মতামত:
ফেসবুকে অন্যের সমালোচনা ও কমেন্টযুদ্ধে সময় ব্যয় না করে আদর্শের প্রচার, অধ্যয়ন এবং মাঠপর্যায়ের দাওয়াতি কাজে মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিসের কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা জাহিদুজ্জামান। নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি খেলাফতের কর্মীদের নিজেদের কর্মকাণ্ড নিয়ে আত্মসমালোচনা ও সংশোধনের আহ্বান জানান।
মাওলানা জাহিদুজ্জামান প্রশ্ন তোলেন, খেলাফতের কর্মী হিসেবে পরিচয় দেওয়ার পরও তাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খেলাফতের সৌন্দর্য ও প্রয়োজনীয়তা কতটা তুলে ধরা হচ্ছে। ইসলামের ইনসাফের দাওয়াত, খেলাফত নিয়ে সমালোচকদের তাত্ত্বিক প্রশ্নের যৌক্তিক জবাব এবং প্রচলিত রাষ্ট্র ও সমাজব্যবস্থার বিপরীতে বিকল্প প্রস্তাবনা তুলে ধরার প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, তাদের ইতিহাস শহীদদের আত্মত্যাগ ও বীরদের রক্তে গড়ে উঠেছে। কিন্তু সেই ইতিহাস ও ঐতিহ্য নিয়ে গভীর অধ্যয়ন ও চর্চা কতটা হচ্ছে, তা নিয়ে কর্মীদের নিজেদের প্রশ্ন করা প্রয়োজন।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিসের কর্মীদের উদ্দেশে মাওলানা জাহিদুজ্জামান বলেন, মানুষকে বোঝাতে হবে কেন এই সংগঠন আলাদা এবং কেন একজন তরুণ সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হবে।
তার মতে, সংগঠনের মূল ভিত্তি ব্যক্তির প্রচার নয়, আদর্শের প্রচার। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কার্যক্রমে নীতি-আদর্শ নিয়ে মৌলিক লেখালেখি, উদারনৈতিক চিন্তার প্রকাশ এবং যুক্তিসঙ্গত জবাব দেওয়ার মানসিকতার ঘাটতি রয়েছে।
আমীরে মজলিসের কর্মী হিসেবে পরিচয়ের পাশাপাশি তাঁর প্রশিক্ষণ মজলিসের নির্দেশনাগুলো কর্মীদের কাজে কতটা প্রতিফলিত হচ্ছে, সেই প্রশ্নও তোলেন মাওলানা জাহিদুজ্জামান।
তিনি আমীরে মজলিসের একটি শিক্ষার উল্লেখ করে বলেন, কথার চেয়ে কাজের ইসমে আজম বেশি শক্তিশালী। তাঁর মতে, নিয়মিত সাংগঠনিক কর্মসূচি ও মাঠের দাওয়াতি কাজকে পেছনে ফেলে দিনের বড় অংশ ফেসবুকে সমালোচনা ও কমেন্টযুদ্ধে ব্যয় করলে সংগঠনের মূল লক্ষ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
শুধু ছবি, ফটোকার্ড ও ভিডিও প্রকাশের মাধ্যমে দ্বীনের বিজয় সম্ভব নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন। তাঁর মতে, মাঠে মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ ও ধারাবাহিক মেহনতের বিকল্প নেই।
মাওলানা জাহিদুজ্জামান কর্মীদের সংকীর্ণতা ও অহেতুক কাদা ছোড়াছুড়ি বাদ দিয়ে আদর্শিক সৌন্দর্য ও যুক্তির মাধ্যমে মানুষের হৃদয় জয় করার আহ্বান জানান।
একই সঙ্গে ফেসবুকের ভার্চুয়াল জগতের বাইরে এসে মাঠের দাওয়াত, মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ এবং ধারাবাহিক সাংগঠনিক কাজে আত্মনিয়োগের পরামর্শ দেন তিনি।
আবেগ কমিয়ে অধ্যয়ন বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন মাওলানা জাহিদুজ্জামান। তাঁর মতে, নিয়মিত অধ্যয়নের মাধ্যমে যেকোনো প্রশ্নের যৌক্তিক, প্রাজ্ঞ ও শালীন জবাব দেওয়ার সক্ষমতা তৈরি হবে।
পোস্টের শেষে তিনি কর্মীদের নিজেদের সংশোধন, আত্মপ্রচারের মোহ ত্যাগ এবং আদর্শের প্রচারক হওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে কাজের মাধ্যমে সংগঠনের ময়দানকে আবার মুখরিত করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
মাওলানা জাহিদুজ্জামান
কেন্দ্রীয় সভাপতি, বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিস

