তামিলনাড়ুতে গরু জবাইয়ে হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা স্থগিত, স্বস্তিতে মুসলিম সম্প্রদায়

মাদ্রাজ হাইকোর্টের আদেশে স্থগিতাদেশ; বিদ্যমান আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হওয়ায় নিষেধাজ্ঞা পুনর্বিবেচনার ইঙ্গিত সর্বোচ্চ আদালতের

by ABDUR RAHMAN
তামিলনাড়ুতে গরু জবাইয়ে হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা স্থগিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ

ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যে গরু ও বাছুর জবাইয়ের ওপর মাদ্রাজ হাইকোর্টের আরোপিত নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করেছেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। সোমবার (১৩ জুলাই) দেওয়া এ আদেশে সর্বোচ্চ আদালত পর্যবেক্ষণ করেন, হাইকোর্টের রায়ে গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনের প্রয়োজন রয়েছে। ফলে আপাতত তামিলনাড়ুতে বিদ্যমান আইনের আওতায় গরু জবাইয়ের অনুমতি বহাল থাকছে।

বিজ্ঞাপন
banner

অভিনেতা থেকে রাজনীতিতে আসা থালাপতি বিজয়ের নেতৃত্বাধীন তামিলগা ভেট্রি কাজাগাম (টিভিকে) সরকারের করা আপিলের পর এই আদেশ আসে। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে যুক্তি দেওয়া হয়, তামিলনাড়ু পশু সংরক্ষণ আইন, ১৯৫৮ অনুযায়ী নির্দিষ্ট শর্তে বয়স ও কর্মক্ষমতা হারানো গরু জবাই বৈধ। তাই সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপকারী হাইকোর্টের নির্দেশ বিদ্যমান আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

এর আগে গত মে মাসে মাদ্রাজ হাইকোর্টের একটি ডিভিশন বেঞ্চ ১৯৭৬ সালের একটি সরকারি আদেশের ভিত্তিতে পুরো তামিলনাড়ুতে গরু ও বাছুর জবাই নিষিদ্ধ করার নির্দেশ দেয়। আদালত ওই রায়ে সংবিধানের ৪৮ নম্বর অনুচ্ছেদের কথা উল্লেখ করে গো-সম্পদ সংরক্ষণ, দুগ্ধ উৎপাদন বৃদ্ধি এবং গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়নের বিষয়কে গুরুত্ব দেয়। রায়ের লেখক বিচারপতি জি. আর. স্বামীনাথন ভারতীয় সভ্যতায় গরুর ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় গুরুত্বের কথাও উল্লেখ করেন।

তবে এই রায়ের বিরুদ্ধে মুসলিম সম্প্রদায়সহ বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠন আপত্তি জানায়। তাদের দাবি, তামিলনাড়ুতে দীর্ঘদিন ধরে কোরবানির ঈদে স্থানীয় নিয়ম মেনে ব্যক্তিগত আঙিনা বা ধর্মীয় স্থানে পশু কোরবানি দেওয়া হয়ে থাকে। পাশাপাশি রাজ্যের বিভিন্ন হিন্দু মন্দিরেও ঐতিহ্যগতভাবে পশু বলির প্রচলন রয়েছে। তাদের মতে, সব ধরনের পশু জবাই শুধু লাইসেন্সপ্রাপ্ত কসাইখানায় সীমাবদ্ধ করা বাস্তবসম্মত নয়, বিশেষ করে উৎসবের সময় সরকারি কসাইখানাগুলোর সক্ষমতা চাহিদার তুলনায় অনেক কম।

রাজ্য সরকারও আদালতে জানায়, বিদ্যমান পশু সংরক্ষণ আইন ও কসাইখানা-সংক্রান্ত বিধিমালায় কোথায় এবং কীভাবে পশু জবাই করা যাবে, সে বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। তবে সেখানে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞার কোনো বিধান নেই। এই যুক্তির ভিত্তিতেই সুপ্রিম কোর্ট হাইকোর্টের আদেশে স্থগিতাদেশ দেন।

সর্বোচ্চ আদালতের এ সিদ্ধান্তকে রাজ্যের মুসলিম সম্প্রদায় ও সংশ্লিষ্টদের জন্য স্বস্তিদায়ক হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ এর ফলে ঈদুল আজহাসহ অন্যান্য ধর্মীয় উপলক্ষে বিদ্যমান আইন অনুসারে পশু জবাইয়ের সুযোগ বহাল থাকবে।

সূত্র: এনডিটিভি

আর/

banner

এ জাতীয় আরো সংবাদ