রাকসু ভবনে হামলা: পাঁচজনের বিরুদ্ধে আম্মারের মামলা, পাল্টা মামলায় আম্মারসহ ৯ জন

অফিসে জোরপূর্বক প্রবেশ, মারধর ও ভাঙচুরের অভিযোগ; একই দিনের ঘটনায় আম্মারসহ রাকসুর ৯ নেতার বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার মামলা

by ABDUR RAHMAN
রাকসু ভবনে হামলায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে আম্মারের মামলা

অনলাইন ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) ভবনে হামলা, মারধর ও ভাঙচুরের অভিযোগে পাঁচজনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন রাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মার। মামলায় জোরপূর্বক অফিসে প্রবেশ, মারধর, হত্যার উদ্দেশ্যে আঘাত, ভাঙচুর ও ক্ষতিসাধনের অভিযোগ আনা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
banner

রাকসুর নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে গত ১০ আগস্ট রাজশাহীর চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের মতিহার আমলী আদালতে মামলাটি করা হয়। মামলার নথি অনুযায়ী, পাঁচজনকে নামীয় আসামি করা হয়েছে। মামলাটির নম্বর ১৫১ সি/২৬ (মতিহার)।

নামীয় আসামিরা হলেন—রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের মো. আনাস, সংস্কৃত বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের মো. মাহমুদ হাসান মাহিন ও মামুন মিয়া, ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের মাহফুজুল ইসলাম নয়ন এবং ইসলামী স্টাডিজ বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের আজহারুল ইসলাম।

মামলার আবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৭ জুলাই দুপুর আনুমানিক ২টা ৪৫ মিনিট থেকে ৩টা ১৫ মিনিটের মধ্যে রাকসু ভবনের দ্বিতীয় তলায় জিএসের ২০২ নম্বর অফিসকক্ষে হামলার ঘটনা ঘটে। সে সময় সালাহউদ্দিন আম্মার দাপ্তরিক কাজে অফিসে অবস্থান করছিলেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, আসামিরা লোহার রড, বাঁশ ও লাঠিসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অফিসের সামনে জড়ো হন। পরে তারা জোরপূর্বক অফিসকক্ষে প্রবেশ করে সালাহউদ্দিন আম্মারের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ ও অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করেন।

এর প্রতিবাদ করলে তাকে কিল-ঘুষি মেরে আহত করা হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। একই সময় অফিসের চেয়ার-টেবিলসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয়। এতে আনুমানিক এক লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলেও মামলার আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়, হামলার প্রতিবাদ করতে গেলে রাকসুর তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক বি এম নাজমুস সাকিব এবং মেহেদী নামের এক শিক্ষার্থীকেও মারধর করা হয়।

একপর্যায়ে আনাসের হাতে থাকা লোহার রড দিয়ে নাজমুস সাকিবকে হত্যার উদ্দেশ্যে আঘাত করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। আঘাত ঠেকাতে গিয়ে তার ডান হাতে রক্তাক্ত জখম হয় বলে মামলার আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, নাজমুস সাকিবকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে মাহমুদ হাসান মাহিন মেহেদীর বাম কানে লাঠি দিয়ে আঘাত করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে মেহেদীও আহত হন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

আদালতে দেওয়া দরখাস্তে আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩২৩, ৩২৬, ৩০৭, ৩৪১, ৩৪৮, ৩২৪ ও ৪২৭ ধারাসহ সংশ্লিষ্ট ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

রাকসুর এজিএস সালমান সাব্বির মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে বলেন, তার জানা মতে আদালত মামলাটি গ্রহণ করেছে এবং এটি বর্তমানে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) তদন্তাধীন। পিবিআই তদন্ত শেষ করার পর পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

মামলার বিষয়ে সালাহউদ্দিন আম্মার বলেন, রাকসুর সম্পাদকদের ওপর হামলার ঘটনায় তাদের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিয়ে মামলা করা হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বিষয়টি ‘কনসার্ন’ হিসেবে রেখে দেওয়া এবং পরবর্তীতে এ নিয়ে সরকার বা সংশ্লিষ্টদের কোনো ধরনের ‘গেম’ করার সুযোগ না রাখার লক্ষ্যেই মামলাটি করা হয়েছে।

তিনি বলেন, তার সম্পাদকদের ওপর হামলা হয়েছে এবং সেই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতেই তাদের সম্পৃক্ত করে মামলা করা হয়েছে।

২৭ জুলাইয়ের রাকসু ভবনের ঘটনাটি শুধু ওই কার্যালয়েই সীমাবদ্ধ থাকেনি। সেদিন প্রক্টর কার্যালয়, রাকসু ভবন ও কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার এলাকায় কয়েক দফায় সংঘর্ষ, মারধর ও পাল্টাপাল্টি উত্তেজনার খবর পাওয়া যায়। বিভিন্ন প্রতিবেদনে ঘটনাটির সূত্রপাত হিসেবে একটি নারী শিক্ষার্থীর অভিযোগকে কেন্দ্র করে প্রক্টর কার্যালয়ে উত্তপ্ত পরিস্থিতির কথা উঠে এসেছে।

ঘটনার পর কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে কয়েকজন শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগও ওঠে রাকসু ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। এ নিয়ে বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন ক্যাম্পাসে ‘মব সন্ত্রাস’ বন্ধ, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিচারের দাবি জানায়।

পরদিন আহত তিন শিক্ষার্থীর মধ্যে দুজনকে একটি আগের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর তথ্যও প্রকাশ্যে আসে। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকে হামলার ঘটনা তদন্তে একটি নিরপেক্ষ কমিটি গঠনের সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

এদিকে রাকসু ভবনে হামলার মামলার বাইরে ২৭ জুলাই কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে এক শিক্ষার্থীকে মারধর ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে সালাহউদ্দিন আম্মারসহ রাকসু ও ছাত্রশিবিরের ৯ নেতার বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা করা হয়েছে।

গত ৩০ জুলাই মাহমুদুল হাসান মাহিনের বাবা এম এস আসাদ উজ জামান বাদী হয়ে রাজশাহীর মতিহার থানা আমলি আদালতে মামলাটি করেন। এতে আম্মার, রাকসুর এজিএস এস এম সালমান সাব্বিরসহ নয়জনের নাম উল্লেখ করা হয় এবং আরও ১৭-১৮ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। আদালত অভিযোগটি তদন্তের জন্য পিবিআইয়ের কাছে পাঠিয়েছে বলে বাদীপক্ষের আইনজীবী জানিয়েছেন।

ওই মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ২৭ জুলাই কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে মাহমুদুল হাসান মাহিনকে একটি দল দেশীয় অস্ত্র, লোহার রড ও বাঁশের লাঠি নিয়ে ঘিরে ধরে মারধর করে। মামলায় সালাহউদ্দিন আম্মারের বিরুদ্ধে লোহার রড দিয়ে মাহিনের মাথা ও কপালে আঘাত করার অভিযোগও আনা হয়েছে।

অর্থাৎ, একই দিনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এখন দুই পক্ষের বিরুদ্ধেই পৃথক মামলা হয়েছে। একদিকে রাকসু ভবনে হামলার অভিযোগে জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারের করা মামলা পিবিআই তদন্ত করছে; অন্যদিকে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে মারধরের অভিযোগে আম্মারসহ রাকসু ও শিবিরের কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে করা মামলাটিও তদন্তের জন্য পিবিআইয়ের কাছে গেছে।

দুই মামলার তদন্ত ও আদালতের পরবর্তী কার্যক্রমের ওপরই এখন নির্ভর করছে ২৭ জুলাইয়ের সংঘর্ষ ও হামলার ঘটনায় প্রকৃত দায় নির্ধারণের পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া। তবে দুই পক্ষের করা অভিযোগই তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যাচাই হওয়ার বিষয়।

banner

এ জাতীয় আরো সংবাদ