নিজেস্ব প্রতিবেদক । হুদহুদ নিউজ
নারায়ণগঞ্জের জামিআ দাওয়াতুল কুরআনে ‘বিশ্বায়নের এই যুগে মদিনার সনদ দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার প্রতিশ্রুতি কতটা প্রাসঙ্গিক?’ বিষয়ে আয়োজিত বার্ষিক বিতর্ক প্রতিযোগিতা ২০২৬-এ মদিনার সনদের পক্ষের দল বিজয়ী হয়েছে।
বুধবার (২৬ আগস্ট ২০২৬) জামিআ দাওয়াতুল কুরআনের ভূঁইগড়, ফতুল্লা, নারায়ণগঞ্জ ক্যাম্পাসের জামিআ মিলনায়তনে এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। জামিআর সাংস্কৃতিক বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত এ প্রতিযোগিতায় দুই দল মদিনার সনদের নীতি ও বর্তমান রাষ্ট্রব্যবস্থার প্রেক্ষাপট নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করে।
প্রতিযোগিতার মূল বিতর্কের বিষয় ছিল—‘বিশ্বায়নের এই যুগে মদিনার সনদ দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার প্রতিশ্রুতি কতটা প্রাসঙ্গিক?’
বিতর্কে মদিনার সনদের পক্ষের ‘প্রাসঙ্গিক’ দল যুক্তি দেয়, বর্তমান বিশ্বায়নের যুগেও মদিনার সনদের নীতি, আদর্শ ও রাষ্ট্র পরিচালনার মৌলিক দিকনির্দেশনা প্রাসঙ্গিক এবং এর ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনা সম্ভব।
অন্যদিকে ‘অপ্রাসঙ্গিক’ দল যুক্তি দেয়, বর্তমান বিশ্বব্যবস্থা, রাষ্ট্র কাঠামো ও রাজনৈতিক বাস্তবতার পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে মদিনার সনদের ভিত্তিতে সরাসরি রাষ্ট্র পরিচালনা করা সম্ভব নয় কিংবা তা বর্তমান বাস্তবতায় আগের মতো প্রাসঙ্গিক নয়।
দুই দলের বিতার্কিকরা তাদের বক্তব্যে বহুত্ববাদী সমাজে সহাবস্থান, ধর্মীয় স্বাধীনতা, সামাজিক শক্তি ও নিরাপত্তা, সংকটকালে জাতীয় ঐক্যসহ বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন। যুক্তি, তথ্য, বিষয় সংজ্ঞায়ন ও দলীয় অবস্থান স্পষ্টকরণের ভিত্তিতে বিচারকরা বিতার্কিকদের বক্তব্য মূল্যায়ন করেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতি ও প্রধান বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন জামিআ দাওয়াতুল কুরআনের প্রতিষ্ঠাতা মুহতামিম ও শাইখুল হাদিস আল্লামা মামুনুর রশীদ (হাফিযাহুল্লাহ)।
এছারাও বিচারকমণ্ডলীতে ছিলেন মুফতী হিফযুর রহমান (হাফি.)—সিনিয়র মুহাদ্দিস ও শিক্ষা সচিব, জামিআ দাওয়াতুল কুরআন, মুফতী দিদারুল ইসলাম (হাফি.)—সিনিয়র মুহাদ্দিস, জামিআ দাওয়াতুল কুরআন, মাওলানা রবিউল ইসলাম (হাফি.)—মুহাদ্দিস, জামিআ দাওয়াতুল কুরআন।
প্রতিযোগিতার পরিচালনায় ছিলেন মাওলানা নাজমুস সাকিব মুআজ (হাফি.), মুহাদ্দিস; মুফতী নাঈম হাসান (হাফি.), উস্তাদ এবং এহসানুল্লাহ জাহাঙ্গীর, উস্তাদ—জামিআ দাওয়াতুল কুরআন।
সার্বিক পরিচালনায় ছিলেন মাওলানা রবিউল ইসলাম (হাফি.), মুহাদ্দিস, জামিআ দাওয়াতুল কুরআন।
এ ছাড়া জামিআর আসাতিযায়ে কিরাম অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
মদিনার সনদের পক্ষের ‘প্রাসঙ্গিক’ দলে অংশ নেন—
১. দিদারুল ইসলাম
২. আরিফুল হক আরিব
৩. ইয়াসিন/আরিফ
৪. মুহা. বদরুর রাদীফ
৫. কাউসার/ওমর ফারুক
অন্যদিকে মদিনার সনদের বিপক্ষের ‘অপ্রাসঙ্গিক’ দলে অংশ নেন—
১. মুহা. হুজাইফা
২. জাবের উদ্দিন
৩. রেদওয়ান আহমদ
৪. মোবারক/জুনাইদ
৫. মুহা. মাহদি হাসান
যুক্তির লড়াইয়ে উঠে আসে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন
আয়োজকদের নির্ধারিত বিতর্কের বিষয়টি মূলত ঐতিহাসিক মদিনার সনদকে বর্তমান রাষ্ট্রব্যবস্থার বাস্তবতার আলোকে পর্যালোচনার সুযোগ তৈরি করে। একদিকে মদিনার সনদের ন্যায়বিচার, সামাজিক সহাবস্থান, বিভিন্ন সম্প্রদায়ের অধিকার ও পারস্পরিক দায়িত্বের মতো নীতিগুলো বর্তমানেও প্রয়োগযোগ্য কি না—তা নিয়ে পক্ষের দল যুক্তি উপস্থাপন করে।
অন্যদিকে বিপক্ষের দল আধুনিক রাষ্ট্রের কাঠামো, বিশ্বায়ন, পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতা ও সমকালীন রাষ্ট্রব্যবস্থার বৈশিষ্ট্য তুলে ধরে মদিনার সনদের সরাসরি প্রয়োগের সীমাবদ্ধতার বিষয়ে যুক্তি দেয়।
শেষ পর্যন্ত বিচারকদের মূল্যায়নে মদিনার সনদের পক্ষের ‘প্রাসঙ্গিক’ দল বিজয়ী হয়। এর মধ্য দিয়ে জামিআ দাওয়াতুল কুরআনের বার্ষিক বিতর্ক প্রতিযোগিতা ২০২৬-এর এবারের আয়োজন শেষ হয়।

