অনলাইন ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ
বাবাকে ‘আব্বা’ বলে ডাকার আগেই বাবাকে হারিয়েছিল ছোট্ট ফিরনাস। শহীদ শরীফ ওসমান হাদি যখন ঘাতকের গুলিতে নিহত হন, তখন তার একমাত্র শিশুপুত্রের বয়স ছিল মাত্র আট মাস। ফলে বাবার মুখ থেকে ‘আব্বা’ ডাক শোনা কিংবা নিজে বাবাকে সেই নামে ডাকার সুযোগ হয়নি তার।
সময়ের সঙ্গে সেই শিশু এখন কথা বলতে শিখেছে। আধো আধো বুলিতে বাবাকে ‘আব্বা’ বলে ডাকে ফিরনাস। বাবার ছবি সামনে পেলেই সেটিতে চুমু খায় সে। সম্প্রতি এক পডকাস্টে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের হাদির পরিবারের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলার সময় এসব তথ্য জানান।
আব্দুল্লাহ আল জাবের বলেন, ফিরনাস এখন টুকটাক কথা বলতে পারে এবং বাইরে ঘুরতে খুব পছন্দ করে। তারা হাদির বাসায় গেলে ফিরনাস তাদের হাত ধরে বাইরে যেতে চায়।
তিনি জানান, ফিরনাসের জন্মের পর সহকর্মীরা প্রায়ই ওসমান হাদির বাসায় যেতেন। সেখানে শিশুটিকে নিয়ে তারা খুনসুটি ও আনন্দে সময় কাটাতেন। সেই পুরোনো স্মৃতিগুলো এখনো তাদের মনে পড়ে এবং বিষয়টি তাদের আবেগাপ্লুত করে।
আব্দুল্লাহ আল জাবেরের ভাষ্য অনুযায়ী, ফিরনাস তার বাবাকে ‘বাবা’ নয়, ‘আব্বা’ বলে ডাকে। বাবার ছবি দেখলেও তার প্রতি গভীর মমতা প্রকাশ করে শিশুটি। বাবাকে কাছ থেকে দেখার কিংবা তার স্নেহ পাওয়ার সুযোগ না পেলেও ছবি ও স্মৃতির মধ্য দিয়েই যেন ফিরনাসের কাছে বাবার উপস্থিতি তৈরি হয়েছে।
ফিরনাস নামটির সঙ্গেও রয়েছে ঐতিহাসিক একটি যোগসূত্র। ইসলামী স্বর্ণযুগের প্রখ্যাত মনীষী ইবনে ফিরনাসের নাম অনুসারে শিশুটির নাম রাখা হয়। ইবনে ফিরনাস ছিলেন আন্দালুসিয়ার একজন বহুশাস্ত্রবিদ, উদ্ভাবক, প্রকৌশলী, চিকিৎসক, কবি ও জ্যোতির্বিজ্ঞানী। ‘ফিরনাস’ নামের অর্থ বলিষ্ঠ, সাহসী ও শক্তিশালী।
পরিবারের প্রত্যাশা ছিল, যে সার্বভৌমত্বের স্বপ্ন বুকে ধারণ করে ওসমান হাদি লড়াই করেছিলেন, সেই স্বপ্ন ও আদর্শ তার সন্তানের মধ্যেও বেঁচে থাকবে।
২০২৫ সালের ১৮ ডিসেম্বর ওসমান হাদি মারা যান। তখন আট মাস বয়সী ফিরনাস বাবাকে ‘আব্বা’ বলে ডাকতে শেখেনি। এখন সেই শিশুই আধো আধো স্বরে ‘আব্বা’ বলে ডাকে এবং বাবার ছবিতে চুমু খায়—যা হাদির পরিবার ও সহযোদ্ধাদের কাছে একদিকে বেদনার, অন্যদিকে গভীর আবেগের স্মৃতি হয়ে আছে।

