রেকর্ড ভোটার উপস্থিতির মাঝেও হারের ভয়ে ‘কারচুপির’ নাটক সাজাচ্ছে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি

১৯৭৩ সালের পর সর্বোচ্চ ভোট পড়ার রেকর্ড হলেও ক্ষমতা ধরে রাখতে ট্রাম্পের আদলে নির্বাচন চুরির অভিযোগ তোলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দল।

by ABDUR RAHMAN
রেকর্ড ভোটার উপস্থিতির মাঝেও হারের ভয়ে ‘কারচুপির’ নাটক সাজাচ্ছে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ

ইসরায়েলের সাধারণ নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতির সব পুরনো রেকর্ড ভেঙে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি হয়েছে। দেশটির কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় দুপুর ২টা পর্যন্ত ৪৪ দশমিক ৯ শতাংশ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। ১৯৭৩ সাল থেকে ঘণ্টাভিত্তিক হিসাব রাখার পর এটিই এই সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ উপস্থিতি। ১৯৮৮ সালের আগের সব রেকর্ড পেছনে ফেলে ৩০ লাখের বেশি মানুষ ইতোমধ্যে ভোট দিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন
banner

তবে এই রেকর্ড ভাঙা উত্তাপের মাঝেই দেশটির রাজনীতিতে শুরু হয়েছে তীব্র নাটকীয়তা। শীর্ষস্থানীয় ইসরায়েলি গণমাধ্যম চ্যানেল ১২ ও দৈনিক ‘হারেটজ’-এর প্রতিবেদনে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কট্টরপন্থী দল ‘লিকুদ পার্টি’ নির্বাচনে সম্ভাব্য পরাজয় এড়াতে এবং ফলাফলকে বিতর্কিত করতে ‘নির্বাচন চুরির’ আগাম অভিযোগ তোলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুসৃত ‘রিগড ইলেকশন’ বা ভোট কারচুপির দাবির আদলেই লিকুদ পার্টি এই ছক কষেছে। বিশেষ করে আরব অধ্যুষিত শহর ও জনপদগুলোর ভোটকেন্দ্রকে লক্ষ্যবস্তু করে কারচুপির ভিত্তিহীন অভিযোগ তোলার পরিকল্পনা রয়েছে দলটির। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আরব ভোটারদের উপস্থিতি ও ভোটদানের ওপর কড়া নজরদারির নামে লিকুদ ও রিলিজিয়াস জায়োনিজম পার্টি প্রায় দুই হাজার দলীয় কর্মীকে বিভিন্ন কেন্দ্রে মোতায়েন করেছে।

পূর্ণ বোরকা পরিহিত নারী ভোটারদের পরিচয় নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ এবং নারী-পুরুষের ভোটদানের আলাদা সময় নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করে ফলাফলকে প্রশ্নবিদ্ধ করাই তাদের মূল উদ্দেশ্য। দলটির অভ্যন্তরীণ আলোচনায় এমন কৌশল সামনে এলেও নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, দেশজুড়ে বড় ধরনের কোনো ভোট জালিয়াতি বা অনিয়মের প্রমাণ মেলেনি।

কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের ডিরেক্টর জেনারেল ডিন লিভনে স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, বর্তমানে বিদ্যমান আইনি সুরক্ষা ও নিরাপত্তাব্যবস্থা ভোটের সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে পুরোপুরি সক্ষম। এদিকে লিকুদ পার্টির এমন বিতর্কিত পদক্ষেপে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে দেশটির বিভিন্ন নাগরিক অধিকার সংগঠন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, রেকর্ড ভাঙা এই নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর লিকুদ পার্টির বিরোধিতার কারণে ইসরায়েলের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে।

সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল

banner

এ জাতীয় আরো সংবাদ