অনলাইন ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ
শহীদ শরিফ ওসমান হাদি বাঙালি মুসলমানের নিজস্ব পরিচয় ও সাংস্কৃতিক সত্তা প্রতিষ্ঠার কথা বলেছিলেন বলেই তাকে টার্গেট করা হয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন আমার দেশ সম্পাদক ও ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিলের (এনইসি) যুগ্ম আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান।
মঙ্গলবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জুলাই শহীদ স্মৃতি ভবন অডিটোরিয়ামে ডাকসু প্রকাশিত ‘শহীদ শরিফ ওসমান হাদির বক্তব্য সংকলন’-এর মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মাহমুদুর রহমান বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠী হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশের মুসলমানদের হাদি ‘লার্জেস্ট কালচারাল মাইনরিটি’ বা বৃহত্তম সাংস্কৃতিক সংখ্যালঘু হিসেবে উল্লেখ করতেন। তার মতে, বাঙালি মুসলমানের মধ্যে একটি গভীর পরিচয় সংকট রয়েছে, যা দেশের পণ্ডিত, ইতিহাসবিদ ও দার্শনিকরা যথাযথভাবে সমাধান করতে পারেননি।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, হাদি বাঙালি মুসলমানের নিজস্ব সত্তা ও পরিচয়ের বিষয়টি গভীরভাবে উপলব্ধি করেছিলেন এবং তা মানুষের সামনে স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে চেয়েছিলেন।
মাহমুদুর রহমান বলেন, বাঙালি মুসলমানের নিজস্ব পরিচয় সুপ্রতিষ্ঠিত করা গেলে বাংলাদেশের স্বাধীনতা দীর্ঘমেয়াদে সংহত ও সুরক্ষিত করা সম্ভব। বহিরাগত আধিপত্য থেকে মুক্ত থাকা এবং দেশের স্বাধীন অস্তিত্ব রক্ষার জন্য নিজেদের পরিচয় ও বাঙালি মুসলমানের সংস্কৃতিকে শক্তিশালীভাবে প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
তিনি বলেন, এই লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্যই হাদি ‘কালচারাল রেভলিউশন’ বা সাংস্কৃতিক বিপ্লবের কথা বলেছিলেন। তার বক্তব্যে, সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়েই বাঙালি জাতি প্রকৃত অর্থে স্বাধীনভাবে নিজেদের অস্তিত্ব নিয়ে বেঁচে থাকার পথ তৈরি করতে পারে।
মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ, সংসদ সদস্য ডা. মারদিয়া মমতাজ, সংসদ সদস্য ডা. মাহমুদা মিতু, ডেইলি ওয়াদার সম্পাদক শফিকুল আলম, এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক জহিরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম, জিএস এস এম ফরহাদ এবং ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবেরসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
আর/

