজম ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের ডেমোক্রেটিক পার্টির জন্য তহবিল সংগ্রহে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। দলীয় নেতাদের উদ্ধৃতি দিয়ে Axios জানিয়েছে, সম্ভাব্য ২০২৮ প্রেসিডেন্ট প্রার্থীদের মধ্যে তিনি অঙ্গরাজ্যভিত্তিক ডেমোক্রেটিক সংগঠনগুলোর জন্য সবচেয়ে বেশি অর্থ সংগ্রহ করেছেন।
২০২৮-এর দৌড়ে নতুন গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন
এদিকে ২০২৮ সালের ডেমোক্রেটিক প্রেসিডেন্ট মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ইতোমধ্যে চূড়ান্ত হয়েছে। ডেমোক্রেটিক ন্যাশনাল কমিটি ১৫ আগস্ট সিদ্ধান্ত নিয়েছে, ২০২৮ সালের দলীয় প্রেসিডেন্ট মনোনয়ন প্রক্রিয়ার প্রথম প্রাইমারি হবে দক্ষিণ ক্যারোলিনায়। এরপর রয়েছে নেভাদা, নিউ হ্যাম্পশায়ার, নিউ মেক্সিকো, মিশিগান ও ভার্জিনিয়া। এর ফলে ঐতিহ্যগতভাবে প্রথমদিকের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্য নিউ হ্যাম্পশায়ানের অবস্থান বদলে যাচ্ছে।
এই পরিবর্তন এওসির মতো সম্ভাব্য প্রার্থীদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ দক্ষিণ ক্যারোলিনায় কৃষ্ণাঙ্গ ভোটারদের প্রভাব অত্যন্ত বেশি। ফলে জাতীয় পর্যায়ে ডেমোক্র্যাটিক জোট গঠনের সক্ষমতা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে অঙ্গরাজ্যটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
প্রেসিডেন্ট নাকি সিনেট—দ্বিধার জায়গাটা এখানেই
ওকাসিও-কর্টেজের সামনে এখন মূলত দুটি পথ। প্রথমটি হলো সরাসরি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দৌড়ে নামা। দ্বিতীয়টি হলো নিউইয়র্কের সিনেট আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জাতীয় পর্যায়ে আরও অভিজ্ঞতা অর্জন করা।
সিনেটের পথে গেলে পররাষ্ট্রনীতি, জাতীয় নিরাপত্তা, আইন প্রণয়ন ও ফেডারেল পর্যায়ের নীতিনির্ধারণে আরও দীর্ঘ অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পাবেন তিনি। অন্যদিকে সরাসরি প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হলে তার তৃণমূল জনপ্রিয়তা ও জাতীয় পরিচিতিকে কাজে লাগিয়ে ডেমোক্রেটিক পার্টির নেতৃত্বে প্রজন্মগত পরিবর্তনের দাবি সামনে আনার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
তবে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে নামলে রিপাবলিকানদের পাশাপাশি ডানপন্থী গণমাধ্যমের তীব্র আক্রমণের মুখেও পড়তে হবে তাকে। দীর্ঘদিন ধরে এওসিকে উগ্র বামপন্থী বা ‘কমিউনিস্ট’ হিসেবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করেছে ডানপন্থী মহল। তার পুরোনো বক্তব্য, রাজনৈতিক অবস্থান ও বিতর্কিত ইস্যু নিয়ে আক্রমণও তখন আরও জোরালো হতে পারে।
সবচেয়ে বড় শক্তি—জনপ্রিয়তা ও সংগঠনী ক্ষমতা
সমর্থকদের চোখে এওসির সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো তার বয়স, যোগাযোগের দক্ষতা, তৃণমূলভিত্তিক সমর্থন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক উপস্থিতি। তিনি ডেমোক্রেটিক পার্টির এমন একটি প্রজন্মের প্রতিনিধিত্ব করেন, যারা প্রচলিত রাজনৈতিক নেতৃত্বের বাইরে গিয়ে অর্থনীতি ও বৈষম্যকে রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে আনতে চায়।
অন্যদিকে তার সমালোচকদের মতে, প্রগতিশীল ভোটারদের বাইরে মধ্যপন্থী ডেমোক্র্যাট, শহরতলির ভোটার এবং বিশেষ করে কৃষ্ণাঙ্গ শ্রমজীবী ভোটারদের মধ্যে তার সমর্থন কতটা বিস্তৃত করা সম্ভব হবে—সেটিই হবে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।
ইতিহাসের বিচারে প্রেসিডেন্ট হওয়ার জন্য দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ার সবসময় বাধ্যতামূলক নয়। বারাক ওবামার উত্থান তার একটি বড় উদাহরণ। তাই এওসির ক্ষেত্রেও ‘আরও অপেক্ষা করে অভিজ্ঞতা অর্জন’ বনাম ‘সঠিক সময়ে সুযোগ কাজে লাগানো’—এই দুই কৌশলের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
এখনো সিদ্ধান্তহীন এওসি, কিন্তু আলোচনার কেন্দ্রে
বর্তমান বাস্তবতা হলো—আলেক্সান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্টেজ এখনো ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেননি। তিনি নিজেই বলেছেন, তার রাজনৈতিক মনোযোগ এখন ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে ঘিরে। একই সঙ্গে প্রেসিডেন্ট পদ কিংবা নিউইয়র্কের সিনেট—কোনো সম্ভাবনাই তিনি পুরোপুরি বাদ দেননি।
কিন্তু তার নাম ইতোমধ্যে সম্ভাব্য ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থীদের আলোচনায় স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছে। নিউ হ্যাম্পশায়ারের জরিপে ২২ শতাংশ সমর্থন তার জাতীয় সম্ভাবনার একটি প্রাথমিক ইঙ্গিত দিয়েছে।
শেষ পর্যন্ত এওসি হোয়াইট হাউসের দৌড়ে নামবেন, নাকি আগে সিনেটে গিয়ে রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার পরিধি বাড়াবেন—তার উত্তর এখনো অজানা। তবে ২০২৮ সালের নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসবে, ডেমোক্রেটিক পার্টির ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের প্রশ্নে এই তরুণ কংগ্রেসওম্যানকে ঘিরে আলোচনা যে আরও তীব্র হবে, সে বিষয়ে সন্দেহ কম।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান, এবিসি নিউজ

