সৌদির তেল স্থাপনা ও বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, বাড়তে পারে তেলের দাম

ইয়ানবু ও জিজানে হামলার চেষ্টা, কিং খালিদ বিমানঘাঁটি লক্ষ্যবস্তু করার দাবি হুতিদের; সৌদি বলছে ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত, সংঘাতে নতুন মাত্রার শঙ্কা

by ABDUR RAHMAN
সৌদির তেল স্থাপনা ও বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ

ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী আনসার আল্লাহ (হুতি) সৌদি আরবের বিভিন্ন সামরিক ও জ্বালানি স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি করেছে। অন্যদিকে সৌদি আরব জানিয়েছে, ইয়েমেন থেকে ছোড়া একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও একটি ড্রোন তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সফলভাবে ভূপাতিত করেছে। দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

বিজ্ঞাপন
banner

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার ইয়েমেন থেকে ছোড়া দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র লোহিত সাগর উপকূলের গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী ইয়ানবুর তেল শোধনাগার লক্ষ্য করে নিক্ষেপ করা হয়। সৌদির সিভিল ডিফেন্স ইয়ানবু ও সীমান্তবর্তী জিজান অঞ্চলে কয়েক দফা সতর্কতা জারি করে। পরে জানানো হয়, তাৎক্ষণিক বিপদ কেটে গেছে এবং ক্ষেপণাস্ত্রগুলো আকাশেই ধ্বংস করা হয়েছে। এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহতের বা ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

গ্রিসের নিরাপত্তা সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, সৌদি আরবে মোতায়েন করা গ্রিক সেনাদের পরিচালিত যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ক্ষেপণাস্ত্র দুটি ভূপাতিত করে। পরে একই দিনে ইয়ানবু অঞ্চলের আকাশে শনাক্ত হওয়া ইয়েমেন থেকে ছোড়া একটি ড্রোনও গুলি করে নামানো হয়। সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামো সুরক্ষায় ২০২১ সালের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তির আওতায় গ্রিস এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করেছিল।

এদিকে ইয়েমেনের গণমাধ্যম ও প্রেস টিভির খবরে বলা হয়েছে, ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনী সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলের আসির প্রদেশে অবস্থিত কিং খালিদ বিমানঘাঁটিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। একই সঙ্গে জিজান অঞ্চলে সৌদি রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি প্রতিষ্ঠান সৌদি আরামকোর একটি তেল স্থাপনাও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। হামলার পর জিজানের কয়েকটি এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ারও দাবি করা হয়। তবে এসব দাবির বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো নিশ্চিত তথ্য দেয়নি।

হুতিদের দাবি, ইয়েমেনের আল-হুদাইদাহ বন্দর ও কামরান দ্বীপে সৌদি আরবের সাম্প্রতিক বিমান হামলার প্রতিশোধ হিসেবেই এসব অভিযান চালানো হয়েছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের চলমান সামরিক অভিযান ও ইয়েমেনের ওপর অবরোধের জবাব দিতেই তারা সৌদি সামরিক ঘাঁটি, বন্দর ও জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করছে।

ইয়েমেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে সতর্ক করে বলেছে, সৌদি আরব তাদের সামরিক আগ্রাসনের পরিণতির দায় এড়াতে পারবে না। একই সঙ্গে আনসার আল্লাহর রাজনৈতিক ব্যুরোর জ্যেষ্ঠ সদস্য হাজেম আল-আসাদ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “বন্দরের জবাবে বন্দর, বিমানবন্দরের জবাবে বিমানবন্দর—প্রতিটি উত্তেজনার জবাব হবে আরও বড় উত্তেজনার মাধ্যমে।”

এর আগে হুতিরা লোহিত সাগরে সৌদি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার দায় স্বীকার করে এবং সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ-অবরোধ অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেয়। তাদের দাবি, ইয়েমেনের ওপর আরোপিত অবরোধের জবাব হিসেবে লোহিত সাগর হয়ে সৌদি তেল রপ্তানিতে বাধা দেওয়া হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর সৌদি আরব পাইপলাইনের মাধ্যমে লোহিত সাগরের ইয়ানবুসহ বিভিন্ন বন্দরে তেল সরবরাহ বাড়িয়েছিল। এখন সেই রুটও হুতিদের হামলার হুমকির মুখে পড়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। চলতি সপ্তাহে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারে পৌঁছেছে, যা মে মাসের পর সর্বোচ্চ।

সূত্র: রয়টার্স

আর/

banner

এ জাতীয় আরো সংবাদ