সৌদি আরবকে বাইরে রেখে পাকিস্তান-তুরস্কসহ চার মুসলিম দেশের ঐতিহাসিক ‘বদর’ প্রতিরক্ষা চুক্তি

প্রতিরক্ষা খাতে স্বনির্ভরতা অর্জন ও পশ্চিমা নির্ভরতা কমাতে কাতারে সই হলো চারপক্ষীয় এই সামরিক সমঝোতা; বৈশ্বিক ভূরাজনীতিতে নতুন সমীকরণের আভাস।

by ABDUR RAHMAN
সৌদি আরবকে বাইরে রেখে পাকিস্তান-তুরস্কসহ চার মুসলিম দেশের ঐতিহাসিক ‘বদর’ প্রতিরক্ষা চুক্তি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ

মধ্যপ্রাচ্য ও বৈশ্বিক ভূরাজনীতিতে এক নতুন মোড় নিয়ে চার প্রভাবশালী মুসলিম দেশের সমন্বয়ে গঠিত হয়েছে ‘বদর প্রতিরক্ষা চুক্তি’। বুধবার কাতারে চার দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঐতিহাসিক সামরিক সমঝোতা স্মারকে সই হয়। তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতির মাধ্যমে চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

বিজ্ঞাপন
banner

চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী দেশগুলো হলো— পাকিস্তান, তুরস্ক, কাতার ও ইন্দোনেশিয়া। পাকিস্তানের পক্ষে প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ, তুরস্কের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়াশার গুলের, কাতারের উপপ্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষা প্রতিমন্ত্রী শেখ সৌদ বিন আবদুর রহমান এবং ইন্দোনেশিয়ার উপপ্রতিরক্ষামন্ত্রী ইউসুফ জওহারি নিজ নিজ দেশের প্রতিনিধিত্ব করেন।

কাতার নিউজ এজেন্সির তথ্যমতে, গভীর কৌশলগত ও ঐতিহাসিক তাৎপর্য বহন করায় চুক্তিটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘বদর’। ভবিষ্যতে আলোচনার মাধ্যমে অন্য বন্ধুভাবাপন্ন দেশগুলোকেও এই জোটে যুক্ত করার সুযোগ রাখা হয়েছে।

বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় থিংকট্যাংক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, রিয়াদ যখন ওয়াশিংটনের সাথে নিজেদের নিরাপত্তা সম্পর্ক জোরদারে ব্যস্ত, তখন এই চার দেশ পশ্চিমা ও মধ্যপ্রাচ্যের ঐতিহ্যবাহী রাজতান্ত্রিক শক্তির ওপর একক নির্ভরতা কমাতে নিজস্ব নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলেছে। রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউটের (রুসি) মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশ্লেষক মাইকেল স্টিফেনস জানান, মুসলিম বিশ্বের নিরাপত্তা কাঠামো এতদিন মূলত উপসাগরীয় দেশ ও মার্কিন সহায়তাকেন্দ্রিক থাকলেও তুরস্ক ও পাকিস্তানের মতো দেশগুলো এখন নিজেদের সামরিক শক্তিতে স্বাধীনভাবে এগোতে চাইছে।

তুরস্কের সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড সোশ্যাল রিসার্চের প্রধান ড. এরদোগান কারাকুশ ও আটলান্টিক কাউন্সিলের ফেলো ড. সিনা আজিজির মতে, আঞ্চলিক ক্ষমতার দ্বন্দ্ব এবং ভিন্ন পররাষ্ট্রনীতির কারণেই সৌদি আরবকে এই জোটে রাখা হয়নি। আঙ্কারার ড্রোন প্রযুক্তি, পাকিস্তানের দীর্ঘ সামরিক অভিজ্ঞতা এবং কাতার ও ইন্দোনেশিয়ার অর্থনৈতিক শক্তির সমন্বয়ে এই জোট যে কোনো আঞ্চলিক চাপ মোকাবিলায় শক্তিশালী ভূমিকা রাখবে। তুরস্কের প্রতিরক্ষা শিল্প প্রেসিডেন্সির প্রধান হালুক গোরগুন এটিকে কেবল কেনাবেচা নয়, বরং প্রযুক্তি ও মানবসম্পদ উন্নয়নের অনন্য সুযোগ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

বিশ্লেষকদের মূল্যায়ন অনুযায়ী, ‘বদর প্রতিরক্ষা চুক্তি’ বৈশ্বিক বহুমাত্রিক ক্ষমতার যুগে মুসলিম বিশ্বের রাজনীতিতে সৌদি আরবের দীর্ঘদিনের একক প্রভাবকে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিল।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

banner

এ জাতীয় আরো সংবাদ