পেলেটবিদ্ধ শিক্ষার্থীকে নিয়ে সংবাদ সম্মেলন, মোদির ক্ষমা দাবি রাহুলের

দিল্লির শিক্ষার্থী বিক্ষোভে পেলেট ব্যবহারের অভিযোগ পুনর্ব্যক্ত; প্রধানমন্ত্রী মোদির ক্ষমা ও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি বিরোধীদলীয় নেতার

by ABDUR RAHMAN
মোদির ক্ষমা দাবি রাহুলের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ

দিল্লিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে পেলেট গান ব্যবহারের অভিযোগ তুলে কেন্দ্রীয় সরকারের কঠোর সমালোচনা করেছেন ভারতের বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। শুক্রবার (২৪ জুলাই) সংবাদ সম্মেলনে আহত শিক্ষার্থী সাহিল লোহছাবকে পাশে দাঁড় করিয়ে তিনি দাবি করেন, সরকার ঘটনার প্রকৃত তথ্য অস্বীকার করছে।

বিজ্ঞাপন
banner

সংবাদ সম্মেলনে রাহুল গান্ধী বলেন, সরকার বারবার বলছে পেলেট ব্যবহার করা হয়নি। কিন্তু আহত শিক্ষার্থীদের শরীরের ক্ষতই তার বিপরীত প্রমাণ বহন করছে। তার ভাষায়, “সরকারের মিথ্যা বলা বন্ধ করা উচিত। তারা ভারতের ভবিষ্যতের ওপর গুলি চালিয়েছে।”

১৯ বছর বয়সী সাহিল লোহছাব দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব ওপেন লার্নিং (এসওএল)-এর শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০ জুলাই প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে আয়োজিত বিক্ষোভে জাতীয় পতাকা হাতে অংশ নেওয়ার সময় তিনি পেলেটের আঘাতে গুরুতর আহত হন। রাহুল গান্ধী জানান, সাহিলের ডান চোখে গুরুতর আঘাত লেগেছে এবং তিনি এখনও সেই চোখে দেখতে পাচ্ছেন না।

সাহিলের মা জ্যোতি জানিয়েছেন, পেলেট তার ছেলের ডান চোখসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে বিদ্ধ হয়েছে। পরে তাকে অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেস (এআইআইএমএস) ট্রমা সেন্টারে ভর্তি করা হয় এবং অস্ত্রোপচার করা হয়।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, দিল্লির নাজাফগড়ের বাসিন্দা সাহিল পড়াশোনার পাশাপাশি বাবার সঙ্গে গাড়ি চালিয়ে পরিবারের আয়-রোজগারে সহায়তা করতেন। তার লক্ষ্য ছিল দিল্লি পুলিশে যোগ দেওয়া। তিনি হেড কনস্টেবল নিয়োগ পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়ার পাশাপাশি এসএসসি-সিজিএল পরীক্ষাতেও অংশ নিয়েছিলেন।

রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেন, সাহিলের মতো হাজারো শিক্ষার্থী শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করলেও তাদের ওপর লাঠিচার্জ ও হামলা চালানো হয়েছে। তিনি বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিচার চাওয়াই যদি অপরাধ হয়ে থাকে, তবে সেটি গণতন্ত্রের জন্য উদ্বেগজনক বার্তা।

তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে আহত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে দায়িত্ব থেকে অপসারণের দাবিও পুনর্ব্যক্ত করেন।

অন্যদিকে দিল্লি পুলিশ ও কেন্দ্রীয় সরকার শুরু থেকেই বিক্ষোভে পেলেট গান ব্যবহারের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। তবে আহত কয়েকজন শিক্ষার্থীর চিকিৎসা-সংক্রান্ত নথিতে পেলেটজনিত আঘাতের উল্লেখ সামনে আসার পর বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে।

সূত্র: এনডিটিভি, দ্য প্রিন্ট

banner

এ জাতীয় আরো সংবাদ