অনলাইন ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ
ভারতে অবস্থানরত পলাতক আওয়ামী লীগ নেতাদের উসকানিমূলক বক্তব্য ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণার বিষয়টি রাষ্ট্রীয়ভাবে ভারতের সঙ্গে আলোচনা করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করার চেষ্টা হলেও এতে বড় ধরনের অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির সক্ষমতা বা নৈতিক শক্তি আওয়ামী লীগের নেই।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। সাম্প্রতিক সময়ে ভারতে অবস্থানরত আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা, বিশেষ করে জাহাঙ্গীর কবির নানক ও মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়ার বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান জানতে চাইলে উপদেষ্টা বলেন, রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে বিষয়টি আগেও উত্থাপন করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে।
ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, যাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশে মামলা রয়েছে, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে কিংবা আদালতের সাজা হয়েছে, তাদের বিষয়ে শুধু বক্তব্য নয়, বাংলাদেশে প্রত্যর্পণের বিষয়টিও রাষ্ট্রীয়ভাবে নিয়মিতভাবে উত্থাপন করা হচ্ছে। তিনি বলেন, অর্থের জোরে কিছু মানুষকে প্রভাবিত করার চেষ্টা থাকতে পারে, কিন্তু দেশে বড় ধরনের অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করার নৈতিক বা সাংগঠনিক সক্ষমতা আওয়ামী লীগের নেই।
সাম্প্রতিক সময়ে তুরাগ নদীতে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা-কর্মী গ্রেপ্তারের সময় ধাওয়া খেয়ে নদীতে নিখোঁজ হওয়া এবং পরে কয়েকটি মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন দাবি নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। এ বিষয়ে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ঘটনাটি তদন্তাধীন। দেশি-বিদেশি কয়েকটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে ঘটনার কিছু দিক স্পষ্ট হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি বলেন, যে কোনো নাগরিকের জীবন মূল্যবান এবং আইন মেনেই সবাইকে চলতে হবে।
তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড বর্তমানে নিষিদ্ধ থাকলেও দলটি নিষিদ্ধ হয়েছে কি না, সে বিষয়ে আদালতের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে। তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্টদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতি জাদুঘর নিয়েও কথা বলেন ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি জানান, জাদুঘরের কিছু চূড়ান্ত কাজ এবং জনবল নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে রয়েছে। আগামী ৫ আগস্টের আগেই এটি উদ্বোধন করা হবে এবং এ বিষয়ে কোনো ধরনের বিভ্রান্তির সুযোগ নেই।
এ ছাড়া চীন, পাকিস্তান ও তুরস্কের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক, সম্ভাব্য করিডোর ও বন্দর ব্যবস্থাপনা, যুক্তরাষ্ট্র থেকে গম আমদানি, তৈরি পোশাক রপ্তানি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভ্রান্তিকর তথ্য মোকাবিলায় সরকারের পদক্ষেপ নিয়েও বক্তব্য দেন তথ্য উপদেষ্টা। তিনি জানান, ভুয়া তথ্য দ্রুত শনাক্ত ও খণ্ডনে একটি বিশেষ টিম গঠনের কাজ চলছে, যা প্রয়োজনে ২৪ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করবে।
আর/

