ইরানের হামলার ঝুঁকি এড়াতে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটি সরানোর পরামর্শ সাবেক সেন্টকম প্রধানের

উপসাগরীয় ঘাঁটির বদলে ইসরায়েল, মিশর ও লোহিত সাগর উপকূলকে দীর্ঘমেয়াদি সামরিক উপস্থিতির জন্য উপযুক্ত বললেন জেনারেল ফ্রাঙ্ক ম্যাকেঞ্জি

by ABDUR RAHMAN
ইরানের হামলার ঝুঁকি এড়াতে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটি সরানোর পরামর্শ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঝুঁকি বিবেচনায় মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটির অবস্থান পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) সাবেক প্রধান জেনারেল ফ্রাঙ্ক ম্যাকেঞ্জি। তার মতে, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের পরিবর্তে ইসরায়েল, মিশর এবং লোহিত সাগর উপকূলবর্তী এলাকায় দীর্ঘমেয়াদি সামরিক উপস্থিতি গড়ে তোলা কৌশলগতভাবে বেশি কার্যকর হবে।

বিজ্ঞাপন
banner

গত সপ্তাহে জিউইশ ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল সিকিউরিটি অব আমেরিকা (JINSA) আয়োজিত এক ওয়েবিনারে বক্তব্য দিতে গিয়ে ম্যাকেঞ্জি বলেন, কাতারের আল-উদেইদ বিমানঘাঁটিতে সেন্টকমের ফরোয়ার্ড সদর দপ্তর রাখা বর্তমান নিরাপত্তা বাস্তবতায় যৌক্তিক নয়। তার ভাষায়, ইরানের এত কাছাকাছি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সদর দপ্তর রাখা বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে।

২০১৯ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনীর শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করা ম্যাকেঞ্জি জানান, ২০২২ সালেই তিনি ও কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বাইডেন প্রশাসনকে সতর্ক করেছিলেন। তারা সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, কাতার ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে ইরানি হামলার জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করে পশ্চিমাঞ্চলে ঘাঁটি স্থানান্তরের প্রস্তাব দেন। তবে সেই প্রস্তাব প্রশাসন গ্রহণ করেনি বলে দাবি করেন তিনি।

ম্যাকেঞ্জির মতে, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান ঘাঁটি কাঠামো মূলত শীতল যুদ্ধের সময়কার কৌশলের ধারাবাহিকতা। তখন তেলসমৃদ্ধ উপসাগরীয় অঞ্চলে সোভিয়েত প্রভাব ঠেকানো ছিল প্রধান লক্ষ্য। পরে ইরাক ও আফগানিস্তানের যুদ্ধেও একই অবকাঠামো ব্যবহার করা হয়েছে। তবে বর্তমান ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় এ কৌশল আর কার্যকর নয় বলেই মনে করেন তিনি।

তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সংঘাতে ইরান যেভাবে উপসাগরীয় অঞ্চলের মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করেছে, তাতে যুক্তরাষ্ট্রকে ভবিষ্যৎ সামরিক কৌশল নতুনভাবে সাজাতে হবে। বাহরাইনে মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তর, কাতারে সেন্টকমের ঘাঁটি এবং কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের কয়েকটি বিমানঘাঁটি হামলার মুখে পড়েছিল।

স্যাটেলাইট চিত্র দিয়ে ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন ম্যাকেঞ্জি। তার ব্যাখ্যা, কোনো ঘাঁটির হ্যাঙ্গার বা রাডার ক্ষতিগ্রস্ত হলেও রানওয়ে ও ভূগর্ভস্থ জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা সচল থাকলে সেখানে সামরিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া সম্ভব।

তবে তিনি উপসাগরীয় আরব মিত্রদের সঙ্গে সামরিক সম্পর্ক বজায় রাখার পক্ষেও মত দেন। তার প্রস্তাব, এসব ঘাঁটি মূলত জ্বালানি ও লজিস্টিক সহায়তার জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে। অন্যদিকে ইসরায়েল, মিশর এবং সৌদি আরবের লোহিত সাগর উপকূলবর্তী এলাকাকে দীর্ঘমেয়াদি সামরিক ঘাঁটি হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।

ম্যাকেঞ্জির মতে, ইসরায়েলে ঘাঁটি স্থাপন করলে আকাশসীমা ব্যবহার, সামরিক অভিযান পরিচালনা এবং প্রতিরক্ষা অবকাঠামোর ক্ষেত্রে অন্যান্য দেশের তুলনায় কম বিধিনিষেধের মুখোমুখি হতে হবে। এছাড়া উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সুবিধাও পাওয়া যাবে।

সাম্প্রতিক ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনা এবং যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক সামরিক উপস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতির পরিবর্তনের কারণে যুক্তরাষ্ট্র ভবিষ্যতে তার সামরিক ঘাঁটির অবস্থান ও প্রতিরক্ষা কৌশল পুনর্মূল্যায়ন করতে পারে।

সূত্র: মিডল ইস্ট আই

আর/

banner

এ জাতীয় আরো সংবাদ